সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতা ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ। সেই ভাবনাকে সামনে রেখে আগরতলায় বিএসএফ ও রোটারি ইন্টারন্যাশনালের সহযোগিতায় আয়োজন করা হলো বিশেষ কর্মসূচি ‘সঞ্জীবনী-৩’। সমাজের মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক উদ্যোগকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যেই এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। আগরতলায় আয়োজিত এই বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. মানিক সাহা। এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিএসএফের আধিকারিকরা, রোটারি ক্লাবের সদস্য এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। তাঁদের উপস্থিতিতে কর্মসূচিকে ঘিরে বিশেষ গুরুত্ব ও উৎসাহ লক্ষ্য করা যায়। অনুষ্ঠানের ব্যানার অনুযায়ী, Border Security Force বা বিএসএফের উদ্যোগে এবং Rotary Club of Aspiring Agartala-এর সহযোগিতায় ‘সঞ্জীবনী-৩’ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। সামাজিক উন্নয়ন, জনসেবা এবং মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মতো বিষয়গুলিকে সামনে রেখেই এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে বিএসএফের আধিকারিকরা সীমান্ত সুরক্ষার দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সমাজ ও মানুষের কল্যাণে বাহিনীর বিভিন্ন উদ্যোগের বিষয় তুলে ধরেন। সীমান্ত এলাকার মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করা এবং জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর গুরুত্বও আলোচনায় উঠে আসে। অন্যদিকে, রোটারি ক্লাবের সদস্যরাও সামাজিক উন্নয়ন এবং জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডের গুরুত্ব তুলে ধরেন। সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের প্রয়োজনের কথা মাথায় রেখে বিভিন্ন সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় আরও বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়। মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. মানিক সাহার উপস্থিতি ‘সঞ্জীবনী-৩’ কর্মসূচির গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দেয়। সামাজিক দায়বদ্ধতার ক্ষেত্রে প্রশাসন, নিরাপত্তা বাহিনী এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন একসঙ্গে কাজ করলে জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড আরও কার্যকর হয়ে উঠতে পারে—এই সমন্বিত উদ্যোগের গুরুত্ব অনুষ্ঠানে তুলে ধরা হয়। সীমান্ত সুরক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বিএসএফের সামাজিক ভূমিকার বিষয়টিও এদিনের অনুষ্ঠানে বিশেষভাবে সামনে আসে। একইসঙ্গে রোটারি ক্লাবের মতো সামাজিক সংগঠনগুলির জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও বিএসএফের সমন্বয় সমাজের মানুষের জন্য আরও ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে বলে মত প্রকাশ করা হয়।
‘সঞ্জীবনী-৩’ কর্মসূচিকে ঘিরে অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিএসএফের আধিকারিক, রোটারি ক্লাবের সদস্য এবং অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যেও উৎসাহ লক্ষ্য করা যায়। মানুষের পাশে দাঁড়ানো, সামাজিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার যে বার্তা এই কর্মসূচির মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে, আগামী দিনে সেই উদ্যোগ আরও বিস্তৃত হবে বলেই আশা প্রকাশ করা হয়। সব মিলিয়ে, সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতার ক্ষেত্রেও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের যৌথ উদ্যোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা তুলে ধরল আগরতলার ‘সঞ্জীবনী-৩’ কর্মসূচি। বিএসএফ ও রোটারি ক্লাবের এই সমন্বিত উদ্যোগ সমাজের মানুষের কল্যাণে ভবিষ্যতেও আরও কার্যকর ভূমিকা রাখবে—এমন প্রত্যাশাই উঠে আসে অনুষ্ঠানে।



