সংখ্যালঘু মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের প্রধান উৎসব ঈদ। গোটা বিশ্বজুড়েই বৃহস্পতিবার উদযাপিত হয় এই খুশির ঈদ উৎসব। এদিন রাজ্যেও যথাযোগ্য ধর্মীয় ভাব গম্ভীর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয় ঈদুল আযহা৷ ঈদ মানে খুশি, ঈদ মানে আনন্দ, ঈদ মানে উল্লাস। ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের মতে আজ থেকে প্রায় বহু বছর পূর্বে হযরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম নামক একজন নবী যিনি ৯০ বছর বয়স পর্যন্ত উনার কোন সন্তান ছিল না। আল্লাহর কাছে একটি সন্তান প্রার্থনা করেছিলেন। সন্তান জন্মের পর তার বয়স যখন ১৩ বছর হয় তখন আল্লাহর পক্ষ থেকে স্বপ্নের মাধ্যমে নির্দেশ আসে তার সবচেয়ে প্রিয় সন্তান আল্লাহর নামে কোরবান করে দেওয়ার জন্য। তখন নিজের সন্তানকে আল্লাহর রাস্তায় কুরবানী করার জন্য প্রস্তুতি নিলেন তিনি।। ইব্রাহিম তুমি তোমার স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করেছ। এটা তোমার জন্য পরীক্ষা ছিল। এই পরীক্ষায় সফল হয়েছ। তখন আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি পশু কুরবানী করা হয়। সেই দিন থেকে সারা পৃথিবীতে ইসলাম ধর্মাবলম্বী মানুষদের জন্য কুরবানীর প্রথা চলে আসে। ঈদুল আযহায় একজন মুসলমান তার নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী গরু, ছাগল, মহিষ, ভেড়া ইত্যাদি কুরবানী করে নিজের মায়া মহব্বতকে বিসর্জন দিয়ে সত্যিকারের নিজেকে মানুষ বানানোর জন্য, সমাজের জন্য, রাষ্ট্রের জন্য, সমগ্র মানবতার জন্য ত্যাগ করার একটা মানসিকতা তৈরি করেন কোরবানির দিনে। তাই এই ঈদকে কোরবানি ঈদু বলা হয়। পবিত্র এই ঈদ উৎসবের দিন সকালে প্রতিটি মসজিদে অনুষ্ঠিত হয় বিশেষ নামাজ আদায়। রাজ্যে কেন্দ্রীয়ভাবে মূল নামাজ আদায় অনুষ্ঠানটি হয় আগরতলা গেদু মিয়া মসজিদে।এদিন সকাল থেকেই গেদু মিয়া মসজিদে ঈদের নামাজ আদায়ের জন্য অসংখ্য সংখ্যালঘু মুসলিম ধর্মাবলম্বী লোকজনদের সমাগম ঘটে৷ এখানে বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে ঈদের নামাজ আদায় করা হয়৷ নামাজ পরিচালনা করেন হযরত মাওলানা আব্দুর রহমান। ঈদের নামাজ আদায় শেষে মুসলিম ধর্মাবলম্বীরা একে অপরের সঙ্গে আলিঙ্গন করে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন৷ সেখানে আয়োজিত নামাজ আদায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে সংখ্যালঘু মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের পবিত্র খুশির ঈদ উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানান মন্ত্রী শুক্লাচরণ নোয়াতিয়া। গেদু মিয়া মসজিদে নামাজ পরিচালনকারী হযরত মাওলানা আব্দুর রহমান এদিন ঈদ উৎসবের মাহাত্ম্য তুলে ধরে বিস্তারিত আলোকপাত করেন এবং রাজ্য ও দেশবাসীর মঙ্গল কামনা করেন।এদিকে এদিন রাজ্যের অন্যান্য মসজিদগুলোতেও যথাযোগ্য মর্যাদায় ঈদের নামাজ আদায় অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়৷ ঈদ উপলক্ষে যাতে কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা সংঘটিত হতে না পারে সেজন্য প্রশাসনের তরফ থেকে আগাম সব ধরনের সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়৷ উল্লেখ্য মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের কোরবানি ঈদের দিনে রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে নানা উস্কানিমূলক কার্যকলাপ প্রতিহত করার জন্য প্রশাসন সদা সতর্ক রয়েছে৷ বিগত বছরও কোরবানি ঈদের দিনে নানা হিংসাত্মক কার্যকলাপ সংঘটিত হয়েছিল৷ এ বছর যাতে এধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে সেজন্য আগে থেকেই প্রশাসন সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে৷ সবকটি মসজিদ এবং মুসলিম ধর্মাবলম্বী অধ্যুষিত এলাকাগুলিতে আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মী মোতায়ন করা হয়৷ ঈদ উৎসবকে কেন্দ্র করে এখনও পর্যন্ত কোথাও থেকে কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার খবর মিলেনি৷ একপ্রকার উৎসবের আমেজেই সকাল থেকে খুশির ঈদ উৎসবের শামিল হন রাজ্যের সংখ্যালঘু মুসলিম ধর্মাবলম্বীরা।



