আগরতলা থেকে মাত্র কয়েক কিলোমিটার দূরে পুরাতন আগরতলার চতুর্দশ দেবতা বাড়ি মন্দিরে চলছে এখন রাজ্যের জাতি উপজাতি অংশের মানুষের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী উৎসব খার্চি পূজা ও মেলা। গত ২৬ শে জুন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর হাত ধরে আনুষ্ঠানিকভাবে সূচনা হয় এই উৎসবের। বৃহস্পতিবার সপ্তাহব্যাপী আয়োজিত এই পূজা ও মেলার চতুর্থ দিন। মাঝে হাতে রয়েছে আর মাত্র দুটি দিন। কিন্তু এবছর প্রত্যাশা ছিল পূজা ও মেলাতে পুণ্যার্থীদের উপস্থিতি বিগত দিনের যাবতীয় রেকর্ড অতিক্রম করবে। তার জন্য প্রশাসনিকভাবে ব্যাপক প্রস্তুতিও নেওয়া হয়। কিন্তু সেই প্রত্যাশাতে যেন জল ঢেলে দিতে চলেছে প্রকৃতি। প্রকৃতির লুকোচুরি খেলায় এখনো জমজমাট হয়ে ওঠেনি মেলা প্রাঙ্গণ। কার্যত বলা যেতে পারে এবারের এই পূজা ও মেলাতে যেন ভিলেন হয়ে দাঁড়ালো বৃষ্টি। চতুর্দশ দেবতা বাড়ির চত্বরে তৃতীয় দিন দুপুরের পর থেকে অবিরাম বৃষ্টিতে ম্লান হয়ে পড়ল পূজা ও মেলা প্রাঙ্গণ। এমনকি রাতেও পুণ্যার্থীদের সংখ্যা ছিল হাতে গোনা। যা বিগত দিন কখনো প্রত্যক্ষ করা যায়নি। প্রকৃতি যেভাবে ভিলেন হয়ে দাঁড়িয়েছে এবারের পূজা ও মেলায়, তাতে করে সবচেয়ে বেশি হতাশাগ্রস্থ ছোট মাঝারি ব্যবসায়ীরা। এমনিতেই ধারাবাহিক বৃষ্টিতে স্বাভাবিক জনজীবনে ছন্দপতন ঘটে। যার প্রভাব দারুন ভাবেই পড়লো এবারের খার্চিতে। প্রথম দুদিন যেভাবে পূজা ও মেলায় পণ্যার্থীদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায় তাতে ব্যবসায়ীরা অনেকটা আশার আলো দেখতে শুরু করেছিলেন। কিন্তু তাদের সব আশায় যেন এখন বিফলে যেতে চলেছে। আবহাওয়া দপ্তর সূত্রে খবর আগামী কয়েক দিন প্রকৃতির এই খামখেয়ালিপনা অব্যাহত থাকবে। আর তাই যদি বাস্তবে হয় তাহলে নিশ্চিতভাবেই বলা যেতে পারে এবারের খার্চিতে সবচেয়ে বড় ভিলেন হলেন বৃষ্টি। এরপরেও মেলায় অংশগ্রহণকারী ক্ষুদ্র মাঝারি ব্যবসায়ীরা আগামী দুদিন একটু ভালো ব্যবসার প্রতীক্ষায় রয়েছেন। তবে এবারের মেলায় অংশ নিয়ে যেভাবে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে চলেছেন ব্যবসায়ীরা, তা থেকে কিছুটা পরিত্রাণ পেতে ইতিমধ্যেই ব্যবসায়ীরা দাবি তুলতে শুরু করেছেন মেলা আরো দুই দিন বৃদ্ধি করার।



