বাঙালির প্রাণের উৎসব শারদীয়া দুর্গাপূজার কাউন্টটাউন ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে। হাতেগোনা আর মাত্র কয়েকটা দিন। তারপরই সারা বছরের প্রতীক্ষায় অবসান ঘটিয়ে মা দুর্গার আসার পালা। আর তার আগেই শহরজুড়ে পুজো আবহ। শুরু হয়ে গেছে পুজোর প্রস্তুতি। সারা বছর বাঙালিরা অপেক্ষা করে থাকেন দূর্গা পুজোর জন্য। এবার বাজলো সেই বাদ্যি। কারণ সেই সময় আগত। ক্যালেন্ডার জানান দিচ্ছে আর মাত্র তিন মাস পরেই মা আসবে ঘরে। বিশুদ্ধ পঞ্জিকা অনুযায়ী আগামী ২০ অক্টোবর মহাষষ্ঠী। এরপর একে একে মহা সপ্তমী, মহা অষ্টমী, মহা নবমীর শেষে ২৪ শে অক্টোবর বিষাদের সুর তথা মহা দশমী। তাই আসন্ন এই উৎসবকে সামনে রেখে ইতিমধ্যেই আগরতলা শহরের বিগ বাজেটের ক্লাবগুলি নেমে পড়ল পূজার প্রস্তুতিতে। খুঁটিপুজোর মাধ্যমেই দূর্গা পূজার ঢাকে কার্যত কাটি পড়ে যায়। তাই বলা যায় শুরু হল এবছরের দুর্গা পূজার প্রস্তুতি। গত কয়েক বছর ধরে জাঁকজমক করেই খুঁটিপূজো উৎসব পালন করা একটা ট্রেডিশনে পরিণত হয়েছে এই রাজ্যেও। খুঁটিপুজোর ধারণাটি এসেছে প্রায় শত বছর পুরনো এক রীতি থেকে। আগে এত ক্লাব, থিম, প্রতিযোগিতার পেছনে ছুটাছুটি ছিল না। পুজো মানেই ছিল বনেদি বাড়ির সাবিকে প্রতিমা। এক সময় পুজো প্যান্ডেল মানে ছিল বাঁশ ও রঙ্গিন কাপড়ের তৈরি। ধীরে ধীরে সেই বাঁশের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে থার্মোকল, চট, প্লাস্টিক, কাঠ, পাট প্লাস্টার, অফ প্যারিস, সিমেন্ট আরো কত রকমের সামগ্রী। হেভিওয়েট পুজো প্যান্ডেল গুলির পাশাপাশি ছোটখাটো প্যান্ডেলেও থাকে থিমের নয়া চমক। তাই দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করে তুলতে বাহারি থিম নিয়ে হাজির হয় বিগ বাজেটের ক্লাবগুলি। যার প্রস্তুতি শুরু হয় মূলত খুঁটি পুজোর মধ্য দিয়ে। রাজধানী আগরতলার বিগ বাজেটের ক্লাবগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি হলো ছাত্রবন্ধু ক্লাব। বিগত দিনের মতো এবারও দর্শনার্থীদের আকর্ষণীয় করে তুলতে সুদৃশ্য প্যান্ডেল ও প্রতিমা তৈরীর উদ্যোগ নেয় ক্লাব কর্মকর্তারা। তাদের এই আয়োজনের প্রস্তুতি শুক্রবার শুরু হলো খুঁটিপুজোর মধ্য দিয়ে। রাজধানীর নেতাজি চৌমুনী স্থিত সখীচরণ স্কুলে এদিন ধর্মীয় রীতিনীতি মেনে অনুষ্ঠিত হলো খুঁটিপুজো। এবছর ছাত্রবন্ধু ক্লাবে পুজো ৬৮ তম বর্ষে পদার্পণ করতে চলেছে। তাই এবার ক্লাবের থিম আমার বলতে কিছু নেই। প্রতিমাতেও থাকবে আকর্ষণের ছাপ। উদ্দেশ্য একটাই পূজোর দিনগুলিতে রেকর্ড সংখ্যক দর্শনার্থী ক্লাব প্রাঙ্গণে সামিল করা। আর এই উদ্দেশ্যকে সামনে রেখেই এবার শুরু হলো ছাত্রবন্ধু ক্লাবের পুজোর প্রস্তুতি।



