ব্রাত্য জীবনের মহাকাব্য তিতাস একটি নদীর নাম এবং আরও অসংখ্য সাহিত্যের স্রষ্ঠা কথা সাহিত্যিক অদ্বৈত মল্লবর্মনের ১১২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আজ থেকে নলছড় দশমীঘাট ময়দানে শুরু হয়েছে ৩ দিনব্যাপী অদ্বৈত মল্লবর্মন উৎসব। এই উৎসব চলবে আগামী ৩ জানুয়ারি পর্যন্ত। মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করে উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী অদ্বৈত মল্লবর্মনের বাল্যজীবন, শিক্ষা জীবন ও কর্মজীবনের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি বলেন, অদ্বৈত মল্লবর্মন অত্যন্ত মেধাবী ব্যক্তি ছিলেন ছাত্রজীবনে। অদ্বৈত মল্লবর্মন পিছিয়েপড়া সমাজের বিশেষ করে তপশিলি জাতি অংশের মানুষের কল্যাণের জন্য আজীবন সংগ্রাম করেছিলেন এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে তিনি সোচ্চার হয়ে সমাজকে সঠিক দিশায় এগিয়ে নেওয়ার কাজে চেষ্টা চালিয়ে গেছেন।
মুখ্যমন্ত্রী তপশিলি জাতি অংশের মানুষের কল্যাণের বিষয়ে ভারতীয় সংবিধানে উল্লেখিত বিভিন্ন ধারাগুলি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বর্তমান রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকার তপশিলি জাতি অংশের মানুষের কল্যাণের জন্য সংবিধানের বিভিন্ন ধারা অনুসরণ করে তাদের সার্বিক উন্নয়নের জন্য কাজ করে যাচ্ছে। পাশাপাশি, তপশিলি জাতি অংশের মানুষের কল্যাণের স্বার্থে তপশিলি জাতি কল্যাণ দপ্তরের বিভিন্ন প্রকল্পের উন্নয়নমূলক কর্মসূচিগুলি তিনি ভাষণে তুলে ধরেন। সমাজকে উন্নয়নের দিশায় এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে তিনি অদ্বৈত মল্লবর্মনের আদর্শকে পাথেয় করে সমাজকে সঠিক পথে পরিচালনার কাজে সকলকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথির ভাষণে উচ্চশিক্ষা দপ্তরের মন্ত্রী কিশোর বর্মন অদ্বৈত মল্লবর্মনের সাথে এখানকার মানুষের যে সম্পর্ক ছিল তার প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন। তিনি বলেন, নলছড়ের তপশিলি জাতি অংশের জনগণ একসময় মৎস্যজীবী ছিলেন। এখানকার মৎস্যজীবীদের সাথে নদী ও জলের নিবিড় সম্পর্ক ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিল। তিনি বলেন, আজকাল এখানকার মানুষ অদ্বৈত মল্লবর্মনের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে উন্নয়নের দিকে এগিয়ে চলেছে।
অনুষ্ঠানে এছাড়াও সম্মানিত অতিথি হিসেবে তপশিলি জাতি কল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী সুধাংশু দাস এ রাজ্যের তপশিলি জাতি অংশের মানুষের সার্বিক কল্যাণের জন্য রাজ্য সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের কথা তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, তপশিলি জাতি অংশের মানুষের কল্যাণে রাজ্য সরকার ও কেন্দ্রীয় সরকার যৌথভাবে বিভিন্ন প্রকল্প চালু করে তা কার্যকর করার জন্য নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এবং এক্ষেত্রে তিনি জনগণের সম্মিলিত সহযোগিতা কামনা করেন।
অনুষ্ঠানে এছাড়াও আলোচনা করেন বিশেষ অতিথি তথা বিধায়ক পিনাকি দাস চৌধুরী। স্বাগত বক্তব্য রাখেন তপশিলি জাতি কল্যাণ দপ্তরের অধিকর্তা জয়ন্ত দে। ধন্যবাদসূচক বক্তব্য রাখেন অনুষ্ঠানের সভাপতি তথা সিপাহীজলা জিলা পরিষদের সভাধিপতি সুপ্রিয়া দাস দত্ত। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিপাহীজলা জেলার জেলাশাসক ডা. সিদ্ধার্থ শিব জয়সওয়াল এবং সিপাহীজলা জেলার পুলিশ সুপার বিজয় দেববর্মা সহ অন্যান্য বিশিষ্টজনেরা।
অনুষ্ঠানে অদ্বৈত মল্লবর্মনের উৎসব, ২০২৬ উপলক্ষ্যে রাজ্যের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের বিভিন্ন পুরস্কার প্রদান করা হয়। অদ্বৈত মল্লবর্মন স্মৃতি পুরস্কার পেয়েছেন শিক্ষাবিদ মেজর ড. নির্মল ভদ্র। এছাড়া ৭ জনকে অদ্বৈত মল্লবর্মন স্মারক সম্মান প্রদান করা হয়। তাঁরা হলেন স্থাপত্য ও ভাস্কর্য শিল্পী ড. দেবব্রত দাস, সংগীত ও নৃত্যশিল্পী পরিতোষ দাস, উদ্যান তত্ত্ববিদ সুখেন চন্দ্র দাস, শিক্ষাবিদ সমীরণ মালাকার, ক্রীড়াবিদ সম্পা দাস, বিশিষ্ট কৃষক ঝর্নারাণী দাস ও ক্রীড়াবিদ সুশান্ত নম:। এছাড়া অদ্বৈত মল্লবর্মনের উপর রাজ্যভিত্তিক প্রবন্ধ প্রতিযোগিতায় বিজয়ী ৩ জনকে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় পুরস্কার প্রদান করা হয়। প্রথম স্থান অধিকার করেছেন সৌনক শংকর রায়, দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছেন অংশুমান ভৌমিক ও তৃতীয় স্থান অধিকার করেছেন অঙ্কিতা দাস। মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা সহ অন্যান্য অতিথিগণ পুরস্কারগুলি তুলে দেন।



