প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে প্রাকৃতিক দুর্যোগকে উপেক্ষা করেই আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো রাজ্যের জাতি উপজাতি অংশের মানুষের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী উৎসব খার্চি পূজা ও মেলার। রাজধানী আগরতলা থেকে মাত্র কয়েক কিলোমিটার দূরে সরকারি উদ্যোগে প্রতিবছরের মতো এবারও চতুর্দশ দেবতা বাড়ি মন্দিরে আয়োজন করা হয় এই বিশেষ পূজা ও মেলার। সোমবার সকালে প্রাকৃতিক দুর্যোগকে উপেক্ষা করেই উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ডক্টর মানিক সাহা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন উপজাতি কল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা, পর্যটন মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী, আগরতলা পৌর নিগমের মেয়র দীপক মজুমদার সহ আরো অনেকে। অনুষ্ঠানে পৌরহিত্য করেন স্থানীয় বিধায়ক তথা উৎসব কমিটির চেয়ারম্যান রতন চক্রবর্তী। সপ্তাহব্যাপী আয়োজিত খার্চি উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করে এদিন মুখ্যমন্ত্রী ডক্টর সাহা বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন, বহু বছর ধরেই এই চতুর্দশ দেবতার বাড়িতে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে খার্চি পূজা ও মেলা। কিন্তু এখানে পরিকাঠামোগত কোন উন্নয়ন ছিল না। সরকার পরিবর্তন হবার পর এই জায়গায় বর্তমান সরকার চেষ্টা করছে পরিকাঠামোগত উন্নয়নের। মন্দিরকে নিয়ে ট্রাস্ট গঠনের যে প্রস্তাব তা বাস্তবসম্মত। কোন বিধি-নিষেধ না থাকলে ট্রাস্ট গঠনের ক্ষেত্রে সরকারের কোন অনীহা নেই। তাছাড়া তিনি এদিন আরো বলেন ত্রিপুরায় রয়েছে কৃষ্টি সংস্কৃতির পরম্পরা। যা অন্য কোন রাজ্যে আছে কিনা সন্ধিহান। রাজ্যে এমন কিছু কৃষ্টি সংস্কৃতি ছিল যা এতদিন বিলুপ্ত হবার পথে। সেগুলি রাজ্য সরকারের সহায়তায় আবার জনসম্মুখে তুলে আনার চেষ্টা চলছে। এই কৃষ্টি, সংস্কৃতি ও পরম্পরার মধ্যেই রয়েছে রাজ্যের জাতি উপজাতি অংশের মানুষের ঐক্যের বন্ধন। এদিন মেলা ও পূজার প্রথমদিনে মন্দির প্রাঙ্গনের ভিড় ছিল লক্ষণীয়।



