প্রতিমা বিসর্জনকে কেন্দ্র করে আগরতলা দশমীঘাটে এক গাড়িচালককে মারধর ও নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। পরিবারের অভিযোগ, দশমীঘাট এলাকার একটি ক্লাবের সম্পাদক মিঠুন-সহ কয়েকজন যুবক ওই গাড়িচালককে মারধর করে গুরুতর আহত করেছে। এমনকি তাঁর কাছ থেকে নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন নিয়ে নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ পরিবারের। বর্তমানে আহত গাড়িচালক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, চারিপাড়া এলাকার বাসিন্দা গাড়িচালক জলফু মিয়া শুক্রবার রাতে আনুমানিক ১০টা নাগাদ প্রতিমা বিসর্জনের জন্য গাড়ি নিয়ে দশমীঘাটে যান। প্রতিমা গাড়ি থেকে নামানোর পর গাড়িটি পিছনের দিকে নেওয়ার সময় সেখানে উপস্থিত ক্লাব সম্পাদক মিঠুনের গায়ে অনিচ্ছাকৃতভাবে গাড়িটি লেগে যায় বলে পরিবারের দাবি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ। পরিবারের দাবি, এরপর জলফু মিয়াকে গাড়ি থেকে নামিয়ে দশমীঘাট ক্লাব চত্বরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কয়েকজন যুবক তাঁর হাত-পা বেঁধে মারধর করে বলে অভিযোগ পরিবারের।
শুধু মারধর নয়, ওই গাড়িচালকের কাছ থেকে নগদ পাঁচ হাজার টাকা এবং মোবাইল ফোনও নিয়ে নেওয়া হয় বলে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। পরিবারের আরও দাবি, মোবাইল ফোনের লক খুলে দেওয়ার জন্য জলফু মিয়ার ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়। তিনি প্রথমে ফোনের লক খুলতে রাজি না হওয়ায় তাঁকে ফের মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। এই মারধরের জেরে তাঁর একটি হাত ভেঙে যায় বলেও পরিবারের দাবি। পরবর্তীতে ফোনের লক খুলে দেওয়ার পর মোবাইলটি নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছে পরিবার। এরপর রাত প্রায় ২টা নাগাদ নদীর পাড় থেকে ওই গাড়িচালককে অচেতন অবস্থায় পুলিশ উদ্ধার করে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। তাঁকে প্রথমে আগরতলা আইজিএম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে টিএমসি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখান থেকে পরবর্তীতে আগরতলা জিবি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় বলে জানা গেছে। ঘটনার পর শনিবার আহত গাড়িচালকের পরিবারের সদস্যরা পশ্চিম আগরতলা থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। একইসঙ্গে পরিবারের পক্ষ থেকে মুখ্যমন্ত্রীর কাছেও ন্যায়বিচারের আবেদন জানানো হয়েছে। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে তোলা অভিযোগগুলোর সত্যতা কতটা, ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত এবং ঠিক কী কারণে গাড়িচালকের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে—তা এখনও স্পষ্ট নয়। পুরো বিষয়টি পুলিশি তদন্তের পরই পরিষ্কার হবে। এই অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ক্লাব কর্তৃপক্ষের বক্তব্য এখনও জানা যায়নি।



