চতুর্দশ দেবতাকে সারা বছর একটি ঘরে তালাবদ্ধ করে রাখা হয়। খারচি পূজার সাত দিনেই দেবতাদের প্রদর্শন করা হয় ভক্তদের কাছে। প্রথম দিন তাদের ঘর থেকে বের করে পাশের হাওড়া নদীতে স্নান করানো হয়। এর পরে, তাদের মন্দির প্রাঙ্গনে ফিরিয়ে দেওয়া হয় যেখানে রাজ পুরোহিত তাদের পূজা করেন। এরপর তাদের একটি লোহার জাল দিয়ে ঘেরা আলাদা ঘরে নিয়ে যাওয়া হয়। তাই এই সাত দিনে ভক্তরা চতুর্দশ দেবতাকে দেখতে পারেন। তাই রবিবার নিয়ম কানুন মেনে হাওড়া নদীতে চতুর্দশ দেবতার স্নানযাত্রা সম্পন্ন হয়। এর মধ্য দিয়েই শুরু হয়ে গেল রাজ্যের প্রাচিন তম দীর্ঘ সময়ের সাত দিন ব্যাপী খার্চি পূজা। বলা যায় জাতি- জনজাতির সৌভ্রাতৃত্বের মিলন তীর্থ খার্চি পূজা ও মেলা। রবিবার বিকেলে মন্দির থেকে চতুর্দশ দেবতাকে গার্ড অব অনার দিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় হাওয়া নদীর ঘাটে সেখানে হয় স্নান। সবার সামনে ছিলেন পুজোর পুরোহিত চন্তাই। স্নান যাত্রাকে ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল কঠোর। এই ঐতিহ্যবাহী স্নানযাত্রা দেখতে রাস্তার দুই ধারে প্রচুর ভক্তসমাগম ঘটে। সোমবার সকালে শুরু হয়ে যাবে পুজার মধ্য দিয়ে ৭ দিনের উৎসব। মেলা কমিটির চেয়ারম্যান বিধায়ক রতন চক্রবর্তী জানান, এবছর নতুন আঙ্গিকে মেলা প্রাঙ্গণ সাজিয়ে তোলা হয়েছে। তাছাড়া খারচি পূজা উপজাতীয় ও অ-উপজাতীয় উভয় সম্প্রদায়ের মানুষের কাছে অত্যন্ত তাৎপর্য বহন করে। খারচি পূজা এই রাজ্যে শান্তি ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে। এটা দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে সেতুবন্ধন। উপজাতীয় এবং অ-উপজাতীয় ভক্তরা সমান উত্সাহের সাথে অংশগ্রহণ করে, জাতীয় সংহতির একটি ভাল উদাহরণ স্থাপন করে।



