বিক্ষুব্ধ গোষ্টির পর এবার টিসিএ কার্যালয়ে প্রবেশে বাধার সম্মুখীন হলেন সহ-সভাপতি তিমির চন্দ, সচিব তাপস ঘোষ সহ এপেক্স কমিটির বেশ কয়েকজন সদস্য। শুধু তাই নয় এবার বিক্ষুব্ধ গোষ্টির ক্লাব সদস্যদের হাতে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনেরও অভিযোগ আনেন তারা। যা নিয়ে শনিবার দুপুরে উত্তপ্ত হয়ে উঠে ত্রিপুরা ক্রিকেট এসোসিয়েশনের কার্যালয় প্রাঙ্গণ। এদিন দুপুরে এসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি ও সচিবসহ বেশ কয়েকজন এপেক্স কমিটির সদস্য পশ্চিম থানার পুলিশের সহযোগিতায় টিসিএ কার্যালয়ে গেলে নিচেই তাদের আটকে দেয় বিভিন্ন ক্লাবের সদস্যরা। ঘটনার সময় অফিসেই কাজে ব্যস্ত ছিলেন সভাপতি তপন লোধ। এনিয়ে চরম উত্তেজনা তৈরি হয়। টানা তিন দিন টিসিএ অফিসের মূল ফটককে তালা ঝুলতে থাকায় শুক্রবার দুপুরে সদর মহকুমা শাসকের নির্দেশে কঠোর নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতিতেই তালা ভেঙে অফিসে প্রবেশ করেন সভাপতি ও যুগ্ম সচিব। এরপর থেকেই শুরু হয় টানটান উত্তেজনা। যদিও এই উত্তেজনার সূচনা আরও আগে থেকেই। সম্প্রতি টিসিএ অনুমোদিত জেনারেল বডির অধিকাংশ সদস্যদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বর্তমান কমিটির অধিকাংশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অবৈধ কাজকর্মের অভিযোগ এনে শীঘ্রই নতুন কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই সাথে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় দুর্নীতির তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বেশ কয়েকজন অভিযুক্তদের কার্যালয়ে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার। অপরদিকে আবার সচিব তাপস ঘোষের নেতৃত্বে এপেক্স কমিটির বৈঠকে বিভিন্ন অভিযোগ এনে সভাপতির পদ থেকে তপন লোধকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে নোটিশ ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। টিসিএর দুই গোষ্ঠীর পৃথক পৃথক এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে অভ্যন্তরীণ লড়াই চরম তেজী আকার ধারণ করে। এর মধ্যেই শনিবার দুপুরে সহ-সভাপতি ও সচিব টিসিএ কার্যালয়ে গেলে বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠীর বাধার সম্মুখীন হন। শুধু তাই নয় তাদেরকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনেরও অভিযোগ উঠে। পরবর্তী সময়ে সচিব ও সহ-সভাপতি সহ অন্যরা পশ্চিম থানায় গিয়ে ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরে অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। একই সাথে দাবি জানান অফিস তাদের হাতে তুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করার। এদিনের এই ঘটনা প্রসঙ্গে টিসিএ সচিব বলেন এস ডি এম এর নির্দেশে কিছু দুষ্কৃতিকারীরা গতকাল অফিসের গেইট খুলেছে। তাই বিষয়টি দেখতেই এদিন সেখানে যাওয়া। শ্রী ঘোষ অভিযোগ করেন সভাপতির নেতৃত্বেই চলছে এধরনের ঘটনা। অ্যাসোসিয়েশনের কোন নথিপত্র যদি ক্ষতি হয় তাহলে তার জন্য দায়ী থাকবেন সভাপতি।এদিকে সভাপতি তপন লোধ জানান অ্যাসোসিয়েশনের জেনারেল বডি একটা তদন্তের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তারা যাতে অফিসে না আসে তারও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তদন্তের জন্য ইতিমধ্যেই রাজ্য সরকারের কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছে। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তারা যাতে নথিপত্র নষ্ট করতে না পারে তার জন্যই, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অফিসে আসার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। রাজ্যে এই মুহূর্তে যেন অন্যতম আলোচ্য বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে ত্রিপুরা ক্রিকেট এসোসিয়েশনের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব। ক্ষমতা দখলের দুই গোষ্ঠীর লড়াইয়ে উত্তপ্ত এখন টিসিএ কার্যালয়। তবে পরিস্থিতি যেদিকে এগিয়ে চলেছে তাতে যে কোন সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অনেকেই।



