২০১৮ সালে রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর থেকেই সরকারি ডিগ্রি কলেজগুলিতে ছাত্র সংসদ নির্বাচন কার্যত বন্ধ রয়েছে—এমনই অভিযোগ তুলে এবার সরব হল ভারতের ছাত্র ফেডারেশন বা এসএফআই। সংগঠনের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচন না হওয়ায় রাজ্যের বিভিন্ন সরকারি মহাবিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদগুলি কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। একইসঙ্গে শাসকদলের ছাত্র সংগঠনের কর্মীরা জোরপূর্বক ছাত্র সংসদ দখল করে রেখেছেন বলেও গুরুতর অভিযোগ তুলেছে এসএফআই। সংগঠনের অভিযোগ, রাজ্যের বিভিন্ন সরকারি ডিগ্রি কলেজে একাধিক সমস্যা দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যমান। শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন অসুবিধা থাকলেও সেগুলি সমাধানের ক্ষেত্রে প্রশাসন বা উচ্চশিক্ষা দপ্তরের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না। ছাত্র সংসদ নির্বাচন না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া তুলে ধরার গণতান্ত্রিক পরিসরও সংকুচিত হয়েছে বলে দাবি সংগঠনের।
এসএফআইয়ের আরও অভিযোগ, শিক্ষাঙ্গনে ছাত্রছাত্রীদের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে সংগঠনের নেতৃত্ব ও কর্মীরা সরব হলেই তাঁদের ওপর আক্রমণের ঘটনা ঘটছে। এই হামলার অভিযোগের তীর মূলত শাসকদলের ছাত্র সংগঠনের কর্মীদের দিকেই উঠছে বলে দাবি এসএফআইয়ের। সংগঠনের দাবি, ইতিমধ্যেই রাজ্যের বিভিন্ন সরকারি ডিগ্রি কলেজ এবং স্কুলে এসএফআইয়ের একাধিক নেতৃত্ব ও কর্মী হামলার শিকার হয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে শিক্ষাঙ্গনে সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনা, ছাত্র সংসদ নির্বাচন করার উদ্যোগ নেওয়া এবং এসএফআই নেতৃত্ব ও কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে বৃহস্পতিবার রাজ্য পুলিশের আইজি আইন-শৃঙ্খলার দ্বারস্থ হয় এসএফআই রাজ্য কমিটি। এদিন সংগঠনের রাজ্য সভাপতি ও সম্পাদকের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। তাঁদের পক্ষ থেকে বিভিন্ন দাবির কথা উল্লেখ করে একটি স্মারকলিপিও তুলে দেওয়া হয়। শিক্ষাঙ্গনে সংঘটিত হামলার ঘটনাগুলিতে দ্রুত পুলিশি পদক্ষেপের পাশাপাশি ছাত্রছাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিও জানানো হয় বলে সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এসএফআইয়ের অভিযোগ, বিভিন্ন সময়ে তাদের নেতৃত্ব ও কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটার পর সংশ্লিষ্ট থানায় লিখিত অভিযোগ ও মামলা দায়ের করা হয়েছে। এমনকি অভিযোগে অভিযুক্তদের নাম-পরিচয়ও উল্লেখ করা হয়েছে বলে দাবি সংগঠনের। কিন্তু অভিযোগ দায়েরের পরও এখনও পর্যন্ত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি—এমনই অভিযোগ তুলে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে তারা। সংগঠনের বক্তব্য, শুধুমাত্র মামলা নথিভুক্ত করলেই হবে না, তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। একইসঙ্গে শিক্ষাঙ্গনে যাতে কোনও ধরনের ভয় বা চাপের পরিবেশ তৈরি না হয়, সেদিকেও প্রশাসনকে নজর দিতে হবে।
এদিন সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে এসএফআই রাজ্য সম্পাদক সৃজন দেব অভিযোগের সুরে বলেন, ২০১৮ সালের পর থেকে রাজ্যে আইনের শাসন নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে এবং শিক্ষা ব্যবস্থাও নানা সমস্যায় জর্জরিত। তাঁর দাবি, এই পরিস্থিতিতে ছাত্রছাত্রীদের বিভিন্ন দাবি ও শিক্ষার স্বার্থে এসএফআই ধারাবাহিকভাবে আন্দোলন করে যাচ্ছে। সৃজন দেবের অভিযোগ, শাসকদলের ছাত্র সংগঠন হিসেবে যারা নিজেদের পরিচয় দেয়, তারা সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের বিভিন্ন সমস্যা ও দাবির সঙ্গে কার্যত বিচ্ছিন্ন। অন্যদিকে, এসএফআই শিক্ষার্থীদের সমস্যা নিয়ে সরব হওয়ার কারণেই তাদের ওপর আক্রমণ করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। তবে আক্রমণ বা চাপের মুখে এসএফআই পিছিয়ে যাবে না বলেও স্পষ্ট বার্তা দেন সংগঠনের রাজ্য সম্পাদক। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, হামলার মাধ্যমে সংগঠনের আন্দোলন থামানো সম্ভব নয়। বরং আক্রমণের মোকাবিলা করেই শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দাবি নিয়ে সংগঠন আরও এগিয়ে যাবে। এদিকে, এসএফআইয়ের এই ডেপুটেশনকে ঘিরে ফের সামনে এল রাজ্যের শিক্ষাঙ্গনে ছাত্র সংসদ নির্বাচন, ছাত্র সংগঠনগুলির রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং নিরাপত্তা নিয়ে বিতর্ক। পুলিশের পক্ষ থেকে তাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়, এখন সেদিকেই নজর সংগঠনের।



