অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের দীর্ঘদিনের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের দাবিতে শনিবার আগরতলায় ধর্না কর্মসূচি পালন করল ফোরাম অব সিভিল পেনশনার্স’ অ্যাসোসিয়েশনস, ত্রিপুরা রাজ্য শাখা। সংগঠনের উদ্যোগে সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত সার্কিট হাউস সংলগ্ন মহাত্মা গান্ধী মূর্তির পাশে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। পেনশনভোগীদের পেনশন ও অন্যান্য আর্থিক সুযোগ-সুবিধায় দীর্ঘদিনের অসামঞ্জস্য দূর করা, সকল অংশের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীদের মধ্যে সমতা প্রতিষ্ঠা এবং তাঁদের প্রাপ্য অধিকার নিশ্চিত করার দাবিতে এই কর্মসূচির আয়োজন বলে সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়। ধর্না কর্মসূচি থেকে মোট ১১ দফা দাবি তুলে ধরা হয়। সংগঠনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে ভ্যালিডেশন সংক্রান্ত ব্যবস্থা প্রত্যাহার, সমস্ত অংশের পেনশনভোগীদের মধ্যে আর্থিক সুযোগ-সুবিধায় সমতা প্রতিষ্ঠা এবং নির্দিষ্ট সময় অন্তর পে কমিশন চালু করা। একইসঙ্গে পে কমিশনের প্রক্রিয়ার সঙ্গে অন্তর্বর্তী আর্থিক সুবিধা প্রদানের দাবিও জানানো হয়।
এর পাশাপাশি ডিয়ারনেস রিলিফ বা ডিআর ৫০ শতাংশে পৌঁছানোর পর তা মূল বেতন ও মূল পেনশনের সঙ্গে যুক্ত করার দাবিও সামনে আনে সংগঠন। ফোরাম অব সিভিল পেনশনার্স’ অ্যাসোসিয়েশনস-এর দাবি, অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারীদের পেনশন ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধার ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন ধরনের অসামঞ্জস্য রয়েছে। এর ফলে পেনশনভোগীদের একটি বড় অংশকে আর্থিক সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে বলে সংগঠনের অভিযোগ। এদিনের ধর্না কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সংগঠনের সচিব গোপাল চন্দ্র সেন বলেন, পেনশনভোগীদের ন্যায্য দাবি ও অধিকার আদায়ের লক্ষ্যেই এই আন্দোলন। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন দাবির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলেও প্রত্যাশিত সমাধান না হওয়ায় সংগঠনকে আন্দোলনের পথে নামতে হয়েছে বলে জানান তিনি। সংগঠনের সভাপতি মানিক লাল ভট্টাচার্য বলেন, রাজ্যের অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারীরা দীর্ঘ কর্মজীবনে সরকারের বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেছেন। কর্মজীবন শেষে তাঁদের ন্যায্য আর্থিক সুবিধা এবং সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তাই পেনশনভোগীদের দাবিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সরকারের কাছে আবেদন জানান তিনি। ধর্না কর্মসূচিতে সংগঠনের সদস্য ও অবসরপ্রাপ্ত পেনশনভোগীদের উপস্থিতি ছিল। নিজেদের বিভিন্ন দাবির সমর্থনে তাঁরা স্লোগানও দেন। সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত দাবিগুলোর সমাধান করা হলে আন্দোলনের প্রয়োজন থাকবে না। তবে দাবিগুলো পূরণে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে আগামী দিনে আরও বৃহত্তর কর্মসূচি গ্রহণ করা হতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।



