আসন্ন রাজ্য সম্মেলনকে সামনে রেখে একাধিক সামাজিক কর্মসূচি হাতে নিয়েছে বিরোধীদল সমর্থিত ত্রিপুরা সরকারি কর্মচারী সমিতি। সংগঠনের গৃহীত কর্মসূচির অঙ্গ হিসেবে রবিবার কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজন করা হয় স্বেচ্ছায় রক্তদান শিবিরের। এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রক্তদানের গুরুত্ব এবং এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকা মানবিক মূল্যবোধের বিষয়টি তুলে ধরেন বিরোধী দলনেতা। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে, রক্তদান কেবল একজন মুমূর্ষু রোগীর জীবন রক্ষার মাধ্যম নয়, এর মধ্য দিয়ে সমাজে মানুষের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক আরও নিবিড় হয়। পারস্পরিক সহমর্মিতা ও মানবিকতার চর্চাও এর মাধ্যমে আরও শক্তিশালী হয়। বর্তমান সময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর দ্রুত প্রসারের প্রসঙ্গও নিজের বক্তব্যে তুলে ধরেন জিতেন্দ্র চৌধুরী। তিনি বলেন, প্রযুক্তি বর্তমানে নতুন পৃথিবী গড়ে তোলার অন্যতম মাধ্যম হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন সৃজনশীল ক্ষেত্রেও ক্রমশ বাড়ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার।
নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে বিরোধী দলনেতা জানান, কম্পিউটার ব্যবহারে তিনি বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত নন। তবে অবসর সময়ে কৌতূহলবশত এআই-এর সাহায্য নিয়ে বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে জানার চেষ্টা করেন। ছবি তৈরি থেকে শুরু করে সংগীত সংযোজনের মতো নানা সৃজনশীল কাজেও বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। তবে প্রযুক্তির যতই অগ্রগতি হোক, মানুষের রক্ত কৃত্রিমভাবে তৈরি করা এখনও সম্ভব নয়—এই বিষয়টিকে বিশেষভাবে সামনে আনেন জিতেন্দ্র চৌধুরী। তাঁর মতে, এমন পরিস্থিতি যেন তৈরি না হয় যেখানে মানুষের রক্তের বিকল্প হিসেবে কৃত্রিমভাবে রক্ত তৈরির প্রয়োজন পড়ে। কারণ রক্তদান শুধুমাত্র চিকিৎসার প্রয়োজন মেটায় না, একজন মানুষের সঙ্গে আরেকজন মানুষের সম্পর্ক এবং মানবিকতার বন্ধনকেও আরও দৃঢ় করে। রক্তদান শিবিরে হামলার মতো ঘটনার প্রসঙ্গও এদিন তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে। তিনি বলেন, এমন ঘটনা সমাজে মানবিকতার মূল্যবোধ কতটা সংরক্ষিত হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করে। মানুষকে বিশ্বের শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি বলা হলেও যখন রক্তদান শিবিরের মতো মানবিক উদ্যোগও আক্রান্ত হয়, তখন তা অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়। এই পরিস্থিতিতে সমাজে মানবিক মূল্যবোধকে আরও শক্তিশালী করা এবং মানুষের মধ্যে সহমর্মিতার চর্চা বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে বলেও মত প্রকাশ করেন তিনি।
এদিন ত্রিপুরা সরকারি কর্মচারী সমিতির সামাজিক ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন বিরোধী দলনেতা। তাঁর বক্তব্য, সংগঠনটি শুধুমাত্র নিজেদের সদস্যদের স্বার্থকে কেন্দ্র করে কাজ করে না। বৃহত্তর সমাজ এবং মানবকল্যাণের ক্ষেত্রেও নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী অবদান রাখার চেষ্টা করে। একটি সংগঠনের প্রভাব শুধুমাত্র তার সদস্য সংখ্যার নিরিখে বিচার করা উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন জিতেন্দ্র চৌধুরী। তাঁর মতে, একটি সংগঠন সমাজের প্রতি কতটা দায়বদ্ধ, বৃহত্তর মানুষের কল্যাণে তার ভূমিকা কী এবং সামাজিক ক্ষেত্রে তার অবদান কতটা—সেই বিষয়গুলিও সমানভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন। আসন্ন রাজ্য সম্মেলনের আগে সংগঠনের এই রক্তদান শিবিরের মধ্য দিয়ে সামাজিক দায়বদ্ধতার বার্তাই সামনে আনা হয়েছে। সংগঠনের সদস্যদের পাশাপাশি বৃহত্তর সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা পালনের এই উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয় অনুষ্ঠানে।



