Sunday, February 22, 2026
বাড়িখবররাজ্যমাতৃভাষার বিকাশের মাধ্যমে একটি জাতির শ্রেষ্ঠত্ব বিকশিত হয়: উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী

মাতৃভাষার বিকাশের মাধ্যমে একটি জাতির শ্রেষ্ঠত্ব বিকশিত হয়: উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী

মাতৃভাষা মাতৃ দুগ্ধসম। মাতৃ দুগ্ধ পান ছাড়া একজন শিশুর যেমন শারীরিক ও মানসিক বিকাশ সঠিক ভাবে হয় না, তেমনি মাতৃভাষার চর্চা ছাড়া শিশুর শিক্ষার সঠিক বিকাশ হয় না। আজ সুকান্ত একাডেমির প্রেক্ষাগৃহে বিদ্যালয় শিক্ষা দপ্তরের উদ্যোগে তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তর এবং ককবরক ও অন্যান্য সংখ্যালঘু ভাষা দপ্তরের সহযোগিতায় আয়োজিত রাজ্যভিত্তিক আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন অনুষ্ঠানে উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী কিশোর বর্মণ একথা বলেন। তিনি বলেন, মাতৃভাষার বিকাশের মাধ্যমে একটি জাতির শ্রেষ্ঠত্ব বিকশিত হয়। তিনি বলেন, মানুষের পরিচয়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্ণায়ক মাতৃভাষা। মাতৃভাষা জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের এক মৌলিক সম্পদ। মা ও মাটির মতোই প্রতিটি মানুষ জন্মসূত্রে এই সম্পদের উত্তরাধিকারী হয়। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি পূর্ব বাংলার বাংলা ভাষী মানুষের রক্তের বিনিময়ে অর্জন করা এই মাতৃভাষা দিবস আজ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্থান করে নিয়েছে। তাই আজকের দিনটি সেই বাংলা ভাষার জন্য আত্মত্যাগীদের স্মরণ করার দিনও।

তিনি বলেন, মাতৃভাষাকে ভালবাসতে হবে। মাতৃভাষার মাধ্যমেই নিজেকে বিশ্বের দরবারে শ্রেষ্ঠ পরিচয়ে পৌঁছে দিতে হবে। তিনি বলেন, আমাদের দেশ ভারতবর্ষ যেমন বহুজাতিক ও বহুভাষিক দেশ তেমনি আমাদের ছোট্ট ত্রিপুরাও বহু জাতি ও বহু ভাষার রাজ্য। বহু ভাষা ও জাতির মানুষ নিয়ে আমাদের দেশের ঐক্যও যেমন সুদৃঢ় রয়েছে তেমনি আমাদের রাজ্যও বহু জাতি ও ভাষার মানুষের মধ্যে ঐক্য বজায় রেখে স্ব স্ব মাতৃভাষাকে মর্যাদার সাথে চর্চা করে যেতে হবে। তিনি বলেন, মাতৃভাষা শুধু মানুষে মানুষে যোগাযোগ রাখার মাধ্যম নয়, আমাদের কৃষ্টি, সংস্কৃতি, ঐতিহ্যকে বহমান রাখার এক গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী শ্রী বর্মণ বর্তমান যুব সমাজকে কৃত্তিম ও প্রযুক্তির বিদ্যার উন্নয়নের সাথে মাতৃভাষাকেও সংযুক্ত করে নিজেদের মাতৃভাষা বিকাশে এবং বিশ্বের মাঝে মাতৃভাষাকে উন্মুক্ত করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ইংরেজী ভাষা নিয়ে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে গিয়ে কেউ যেন মাতৃভাষাকে অবজ্ঞা বা অবহেলা না করেন। মাতৃভাষা ঘরের এক উজ্জ্বল প্রদীপ।

ভাষা দিবসের তাৎপর্য ব্যাখ্যা করে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সম্মানিত অতিথি ২০২৬ পদ্মশ্রী পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষাবিদ নরেশ চন্দ্র দেববর্মা। তিনি বক্তব্যে বলেন, আজকের দিনটি হল মাতৃভাষার জন্য আত্মত্যাগ ও শহীদ হওয়ার দিন। তিনি বক্তব্যে মাতৃভাষার জন্য আত্মবলিদানকারী শহীদদের শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে বলেন, স্ব স্ব মাতৃভাষাকে পুন:জ্জীবিত ও বহমান রাখতে গেলে আমাদের মাতৃভাষার চর্চা বাড়াতে হবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের অধিকর্তা বিম্বিসার ভট্ট াচার্য বলেন, ভাষা শুধু একটি জাতির যোগাযোগের মাধ্যম নয়। ভাষা হল একটি জাতির আত্ম পরিচয়। এছাড়া অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ককবরক ও অন্যান্য সংখ্যালঘু ভাষা দপ্তরের অধিকর্তা আনন্দ হরি জমাতিয়া, বুনিয়াদি শিক্ষা ও মধ্য শিক্ষা পর্ষদ অধিকর্তা রাজীব দত্ত এবং ত্রিপুরা এসসিইআরটি’র অধিকর্তা এল ডার্লং। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন পশ্চিম জেলা শিক্ষা দপ্তরের আধিকারিক কল্যাণ ভদ্র। অনুষ্ঠানে ভাষা দিবস উপলক্ষ্যে পরিবেশিত হয় ‘এক ভারত এক সুর’, নৃত্যনাট্য ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

two × 4 =

- Advertisment -spot_img

জনপ্রিয় খবর

সাম্প্রতিক মন্তব্য