মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা আজ মহাত্মা গান্ধী মেমোরিয়াল দ্বাদশ শ্রেণি বিদ্যালয়ের প্লাটিনাম জয়ন্তী বর্ষ উদযাপনের দু’দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন। ১৯৫১ সালের ২৬ জানুয়ারি এই বিদ্যালয়ের পথচলা শুরু হয়েছিল।
অনুষ্ঠানে আলোচনায় মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা বলেন, সরকারি সহায়তাপ্রাপ্ত রাজ্যের বিভিন্ন বিদ্যালয়গুলির কিছু কিছু সমস্যা রয়েছে। এই সমস্যাগুলি থেকে বেরিয়ে আসতে একটি নতুন পলিসি তৈরি করার চেষ্টা করছে বর্তমান সরকার। কারণ এই সরকার মনে করে পড়াশোনার মতো এক মৌলিক বিষয়ের ক্ষেত্রে কোনও ধরনের বাধা থাকা উচিত নয়। মুখ্যমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বিদ্যালয়ের বিভিন্ন দাবি দাওয়াগুলিও আগামীদিনে সদর্থক ভূমিকা নিয়ে পূরণ করার আশ্বাস দেন। বক্তব্যে মুখ্যমন্ত্রী এই বিদ্যালয়ের স্মৃতিচারণা করে বলেন, বিদ্যালয়ের সূচনালগ্নে যে সকল ব্যক্তিগণ কঠোরভাবে পরিশ্রম করেছেন তাদেরকে এই ধরনের অনুষ্ঠানে স্মরণ করে শ্রদ্ধাঞ্জলি জানানো উচিত। তাছাড়াও তিনি বিদ্যালয়ের অতীত ও বর্তমান নিয়ে সবিস্তারে আলোচনা করেন। মুখ্যমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে আরও বলেন, আজ সকালে পার্সোনালাইজড অ্যাডাপটিভ লার্নিং ল্যাব ২১০টি বিদ্যালয়ের জন্য উদ্বোধন করা হয়েছে। যা রাজ্যের শিক্ষার ক্ষেত্রে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে বলে আশা করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, গুণগত শিক্ষায় যেন রাজ্যের ছাত্রছাত্রীরা শিক্ষিত হয় তারজন্য বর্তমান সরকার প্রথম থেকেই সচেষ্ট রয়েছে। জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০-এর সামগ্রিক বাস্তবায়নের মাধ্যমে এই লক্ষ্যে সফল হওয়া সম্ভব। রাজ্যের শিক্ষার পরিকাঠামো উন্নয়নে গৃহীত রাজ্য সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপগুলি সম্পর্কে বলতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী নিপুণ ত্রিপুরা, বিদ্যাসেতু মডিউল, মিশন মুকুল, সুপার ৩০ প্রভৃতি কর্মসূচির উল্লেখ করেন। তাছাড়া নবম শ্রেণির ছাত্রীদের বাইসাইকেল প্রদান, ১৩৮৪টি বিদ্যালয়ে আই.সি.টি. চালু, বিদ্যালয়ে বৃত্তিমূলক শিক্ষা চালু, ১২১০ স্কুলে স্মার্ট ক্লাস এবং ৩৬৭ বিদ্যালয়ে টিস্কারিং ল্যাব চালুর কথাও উল্লেখ করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, রাজ্যকে শিক্ষার হাব বানানোর প্রচেষ্টায় এগিয়ে চলেছে বর্তমান সরকার। এরই লক্ষ্যে বর্তমানে রাজ্যে ইতিমধ্যেই চালু করা হয়েছে কেন্দ্রীয় এবং রাজ্যস্তরীয় বিশ্ববিদ্যালয়, আইন বিশ্ববিদ্যালয়, ফরেন্সিক বিশ্ববিদ্যালয়, ওপেন ইউনিভার্সিটি, মেডিক্যালের সিট বাড়ানো, লক্ষ্য প্রকল্প, স্কলারশিপ ও মেধা পুরস্কার প্রদান করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক টিটু সাহা। মুখ্যমন্ত্রী সহ অন্যান্য অতিথিগণ এদিন অনুষ্ঠানে একটি স্মরণিকার আবরণও উন্মোচন করেন। অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আগরতলা পুরনিগমের পূর্ব জোনের চেয়ারম্যান সুখময় সাহা, কর্পোরেটর অঞ্জনা দাস, প্রাক্তন সাংসদ রেবতী ত্রিপুরা, স্কুল ম্যানেজমেন্ট কমিটির সভাপতি ড. জওহরলাল সাহা এবং সচিব দেবাশিস রায়।



