রাজ্য মন্ত্রিসভায় সম্প্রতি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে রাজ্য সরকারের যে কোন দপ্তরের নিয়োগ প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে আবেদনকারীদের পিআরটিসি বাধ্যতামূলক। বিরোধীদের দাবি মেনে দেরিতে হলেও রাজ্য সরকার এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করায় স্বাভাবিকভাবেই রাজ্যের বেকারদের মধ্যে অনেকটা স্বস্তি দেখা দেয়। কারণ রাজ্য সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে নিয়োগের ক্ষেত্রে এতদিন পি আর টি সি বাধ্যতামূলক না হওয়ায় বহির রাজ্যের বেকার যুবক-যুবতীরাও অংশগ্রহণের সুযোগ পেত। এতে স্বাভাবিকভাবেই বঞ্চিত হচ্ছিলেন রাজ্যের বেকাররা। তাই দাবি উঠে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় পিআরটিসি বাধ্যতামূলক করার। অবশেষে রাজ্য মন্ত্রিসভা সেই দাবি মেনে পিআরটিসি বাধ্যতামূলক করল। কিন্তু এতেও যেন স্বস্তিতে নেই এখন রাজ্যের বেকাররা। কারণ অর্থের বিনিময়ে নকল পিআরটিসি সার্টিফিকেট বের করে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশ নিচ্ছে বহির রাজ্যের একাংশ যুবক। এবার এমনই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ এনে সোচ্চার হলো বিরোধী কংগ্রেস দলের ছাত্র সংগঠন এন এস ইউ আই। জানা গেছে সেনাবাহিনীতে নিয়োগের জন্য এসএসসি জিডি তে রাজ্যের জন্য ৭০০টি পোস্ট বরাদ্দ করা হয়। এটি একটি কেন্দ্রীয় সরকারী চাকুরী। যেখানে শূন্যপদ গুলিকে রাজ্য অনুযায়ী ভাগ করা হয়। সেখানেও নিয়োগের ক্ষেত্রে পিআরটিসি বাধ্যতামূলক। কিন্তু দেখা যাচ্ছে অন্যান্য রাজ্যের বিপুলসংখ্যক প্রার্থী অর্থের বিনিময়ে রাজ্য থেকে নকল পি আর টি সি বের করে পরীক্ষার জন্য আবেদনপত্র জমা দেয়। আগামী ১৭ জুলাই থেকে শুরু হবে মেডিকেল পরীক্ষা। আর তার ঠিক আগেই প্রকাশ্যে উঠে এলো নকল পিআরটিসির ঘটনা। যারা এরকম অবৈধ পিআরটিসি সহ দরখাস্ত জমা দিয়েছে তাদের দরখাস্ত বাতিল করা সহ তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে বৃহস্পতিবার সদর মহকুমা শাসকের নিকট প্রতিনিধি মূলক ডেপুটেশন প্রদান করল প্রদেশ এনএসইউআই। সংগঠনে রাজ্য সভাপতি সম্রাট রায়ের নেতৃত্বে এক প্রতিনিধিদল সদর মহকুমা শাসকের সাথে দেখা করে সম্পূর্ণ বিষয়টি তথ্যসহকারে তুলে ধরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার দাবী জানান। অবিলম্বে প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে অনুধাবন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে আগামী দিন সংগঠন সদর মহকুমা শাসকের কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার হুমকি দিলেন ছাত্রনেতা শ্রী রায়। একই সাথে বিষয়টিতে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চাইলেন সম্রাট।



