হেজামারা আরডি ব্লকের সামনে আইপিএফটির কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক স্বপন দেববর্মার ওপর হামলার ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে উত্তেজনা অব্যাহত। গুরুতর আহত অবস্থায় আগরতলার জিবি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন আইপিএফটির এই নেতা। অভিযোগ, তিপ্রা মথার কর্মী-সমর্থকদের একাংশ তাঁর ওপর হামলা চালায়। হামলায় তাঁর মাথায় আঘাত লাগে এবং রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এই পরিস্থিতিতে বুধবার জিবি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন স্বপন দেববর্মাকে দেখতে যান তিপ্রা মথা দলের বিধায়ক রঞ্জিত দেববর্মা। হাসপাতালে গিয়ে তিনি আহত আইপিএফটি নেতার শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন। পাশাপাশি গোটা ঘটনা নিয়ে সংবাদমাধ্যমের সামনে নিজের বক্তব্যও তুলে ধরেন তিনি।
সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বিধায়ক রঞ্জিত দেববর্মার দাবি, স্বপন দেববর্মার ওপর যখন হামলার ঘটনা ঘটে, তখন ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত ছিল। কিন্তু তাঁর অভিযোগ, পুলিশের উপস্থিতি থাকা সত্ত্বেও আক্রান্ত আইপিএফটি নেতাকে রক্ষা করার ক্ষেত্রে পুলিশ কার্যকর ভূমিকা নেয়নি। তবে একইসঙ্গে ঘটনার প্রেক্ষাপট নিয়েও নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন তিপ্রা মথার বিধায়ক। রঞ্জিত দেববর্মা বলেন, আইপিএফটির সাধারণ সম্পাদক স্বপন দেববর্মা মহারাজা প্রদ্যুৎ কিশোর দেববর্মনের বিরুদ্ধে খারাপ মন্তব্য করেছিলেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এই ধরনের মন্তব্য করা উচিত হয়নি। যদিও কারও বক্তব্য বা মন্তব্যের বিরোধিতা থাকলেও তার জেরে হামলার ঘটনা সমর্থনযোগ্য নয়—এমন অবস্থানও স্পষ্ট করেন বিধায়ক রঞ্জিত দেববর্মা। তাঁর বক্তব্য, গোটা ঘটনার তদন্ত পুলিশের করা উচিত এবং তদন্তের মাধ্যমেই প্রকৃত ঘটনা সামনে আসবে। রঞ্জিত দেববর্মা আরও জানান, হামলার ঘটনায় পুলিশ তদন্ত করবে এবং ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের চিহ্নিত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অর্থাৎ হামলার অভিযোগের ক্ষেত্রে দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের প্রয়োজন রয়েছে বলেই ইঙ্গিত দেন তিনি।
উল্লেখ্য, আসন্ন এডিসি এলাকার ভিলেজ কাউন্সিল নির্বাচনকে সামনে রেখে পাহাড় এলাকায় ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক তৎপরতা বেড়েছে। নির্বাচনের আগে জোটের শরিক দলগুলির মধ্যে এই ধরনের ঘটনা নতুন করে রাজনৈতিক চাপানউতোর তৈরি করেছে। এরই মধ্যে হেজামারা আরডি ব্লকের সামনে আইপিএফটির সাধারণ সম্পাদক স্বপন দেববর্মার ওপর হামলার অভিযোগ সামনে আসায় পরিস্থিতি আরও স্পর্শকাতর হয়ে উঠেছে। ঘটনাস্থলে পুলিশের উপস্থিতি থাকা সত্ত্বেও কীভাবে হামলার ঘটনা ঘটল এবং হামলার পেছনে কারা ছিল, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অন্যদিকে আহত স্বপন দেববর্মা বর্তমানে জিবি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাঁকে দেখতে তিপ্রা মথার বিধায়ক রঞ্জিত দেববর্মার হাসপাতালে আসার ঘটনাও রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল। ভিলেজ কাউন্সিল নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, পাহাড়ের রাজনৈতিক উত্তাপও তত বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে হেজামারার হামলার ঘটনায় দ্রুত তদন্ত শেষ করে প্রকৃত ঘটনা প্রকাশ্যে আনা এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়াই এখন প্রশাসনের সামনে বড় দায়িত্ব।



