Saturday, January 31, 2026
বাড়িখবররাজ্যসংবিধান আমাদের অধিকার লিপিবদ্ধকারী এক দলিল এবং কর্মক্ষেত্রে পথ প্রদর্শক

সংবিধান আমাদের অধিকার লিপিবদ্ধকারী এক দলিল এবং কর্মক্ষেত্রে পথ প্রদর্শক

৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবসের মূল অনুষ্ঠানটি আজ আয়োজিত হয় আসাম রাইফেলস ময়দানে। সকাল ৯টায় আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা করেন রাজ্যপাল ইন্দ্রসেনা রেড্ডি নান্নু। প্রজাতন্ত্র দিবসের এই মূল অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন রাজ্যসভার সাংসদ রাজীব ভট্টাচার্য, মুখ্যসচিব জে.কে. সিনহা, রাজ্য পুলিশের মহানির্দেশক অনুরাগ সহ রাজ্য প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের পদস্থ আধিকারিকগণ।

অনুষ্ঠানে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের পর ১৬টি প্ল্যাটুন কুচকাওয়াজের মাধ্যমে রাজ্যপালকে অভিবাদন জানান। অনুষ্ঠানে ভাষণ রাখতে গিয়ে রাজ্যপাল ইন্দ্রসেনা রেডিড নায়ু বলেন, ১৯৫০ সালে এই দিনে আমরা, ভারতবাসীরা নিজেদেরকে সংবিধান উপহার দিয়েছিলাম, যার মাধ্যমে সমস্ত নাগরিকদের জন্য ন্যায়, সাম্য ও স্বাধীনতা নিশ্চিত হয়েছে। সেই সাথে আমরা অঙ্গীকার নিয়েছিলাম আমাদের মহান রাষ্ট্রের একতা ও অখন্ডতাকে দৃঢ়ভাবে তুলে ধরার। সংবিধান হচ্ছে আমাদের অধিকার লিপিবদ্ধকারী এক দলিল এবং কর্মক্ষেত্রে এক পথ প্রদর্শক। সংবিধান এমন একটি দলিল যার জন্য আমাদের গর্ববোধ করা উচিৎ এবং তার অস্তিত্বকে ধরে রাখার জন্য সচেষ্ট থাকা উচিৎ। ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে যেসব মহান নারী-পুরুষ নিজেদের জীবন বলিদান দিয়েছিলেন তাঁদের সারণ করার দিনও এই দিবস।

বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাজ্যপাল বলেন, ত্রিপুরাতে জনসংখ্যার ৭০ শতাংশ লোক সরাসরি বা পরোক্ষভাবে কৃষিকাজের উপর নির্ভরশীল। রাজ্যের কৃষকদের আয় দ্বিগুণ করার লক্ষ্যে রাজ্য সরকার পরিকল্পিত কৃষিকাজের উপর জোর দিচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী কিষাণ সম্মান নিধি (পিএম,-কিষাণ) প্রকল্পে ২.৪৪ লক্ষ কৃষকের অ্যাকাউন্টে ১০৩.৪০ কোটি টাকা জমা হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে পিএম কিষাণ প্রকল্পে ২০তম এবং ২১তম কিস্তি বাবদ ২.১৭ লক্ষ কৃষকের একাউন্টে জমা হয়েছে ৮৭৪৭.৪৪ লক্ষ টাকা। এখন পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী ফসল বীমা যোজনার অধীনে মোট ৩,০৯,১৯৫ জন কৃষককে বীমার আওতায় আনা হয়েছে। রাজ্য মাছের চারা উৎপাদনে স্বয়ম্ভরতা অর্জন করেছে এবং উদ্বৃত্ত মাছের চারা প্রতিবেশি রাজ্যগুলিতে সরবরাহ করা হচ্ছে।

বর্তমানে মাছের চারা উৎপাদনে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলির মধ্যে ত্রিপুরা দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। মৎস্য উৎপাদনে স্বয়ম্ভরতা অর্জনের লক্ষ্যে এবং মৎস্যচাষীদের আয় দ্বিগুণ করার লক্ষ্যে দপ্তর একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে, যেমন-উন্নত প্রথায় মৎস্যচাষ, ফ্রন্টলাইন মৎস্য চাষ পদ্ধতি গ্রহণ, উচ্চ গুণমান সম্পন্ন মাছের চারা উৎপাদন, ফসল তোলার পর পরিকাঠামো তৈরি এবং মৎস্য জীবীদের জন্য কল্যাণমূলক উদ্যোগ গ্রহণ ইত্যাদি।

রাজ্যপাল বলেন, বিশ্ব পরিবেশ দিবস অর্থাৎ ৫ জুন, ২০২৫ তারিখে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সারা দেশে ‘এক পেড় মা কে নাম ২.০ ক্যাম্পেইন’-এর সূচনা হয়। ত্রিপুরা রাজ্যে মোট ২২.৩৩.৯০২ লক্ষ চারা লাগানো হয়। এই অভিযান এখনো পর্যায়ক্রমে চলছে এবং লাগানো চারাগুলিকে দেখাশোনা ও রক্ষা করার জন্য স্থানীয় জনগণকে কাজে লাগানো হচ্ছে। কমপ্লায়েন্স রিডাকশন ও ডিরেগুলেশন সংক্রান্ত ২৩টি পয়েন্ট অগ্রাধিকারের নিরিখে ত্রিপুরা রাজ্য শীর্ষ স্থান অধিকার করেছে। রাজ্যের পরিকাঠামো ক্ষেত্রের উন্নয়ন বিশেষ করে সড়ক, সেতু, বিল্ডিং ইত্যাদির উন্নয়নে পূর্ত দপ্তর বিশেষ ভূমিকা পালন করছে। বিগত বছরগুলিতে বহু পরিকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প সম্পন্ন হয়েছে এবং আরও অনেক প্রকল্প প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। হস্ততাঁত ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অবদানের জন্য জাতীয় হস্ততাঁত দিবস-২০২৫-এ রাজ্যের পারম্পরিক হস্ততাঁত শিল্পী শিমলা দেববর্মাকে জাতীয় পুরস্কারে সম্মানিত করা হয়। জল জীবন মিশন-এর আওতায় গ্রামীণ পরিবারগুলিকে পাইপের মাধ্যমে জলের সংযোগ দেওয়া হয়েছে। সেজন্য ভারত সরকারের জলশক্তি মন্ত্রক ২০২২-এর ২ অক্টোবর ত্রিপুরাকে প্রথম পুরষ্কার প্রদান করেছে। ১৯ নভেম্বর, ২০২৫ পর্যন্ত ৭.৫০ লক্ষ গ্রামীণ পরিবারের মধ্যে ৬,৪৬,৮০১ (৮৬,১৪ শতাংশ) পরিবারে পানীয়জলের সংযোগ দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনায় মূলত: গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটানো হচ্ছে। পিএমজিএসওয়াই প্রকল্পে রাজ্যের বিরাট সংখ্যক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন বসতিকে যোগাযোগ ব্যবস্থার সাথে যুক্ত করা হয়েছে।

রাজ্যের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন সম্পর্কে বলতে গিয়ে রাজ্যপাল ইন্দ্রসেনা রেডি নান্নু বলেন, জাতীয় সড়ক প্রকল্পে রাজ্যের মোট ৬টি সড়কের ৯২৩.৩১ কিমি সড়ক রয়েছে এবং আরও ৪টি সড়কের ২২৯.২৫ কিমি অংশকে নীতিগতভাবে জাতীয় সড়ক হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। ডিসেম্বর, ২০২৫ পর্যন্ত জাতীয় সড়কগুলিকে ডবল লেনে উন্নীত করা হয়েছে। তিনি বলেন, গত বছর ১.৫৫ লক্ষ গৃহ নির্মাণ করা হয়েছে পিএমজিএসওয়াই-গ্রামীণ প্রকল্পে। সাথে সমস্ত সুবিধাভোগীদের শৌচাগার, জল সংযোগ, বিদ্যুৎ ও এলপিজি সংযোগ বিনামূল্যে দেওয়া হয়েছে। ত্রিপুরা রাজ্যে পর্যটনের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এই সম্ভাবনাকে এখনও পুরোপুরি কাজে লাগানো হয়নি। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে একটি নতুন পর্যটন নীতি প্রণয়ন করা হয়েছে। স্বদেশ দর্শন-১ ও ২ প্রকল্পের আওতায় আগরতলা, সিপাহীজলা, উদয়পুর, ছবিমুড়া, নীরমহল, উজ্জয়ন্ত প্রাসাদ, ডুমুর লেক, জম্পুই হিলস ও ঊনকোটি-সহ রাজ্যের প্রধান পর্যটন কেন্দ্রগুলিতে পরিকাঠামোগত উন্নয়নমূলক কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে। স্বদেশ দর্শন প্রকল্পের অধীনে ভারত সরকারের পর্যটন মন্ত্রক থেকে মোট ৯০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাঙ্ক-এর অর্থানুকূল্যে বিদেশি সহায়তাপ্রাপ্ত প্রকল্পের আওতায় পর্যটন দপ্তর কসবা কালীবাড়ি মন্দির, চতুর্দশ দেবতাবাড়ি মন্দির, সোনামুখী (কৈলাশহর), ছবিমুড়া, অমরসাগর ও ফটিকসাগর-সহ বিভিন্ন স্থানে পর্যটন পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজ হাতে নিয়েছে। এই প্রকল্পগুলির মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১৭৯.৭২ কোটি টাকা। কাজগুলি বর্তমানে চলছে।

RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

seventeen − 5 =

- Advertisment -spot_img

জনপ্রিয় খবর

সাম্প্রতিক মন্তব্য