রাজ্যের কৈলাসহর বিমানবন্দরটিকে পুনরুজ্জীবিত করা এবং বিমান পরিষেবা পুনরায় চালু করার বিষয় নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহার সভাপতিত্বে আজ এক উচ্চ পর্যায়ের পর্যালোচনা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা কৈলাসহর বিমানবন্দরটির পুনরুজ্জীবনের রূপরেখা নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়।
মুখ্যমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনে আয়োজিত এই বৈঠকে এয়ারপোর্ট অথোরিটি অব ইন্ডিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কার্যনির্বাহী পরিচালক শ্রীজ্ঞান বাত্রা এবং মহারাজা বীরবিক্রম বিমানবন্দরের নবনিযুক্ত পরিচালক কৃষ্ণমোহন নেহরা মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন এবং পর্যালোচনা বৈঠকে মিলিত হন। বৈঠকে কৈলাসহর থেকে বিমান পরিষেবা পুনরায় চালু করার জন্য অমীমাংসিত বিষয়গুলির সমাধান এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ দ্রুত গ্রহণের বিষয় সমূহ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
মূলত যে যে বিষয়গুলোর উপর আজকের বৈঠকে আলোচনা করা হয়, সেগুলি হলো কৈলাসহর থেকে বিমান পরিষেবা পুনরায় চালু করা, রানওয়ের সম্প্রসারণ ও আধুনিক পরিকাঠামো উন্নয়নের পরিকল্পনা গ্রহণ, বড় আকারের বিমান অর্থাৎ এয়ারবাস বিমান চলাচলের সক্ষমতা সৃষ্টি করা ইত্যাদি। আলোচনাকালে মুখ্যমন্ত্রী একটি প্রযুক্তিগত ও পরিচালন দল কৈলাসহর বিমানবন্দরে পাঠানোর জন্য এয়ারপোর্ট অথোরিটি অব ইন্ডিয়ার কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানান, যাতে তারা সরেজমিনে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে জমি-সংক্রান্ত সহ অন্যান্য সমস্যাগুলি পরীক্ষা করতে পারে।
পাশাপাশি তিনি আগরতলা মহারাজা বীরবিক্রম বিমানবন্দরের সাথে কৈলাসহর, কমলপুর ও খোয়াই বিমানবন্দরের তুলনামূলকভাবে বিশ্লেষণ করে একটি সমীক্ষা রিপোর্ট দ্রুত জমা দেওয়ার পরামর্শ দেন। ওই সমীক্ষা প্রতিবেদনে বাণিজ্যিক, কারিগরী ও আর্থিক দিক থেকে সুবিধা ও অসুবিধার বিষয়গুলি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে বলা হয়েছে। এই প্রতিবেদন প্রাপ্তির পর রাজ্য সরকার বিষয়টি কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রক সহ প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট অন্যান্য মন্ত্রকের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।
বিস্তারিত কারিগরী বিষয় পর্যালোচনা করার জন্য শীঘ্রই একটি প্রযুক্তিগত দল সংশ্লিষ্ট এলাকা পরিদর্শন করবে বলে বৈঠকে এয়ারপোর্ট অথোরিটি ইন্ডিয়ার পক্ষ থেকে জানানো হয়। কৈলাসহর বিমানবন্দরটিকে পুনরায় চালু করার বিষয়ে রাজ্য সরকার এবং এয়ারপোর্ট অথোরিটি অব ইন্ডিয়া যৌথভাবে কাজ করতে সম্মত হয়েছে। আজকের পর্যালোচনা বৈঠকে রাজ্য সরকারের পরিবহণ দপ্তরের সচিব সচিব উত্তম কুমার চাকমা, পরিবহণ কমিশনার সুব্রত চৌধুরী এবং আগরতলা বিমানবন্দরের প্রাক্তন পরিচালক কৈলাস চন্দ্র মীনা উপস্থিত ছিলেন। পরিবহণ দপ্তরের পক্ষ থেকে প্রচারিত এক প্রেস রিলিজে এই তথ্য জানানো হয়েছে।



