দেশের নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যেই আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করে রাজ্য বিধানসভার ধনপুর ও বক্সনগর কেন্দ্রের উপ নির্বাচনের দিনক্ষণ। গত বিধানসভা নির্বাচনে ধনপুর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে বিজেপি দলের প্রার্থী কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী প্রতিমা ভৌমিক নির্বাচিত হলেও দলের হাই কমান্ডের নির্দেশে বিধায়ক হিসেবে শপথ নেওয়ার আগেই পদত্যাগ করেন। ফলের স্বাভাবিকভাবেই চলতে বিধানসভার শুরুতেই বিধায়কহীন হয়ে পড়ে ধনপুরবাসী। অপরদিকে বক্সনগর কেন্দ্র থেকে নির্বাচিত বিরোধী সিপিআইএম দলের বিধায়ক শামসুল হক সম্প্রতি প্রয়াত হন। ফলে এই কেন্দ্রটিও বিধায়ক শূন্য হয়ে পড়ে। সোনামুড়া মহকুমার অন্তর্গত পরপর দুটি বিধানসভা কেন্দ্র বিধায়কহীন থাকাই প্রত্যেকেরই নজর ছিল উপনির্বাচনের দিকে। অবশেষে দীর্ঘ জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে নির্বাচন কমিশন দুই কেন্দ্রের উপনির্বাচনের দিন তারিখ ঘোষণা দেয়। ঘোষণা অনুযায়ী আগামী ৫ই সেপ্টেম্বর ভোট এবং গণনা হবে ৮ই সেপ্টেম্বর। নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা হতেই রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে শুরু হয়ে যায় প্রার্থী নির্বাচন নিয়ে তৎপরতা। যদিও এখনও পর্যন্ত কোন রাজনৈতিক দল তাদের প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করতে পারেনি। এদিকে গত বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল থেকে শিক্ষা নিয়ে ধনপুর ও বক্সনগর কেন্দ্রের উপনির্বাচনে শাসকদের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতে ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই করার চেষ্টায় মগ্ন বিরোধীরা। আর সেই লক্ষ্যকে বাস্তবায়ন করতে শনিবার আগরতলায় কংগ্রেস, সিপিআইএম ও তিপ্রামথা, এই তিন দলের শীর্ষ নেতৃত্ব প্রথম পর্যায়ে সেরে নিলেন রুদ্ধদ্বার বৈঠক। নির্বাচনে ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই করার লক্ষ্যমাত্রা কে সামনে রেখে অনুষ্ঠিত রুদ্ধ দ্বার বৈঠকে এদিন সিপিআইএম দলের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন পার্টির রাজ্য সম্পাদক জিতেন্দ্র চৌধুরী, সম্পাদক মন্ডলীর দুই সদস্য মানিক দে ও রতন ভৌমিক। কংগ্রেস দলের পক্ষে দুই বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মন, গোপাল চন্দ্র রায় ও প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি আশীষ কুমার সাহা। অপরদিকে তিপ্রামথা দলের পক্ষে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিরোধী দলনেতা অনিমেষ দেববর্মা। বৈঠকের সব দলের নেতৃত্বই নীতিগতভাবে সিদ্ধান্ত নেয় উপনির্বাচনের শাসকদের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতে ঐক্যবদ্ধ ভাবে লড়াই করার। যদিও পরবর্তী আলোচনাক্রমে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। রুদ্ধদ্বার বৈঠক শেষে এমনটাই জানালেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি আশীষ কুমার সাহা। এদিকে সূত্রের খবর ধনপুর ও বক্সনগর কেন্দ্রটি যেহেতু বিরোধীদের মধ্যে শক্তির দিক দিয়ে সিপিআইএম অনেকটা এগিয়ে তাই সিপিআইএম দলের প্রার্থীদেরই শেষ পর্যন্ত সমর্থন জানাবে বাকি দুই দল।



