Friday, January 2, 2026
বাড়িখবররাজ্যসময়োপযোগী শিক্ষাদানের জন্য রাজ্য সরকারও বিভিন্ন প্রকল্প রূপায়ণ করছে - মুখ্যমন্ত্রী

সময়োপযোগী শিক্ষাদানের জন্য রাজ্য সরকারও বিভিন্ন প্রকল্প রূপায়ণ করছে – মুখ্যমন্ত্রী

পুথিগত বিদ্যা অর্জনের পাশাপাশি ব্যবহারিক শিক্ষা অর্জনের জন্য আধুনিক প্রযুক্তিকেও কাজে লাগাতে হবে। উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য প্রকৃত শিক্ষায় শিক্ষিত হতে হবে পাশাপাশি নৈতিকতার পথও বেছে নিতে হবে। শিক্ষা গ্রহণের মধ্য দিয়ে সমাজে নিজেকে একজন বিশেষ ব্যক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা যায়। তার থেকেও বড় কাজ নিজেকে সমাজের কাছে একটা ইনস্টিটিউশন হিসেবে গড়ে তোলা। আজ আগরতলার নজরুল কলাক্ষেত্রে ত্রিপুরা মধ্যশিক্ষা পর্ষদের সুবর্ণজয়ন্তী বর্ষ পালন উৎসবের উদ্বোধন করে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা একথা বলেন।

অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, মনকে শান্ত রাখার জন্য আধ্যাত্মিকতার দিকে কিছু সময় ব্যয় করলে ছাত্রছাত্রীরা উপকৃত হবে। তিনি বলেন, আমাদের দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা যেন সময়োপযোগী হয় তার জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পরামর্শে নতুন শিক্ষানীতি চালু করা হয়েছে। শিক্ষিত যুব সমাজ সারা বিশ্বেরই অন্যতম সম্পদ। দেশের শিক্ষিত যুব সমাজের কল্যাণে এবং তাদের আরও বেশি শক্তিশালী করার জন্য নতুন শিক্ষানীতি চালু করা হয়েছে। শিক্ষার সঙ্গে প্রযুক্তির সংযোগ ঘটানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী আমাদের দেশকে শিক্ষার হাব হিসেবে তৈরী করার চেষ্টা করছেন। সময়োপযোগী শিক্ষাদানের জন্য রাজ্য সরকারও বিভিন্ন প্রকল্প রূপায়ণ করছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৬ সালে ত্রিপুরা মধ্যশিক্ষা পর্ষদ স্থাপিত হয়। এবছর বোর্ডের সুবর্ণজয়ন্তী বর্ষ। বর্তমান মধ্যশিক্ষা পর্ষদকে চলার ক্ষেত্রে বোর্ডের পুরনো আধিকারিক ও কর্মীদের কাছ থেকে ভাল পরামর্শ গ্রহণ করতে হবে। তিনি বলেন, জাতীয় শিক্ষানীতি গ্রহণের পর থেকে মধ্যশিক্ষা পর্ষদের অধীনে পরীক্ষা দেওয়া ছাত্রছাত্রীরা ভাল ফলাফল করছে। তাদের ফলাফল আরও ভাল করার জন্য পর্ষদকে উদ্যোগ নিতে হবে। প্রসঙ্গক্রমে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থাকে সঠিক পথে চালিত করতে নিপুন ত্রিপুরা, মিশন মুকুল, বিদ্যা সেতু মডিউল প্রভৃতি চালু করা হয়েছে। ছাত্রীদের সাইকেল দেওয়া হচ্ছে। উচ্চশিক্ষা গ্রহণের ক্ষেত্রে সুপার ৩০ প্রকল্প চালু করা হয়েছে।

শুধু ছাত্রছাত্রী নয় শিক্ষক শিক্ষিকাদেরও সময়োপযোগী প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। এখন পর্যন্ত ৭,৭০০ জন শিক্ষক শিক্ষিকাকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার মান উন্নয়নে প্রতিটি বিদ্যালয়ে স্মার্ট ক্লাস চালু করা হয়েছে। জনজাতি অধ্যুষিত এলাকায় ছাত্রছাত্রীদের পড়াশোনার সুবিধার জন্য নতুন নতুন ছাত্রাবাস খোলা হয়েছে। পিএমজনমন সহ বিভিন্ন প্রকল্পে ৪৭টি নতুন ছাত্রাবাস নির্মাণ করা হয়েছে। রাজ্য সরকারের লক্ষ্য রয়েছে রাজ্যের ৫৮টি ব্লকে একটি করে একলব্য বিদ্যালয় স্থাপন করার। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, শুধু বিদ্যালয় শিক্ষাই নয়, উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রেও রাজ্য সরকার নতুন নতুন প্রকল্প বাস্তবায়ণ করছে। রাজ্যে নতুন কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, কারিগরি শিক্ষার ব্যবস্থা আরও সম্প্রসারিত হয়েছে।

অনুষ্ঠানে শিক্ষা দপ্তরের সচিব রাভেল হেমেন্দ্র কুমার বলেন, ত্রিপুরা মধ্যশিক্ষা পর্ষদ রাজ্যের ছাত্রছাত্রীদের সময়োপযোগী শিক্ষাদানের জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি বিবেকনগর রামকৃষ্ণ মঠের মহারাজ স্বামী ভক্তিশুধানন্দ বলেন, শিক্ষাদানের মধ্য দিয়েও সমাজে প্রতিষ্ঠিত হওয়া যায় এবং সম্মান অর্জন করা যায়। অনুষ্ঠানে ধন্যবাদসূচক বক্তব্য রাখেন ত্রিপুরা মধ্যশিক্ষা পর্ষদের সভাপতি ড. ধনঞ্জয় গণচৌধুরী। স্বাগত বক্তব্য রাখেন মধ্যশিক্ষা পর্ষদের সচিব ড. জয়দ্বীপ ভট্টাচার্য। আজ এই অনুষ্ঠানে ২০২২ সাল থেকে ২০২৫ পর্যন্ত মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় উল্লেখযোগ্য ফলাফলের জন্য ২৩ জন কৃতি ছাত্রীকে পুরস্কৃত করা হয়। মুখ্যমন্ত্রী তাদের হাতে শংসাপত্র এবং পুরস্কারের অর্থমূল্য ১০ হাজার টাকার চেক তুলে দেন। মুখ্যমন্ত্রী মধ্যশিক্ষা পর্ষদের সুবর্ণজয়ন্তী বর্ষে স্মরণিকার আবরণ উন্মোচন করেন।

RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

three × 2 =

- Advertisment -spot_img

জনপ্রিয় খবর

সাম্প্রতিক মন্তব্য