Friday, March 20, 2026
বাড়িখবররাজ্যসিপিএম দলের দুষ্কৃতিকারীদের দ্বারা রাতের অন্ধকারে বিশ্বজিৎ দত্তের বাড়িতে হামলা, গালি গোলজ...

সিপিএম দলের দুষ্কৃতিকারীদের দ্বারা রাতের অন্ধকারে বিশ্বজিৎ দত্তের বাড়িতে হামলা, গালি গোলজ মেরে ফেলার হুমকি সহ ভাইপো এবং দত্তের ছেলের উপর হামলা। ঘটনা খোয়াই দুর্গানগর এলাকায়, মহিলাদের প্রতিরোধে পালিয়ে যায় দুষ্কৃতিকারীরা

২০২৩ সালের নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে ততই বিক্ষিপ্তভাবে লাল সন্ত্রাস বাহিনীরা তাদের আসল রূপে খোলস ছেড়ে বেরিয়ে আসছে। আর তেমনি ভাবে লাল সন্ত্রাসের শিকার হল তৎকালীন বাম বিধায়ক তথা পরবর্তী সময়ে বিজেপি দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য খোয়াই দুর্গানগর নিবাসী মৃত বিশ্বজিৎ দত্তের বাড়ির লোকজন। ঘটনায় বিবরণ দিয়ে প্রয়াত বিশ্বজিৎ দত্তের স্ত্রী প্রতিমা দত্তগুপ্ত সংবাদ মাধ্যমকে জানান বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে সাত ঘটিকায় ২৫ খোয়াই বিধানসভা কেন্দ্রের ৩ নং ওয়ার্ড তথা তাদের বাড়ির এলাকায় সিপিএম দলের নির্বাচনি প্রচার শেষে এলাকার বাম সমর্থিত পিয়ালী ভট্টাচার্য দেব উনার বাড়িতে চা পানের ব্যবস্থা করা হয় সিপিএম সমর্থকদের জন্য। সন্ধ্যায় চা পান শেষ করে লাল সন্ত্রাসীরা গালিগালাজ করতে করতে পিয়ালী ভট্টাচার্যের বাড়ি থেকে বিশ্বজিৎ দত্তের বাড়ির দিকে এগোতে থাকে এবং উনার বাড়িতে হামলা চালায় পাশাপাশি তাদের বাড়ির লোহার গেইটে এলো পাথরি লাথি মারতে থাকে। গেইটের মধ্যখানে স্লাইডিং বোর্ড লাগানোর ফলে গেইটটি খুলতে পারেনি এ সময় বাড়ি ঘরে কোন পুরুষ মানুষ ছিল না। তাদের গেইটের উপর পতাকার বাঁশ দিয়ে হামলা করার ফলে শব্দ পেয়ে বাড়ি ঘরের মহিলারা চিৎকার করে ছুটে আসলে হামলাকারীরা সরে যায়। তবে তাদেরকে দুসরা ফেব্রুয়ারির পর দেখে নেবে কচুকাটা করবে, এবং অন্যদেরকে বলতে শুনে বোম মেরে তাদের বাড়ি উড়িয়ে দেওয়া হবে। এই ঘটনায় বাড়ির মহিলারা আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়ে বাড়িতে কোন পুরুষ মানুষ না থাকার ফলে জানায় প্রয়াত বিশ্বজিৎ দত্তের স্ত্রী প্রতিমা দত্ত গুপ্ত। তিনি এও জানান বাড়ির মহিলাদের সঙ্ঘবদ্ধ প্রতিরোধে লাল সন্ত্রাসীরা পিছু হটতে বাধ্য হয়। সমস্ত ঘটনাটি পুলিশকে জানালে ঘটনার 2 ঘন্টা পর পুলিশ তাদের বাড়িতে আসে। সেই রাতের ঘটনার প্রতিবাদ করতে গেলে প্রয়াত বিশ্বজিৎ দত্তের ছেলে অর্কজ্যোতি দত্তের ওপর হামলা চালায় ওই এলাকার বাম সমর্থক পিয়ালী ভট্টাচার্যের পরিবারের লোকেরা। শুধু তাই না বৃহস্পতিবার দুপুরে খোয়াই সিপিএম প্রার্থী নির্মল বিশ্বাস এর সমর্থনে কংগ্রেস সিপিএম মিলে এক বাইক রেলি বের করা হয় ওই রেলি থেকে বিশ্বজিৎ দত্তের ছোট ভাইপো অরূপ দত্তকে পতাকার ডান্ডা দিয়ে খোয়াই পুরান বাজার ওয়ার্ড অফিসের সামনে তার ওপর হামলা করে লাল সন্ত্রাসীরা যা অনেকেই নাকি ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করেছে বলে জানা যায়। শুধু তাই না এদিন বিশ্বজিৎ দত্তের স্ত্রী প্রতিমা দত্ত গুপ্ত এবং ওনার ছেলে অর্কজ্যোতি দত্ত বাইক নিয়ে বাড়ি আসার পথে দুপুরে খোয়াই সরকারি দ্বাদশ শ্রেণী বালিকা বিদ্যালয়ের সামনে সেই সিপিএমের মিছিল থেকে মা ও ছেলেকে দেখামাত্র মেরে ফেলার হুমকি দেয় বলে জানান প্রয়াত দত্তের স্ত্রী প্রতিমা দত্ত গুপ্ত। কেন বিশ্বজিৎ দত্তের বাড়ি ও পরিবারের লোকজনের উপর হামলা হল সেই বিষয়টা জানতে হলে আজ থেকে পাঁচ বছর পিছিয়ে যেতে হবে ২০১৮ সালের জানুয়ারি মাসে। এবং সেই সময়টা বা ঘটনাটি বামফ্রন্টের রাজনৈতিক জীবনের এক কালো দিন বলে উক্তি করেছিলেন খোয়াই এর বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী মহল এবং রাজনীতিবিদরা। ২০১৬ সালের তৎকালীন খোয়াই এর বিধায়ক সমীর দেব সরকারের মৃত্যুর পর খোয়াই বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনে দাঁড়িয়ে বামফ্রন্টের হয়ে সমীর দেব সরকার থেকেও বেশি ভোটে জয়ী হয়েছিলেন বিশ্বজিৎ দত্ত। এর থেকে বুঝা গিয়েছিল খোয়াইকেন্দ্রে বিশ্বজিৎ দত্তের গুণগ্রাহী ও চাহিদা ব্যাপক রয়েছে।। সেই অনুসারে ২০১৮ এর বিধানসভা নির্বাচনে খোয়াই বিধানসভা কেন্দ্র থেকে সিপিএম দলের প্রার্থী হিসেবে বিশ্বজিৎ দত্তকে মনোনীত করে এবং ২০১৮ সালের ৩১ শে জানুয়ারি বিশ্বজিৎ দত্ত সিপিএমের হয়ে মনোনয়নপত্র জমা দিবেন। আর চক্রান্তটি শুরু হয় তখন থেকেই বিশ্বজিত দত্ত মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার ঠিক পাঁচ দিন আগে ২৭শে জানুয়ারি ২০১৮ সালের ঐদিন দুপুরে উনার সাথে দেখা করতে আসেন অঘোর দেববর্মা উনি যাবার কিছুক্ষণ সময় পর ঐদিন বিকেল তিনটের থেকে সাড়ে তিনটা নাগ উনার বাড়িতে আসেন তৎকাল বামফ্রন্টের যুবনেতা তথা আঠারো নির্বাচনের পর খয়াই কেন্দ্রের বিধায়ক নির্মল বিশ্বাস এবং সুখেন্দু বিকাশ দে বিশ্বজিৎ দত্তের বাড়ি গিয়ে উনাকে জানান দলের পক্ষ থেকে নির্দেশ এসেছে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ওনার শারীরিক পরীক্ষা করা হবে যাতে নির্বাচন প্রচারকাল তিনি অসুস্থ না হন। সেই হিসেবে সাথে সাথে উনাকে গাড়ি করে বাড়ি থেকে এক প্রকার তুলে নিয়ে যাওয়া হয় জিবি হাসপাতালে এবং সেখানে ভর্তি করা হয় একজন সুস্থ লোককে অসুস্থ বানিয়ে। যদিও পড়ে বিষয়টি দত্তবাবু ওনার স্ত্রী প্রতিমা দত্ত গুপ্তকে বলেছেন যে জিবিতে নিয়ে গেলে তিনি দেখতে পান সেখানে আগে থেকেই ষ্টেচার এবং হুইল চেয়ার প্রস্তুত। এবং দূরে এক কোনায় গৌতম দাস দাঁড়িয়ে রয়েছে যদিও দত্ত বাবুর সাথে কোন কথা বলেননি তখন তিনি বুঝতে পারেন যে সবই গৌতম দাসের ইশারায় হচ্ছে। শেষে একপ্রকার বিশ্বজিৎ দত্তকে বল পূর্ব হুইল চেয়ারে বসিয়ে নিয়ে গিয়ে জিবিতে ভর্তি করানো হয়। এমনকি তিনি যতদিন জীবিতে চিকিৎসাধীন ছিলেন তখন একজনও বামফ্রন্ট দলের নেতৃত্বরা উনার সাথে দেখা করেননি এমনকি সৌজন্যতামূলক সাক্ষাৎ ও কেউ করিনি। এর পরের দিন ২৮ শে ফেব্রুয়ারি উনাকে একটি ইনজেকশন দেওয়া হয় ইনজেকশন দেওয়ার কিছুক্ষণ পর বিশ্বজিৎ দত্তের শরীরে একটি কাপুনি উঠে এবং ঘাড় থেকে পা পর্যন্ত সমস্ত শরীরটা অবস হয়ে যাওয়ার ফলে একসময় তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়েন। এবং উনাকে সাথে সাথে জিবি আইসিইউতে ভর্তি করা হয় এবং ওনার পরিবারকে খবর দেওয়া হয় উনি অসুস্থ। পরিবারের লোকেরা ওনার সাথে দেখা করতে গেলে কাউকে দেখা করতে দেয়নি এমন কি স্ত্রী প্রতিমা দত্ত গুপ্তকে দিয়ে একটি চ্যানেলের মাধ্যমে একটি বক্তব্য প্রচার করা হয় যে বিশ্বজিৎ দত্ত অসুস্থ তাও বলপক। শেষে এই বিষয়টি বুঝতে পারে পরিবারের লোকেরা, যে নির্মল বিশ্বাসকে ২০১৮ সালে খোয়াই থেকে সিপিএম প্রার্থী করার জন্য এই জঘন্য নাটকটি সাজিয়েছিল বামফ্রন্ট দল। শুধু তাই না বিশ্বজিৎ দত্ত জিবিতে ভর্তি থাকাকালীন উনার সমস্ত নির্বাচনী প্রচার ফেস্টুন সাইনবোর্ড সরিয়ে ফেলা হয় এবং সেই জায়গাতে, নির্মল বিশ্বাসের কিছু কিছু ব্ল্যাক ফেস্টুন ব্যানার ইত্যাদি দেখা যায়। বিশ্বজিৎ দত্তের পরিবারের লোকেরা যখন বুঝতে পেরে গিয়েছিল যে জিবির আইসিইউতে যে কোন প্রকারে উনাকে হত্যা করা হবে বা মেরে ফেলা হবে ত বুঝতে পেরে বিশ্বজিতের ভাইপো অরূপ দত্ত ৩০শে জানুয়ার এক প্রেস মিটের আয়োজন করে এবং বিশ্বজিৎ দত্তের সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনাটির সম্পূর্ণ বিস্তারিত বিবরণ দেন। আর তা প্রকাশের ফলে এবং সংবাদ মাধ্যমের তৎ পরতার কারণে বিশ্বজিৎ দত্তকে জিবির আইসিইউতে মেরে ফেলার পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। শেষে বিশ্বজিৎ দত্তকে সুস্থ করে বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয় তাও 31 শে জানুয়ারির পর। প্রয়াত দত্তের স্ত্রী জানিয়ে ছিলেন যে ৩১ শে জানুয়ারির আগে বিশ্বজিৎ দত্তকে আইসিএ থেকে ছাড়া যাবে না উপর মহল থেকে নির্দেশ আছে এ কথাগুলি তৎকালীন আইসিউর সেবিকারা প্রয়াতের দত্তের স্ত্রীকে বলেছিলেন। কারণ ৩১ শে জানুয়ারি খোয়াই বিধানসভা কেন্দ্র থেকে নির্মল বিশ্বাস মনোনয়নপত্র জমা দিবেন পূর্ব পরিকল্পনা অনুসারে এবং তাই করেন। যদিও তাদের একটি পরিকল্পনা সার্থক হলেও অন্য একটি পরিকল্পনাটি সংবাদ মাধ্যমের কারণে ভেস্তে যায় বিশ্বজিৎ দত্তকে মেরে ফেলার পরিকল্পনাটি। এই খবরটি প্রচার হতেই রাজ্যের প্রত্যেকটি মানুষ ভেবেছিল বিশ্বজিত দত্ত আর বেচে ফিরবেন না। ঘটনাক্রমে রাজ্যবাসী বামফ্রন্টের চক্রান্ত বুঝে গিয়েছিল তা বামফ্রন্ট ও বুঝতে পারে যে এতে করে দলের ক্ষতি হতে পারে আর তাই হয়েছে ২০১৮ সালে। এই ঘটনা প্রায় বছরখানেকের মাথায় বিশ্বজিৎ দত্ত বিজেপি দলে যোগদান করেন এবং উক্ত ঘটনাটি এক প্রেস মিটের মাধ্যমে উনার বাড়িতে সংবাদ মাধ্যমের কাছে তুলে ধরেন আসলে ওনার সাথে কি ঘটনা ঘটেছিল ঐদিন। আর বৃহস্পতিবার রাতের ঘটনাটি এই পাঁচ বছর আগের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার রাতে প্রয়াত বিশ্বজিৎ দত্তের বাড়িতে হামলা ও পরিবারের লোকদেরকে তোর হুমকি দেয়। যদিও বর্তমান সময়ে বিশ্বজিৎ দত্তের বাড়ির সবাই বিজেপি সমর্থিত তাই সিপিএম দলের ক্ষোভটা সেই জায়গাতেই এবং তাদের কর্মকাণ্ড প্রকাশ করা হয়েছিল সংবাদ মাধ্যমের দ্বারা তাই তাদের উপর হামলা করল রাতের অন্ধকারে। যদি ক্ষমতায় আসে তাহলে ত সেই পরিবারের অস্তিত্ব রাখবে না সিপিএম বলে মন্তব্য করেন বুদ্ধিজীবী মহলের। তবে এই ঘটনার পর পরিবারের লোকেরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলে জানা যায়।

RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

9 + 4 =

- Advertisment -spot_img

জনপ্রিয় খবর

সাম্প্রতিক মন্তব্য