Friday, February 13, 2026
বাড়িখবররাজ্যসুশিক্ষার বিকাশের মাধ্যমে বাল্যবিবাহ এবং পণপ্রথা ও গার্হস্থ্য হিংসা সমাজ থেকে নির্মূল...

সুশিক্ষার বিকাশের মাধ্যমে বাল্যবিবাহ এবং পণপ্রথা ও গার্হস্থ্য হিংসা সমাজ থেকে নির্মূল করা সম্ভব: সমাজকল্যাণ ও সমাজশিক্ষামন্ত্রী

বাল্যবিবাহ ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার মতো পণপ্রথা এবং গার্হস্থ্য হিংসাও আমাদের সমাজের একটি বিরাট সামাজিক ব্যাধি। একমাত্র সুশিক্ষার বিকাশের মাধ্যমেই এই ব্যাধি সমাজ থেকে নির্মূল করা সম্ভব। সমাজকল্যাণ ও সমাজশিক্ষা দপ্তরের উদ্যোগে আজ পোলো টাওয়ার্সের কনফারেন্স হলে অনুষ্ঠিত পণপ্রথা ও গার্হস্থ্য সহিংসতা প্রতিরোধ এবং লিঙ্গ সমতা প্রসারে আইনগত ও সামাজিক ব্যবস্থা বিষয়ক ও নারীর ক্ষমতায়ন সৃষ্টি নিয়ে রাজ্যভিত্তিক কর্মশালার উদ্বোধন করে সমাজকল্যাণ ও সমাজশিক্ষামন্ত্রী টিংকু রায় একথা বলেন। এ বিষয়ে তিনি বলেন, সামাজিকভাবে মানুষের মানসিক পরিবর্তন ঘটাতে না পারলে সক্রিয়ভাবে বাল্যবিবাহ হোক বা পণপ্রথা হোক বা গার্হস্থ্য হিংসাই হোক পুরোপুরিভাবে বন্ধ করা যাবে না। এজন্যই আজকের এই সচেতনতামূলক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। সমাজকল্যাণ ও সমাজশিক্ষা দপ্তর প্রতিবছরই রাজ্যের জেলাগুলিতে এই ধরনের সচেতনতামূলক কর্মসূচির আয়োজন করে থাকে। গত বছরের এপ্রিল থেকে ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত রাজ্যে ১,০৮৮টি সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান করা হয়েছে। এই ধরনের অনুষ্ঠানের মূল লক্ষাই হলো রাজ্য থেকে বাল্যবিবাহ, পণপ্রথা ও গার্হস্থ্য হিংসার নির্মূলীকরণ। তিনি বলেন, পণপ্রথা রাজ্যে আগের থেকে অনেকটাই কমেছে। তাতে বুঝা যায় এই ধরনের সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান সফল হচ্ছে।

সমাজশিক্ষামন্ত্রী টিংকুক রায় গার্হস্থ্য হিংসা বিষয়ে বলেন, পারিবারিক কলহের জন্য বাল্যবিবাহও অনেকাংশে দায়ী বলে মনে করা হয়। এর থেকে সমাজকে সুরক্ষিত করতে গেলে অবশ্যই বাল্য বিবাহ বন্ধ করতে হবে। অন্যদিকে, অভিভাবকদের ছেলেমেয়েদের মধ্যে বিভেদ না করে সমমর্যাদায় তাদের সুশিক্ষিত করে গড়ে তুলতে হবে। পণপ্রথা ও গার্হস্থ্য হিংসা থেকে ত্রিপুরা রাজ্যের মহিলাদের সুরক্ষিত রাখার জন্য বর্তমানে কঠোর আইন যেমন প্রণয়ন করা হয়েছে তেমনি দুঃস্থ মহিলাদের জন্য বিভিন্ন সামাজিক ভাতারও ব্যবস্থা করা হয়েছে। তিনি বলেন, নানাভাবে বঞ্চিত মহিলাদের আর্থিক সুরক্ষা দেওয়ার জন্য এই ভাতা দেওয়া হয়। বর্তমানে রাজ্যের ৮৯,৪৭০ জন মহিলাকে মাসে ২ হাজার টাকা করে সামাজিক সুরক্ষা পেনশন প্রকল্পে ভাতা দেওয়া হচ্ছে। ৭,৫০৩ জন মহিলাকে মুখ্যমন্ত্রী সামাজিক সহায়তা প্রকল্পে, ১৭,০৬৬ জন মহিলাকে জাতীয় বিধবা ভাতা প্রকল্পে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। ত্রিপুরা ইনসেনটিভফর গার্লস চাইল্ড প্রকল্পে ১৬ বছর বয়সী রাজ্যের ৬৭,৯৪৮ জন কন্যা সন্তানকে মাসে ৫০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। রাজ্যে নারীর ক্ষমতায়ন সুনিশ্চিত করতে রাজ্য সরকার সবরকম প্রয়াসই চালিয়ে যাচ্ছে। ভবিষ্যতেও করে যাবে।

অনুষ্ঠানে ত্রিপুরা মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন ঝর্ণা দেববর্মা বলেন, পণপ্রথা ও গার্হস্থ্য হিংসা বর্তমানে রাজ্যে অনেকটাই কমেছে। মহিলা কমিশন এজন্য সারা বছরই রাজ্যের জেলাগুলিতে সচেতনতামূলক কর্মসূচির আয়োজন করছে। আগামী ৭ মার্চ থেকে ১৩ মার্চ পর্যন্ত রাজ্যের প্রতিটি জেলায় মহিলাদের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সমাজকল্যাণ ও সমাজশিক্ষা দপ্তরের অধিকর্তা তপন কুমার দাস। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার জেলাশাসক ডা. বিশাল কুমার। কর্মশালায় লিঙ্গ সমতা ও সামাজিক পরিবর্তন এবং সামাজিক রীতিনীতি, শিক্ষার ভূমিকা, সচেতনতা এবং সমাজভিত্তিক অংশগ্রহণ নিয়ে আলোচনা করেন ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপিকা চন্দ্রিকা বসু মজুমদার। পণপ্রথা নিষেধ আইন, গার্হস্থ্য সহিংসতা সম্পর্কিত আই.পি.সি. ধারা ইত্যাদি বিষয় নিয়ে কর্মশালায় আলোচনা করেন আইন দপ্তরের অবর সচিব দীপান্বিতা গাঙ্গুলি। পণপ্রথা ও লিঙ্গ সমতা সংক্রান্ত বিষয়ে বর্তমান অবস্থা, চ্যালেঞ্জ নিয়ে সরকারি উদ্যোগ কি অবস্থায় আছে সে বিষয়ে কর্মশালায় বিস্তারিত আলোচনা করেন ত্রিপুরা মহিলা কমিশনের আইন বিশেষজ্ঞ দেবস্মিতা চক্রবর্তী। অনুষ্ঠানে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন সমাজকল্যাণ ও সমাজশিক্ষা দপ্তরের অতিরিক্ত অধিকর্তা এল, রাখল। কর্মশালায় রাজ্যের সমাজকল্যাণ দপ্তরের কর্মীগণ, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিগণ এবং বিশিষ্ট সমাজসেবীগণ অংশগ্রহণ করেন।

RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

two × five =

- Advertisment -spot_img

জনপ্রিয় খবর

সাম্প্রতিক মন্তব্য