বেপরোয়া ট্রাকের ধাক্কায় গুরুতর আহত স্কুটি চালক! দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলেই পড়ে রইল ক্ষতিগ্রস্ত যানবাহন, আর অভিযোগ উঠল ট্রাকের চালক ও সহকর্মীদের পালিয়ে যাওয়ার। মলয়নগর রবিপাড়া এলাকায় এই সড়ক দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মলয়নগর রবিপাড়া এলাকায় স্কুটি নিয়ে যাওয়ার সময় দুর্ঘটনার কবলে পড়েন অভিদাস নামে ৩৮ বছর বয়সি এক ব্যক্তি। আচমকাই একটি ট্রাকের সঙ্গে তাঁর স্কুটির সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের অভিঘাতে তিনি রাস্তায় ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন বলে জানা গেছে। দুর্ঘটনার জেরে ঘটনাস্থলে থাকা একটি পালসার বাইকও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মুহূর্তের মধ্যে এলাকায় ভিড় জমে যায়। আহত অবস্থায় রাস্তায় পড়ে থাকা ব্যক্তিকে দেখে ছুটে আসেন স্থানীয়রা।
অভিযোগ, দুর্ঘটনার পর ট্রাকের চালক এবং তাঁর সঙ্গে থাকা সহকর্মীরা আহত ব্যক্তিকে ঘটনাস্থলে ফেলে রেখেই সেখান থেকে পালিয়ে যান। এরপর এলাকাবাসীর উদ্যোগেই আহত অভিদাসকে উদ্ধার করা হয়। পরে একটি অটোরিকশাযোগে তাঁকে দ্রুত আগরতলার জিবি হাসপাতালে পাঠানো হয় চিকিৎসার জন্য। ঘটনার খবর পেয়ে পরবর্তী সময়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় শ্রীনগর থানার পুলিশ। পুলিশ দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং দুর্ঘটনাগ্রস্ত যানবাহনগুলির বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ কী, কোন পরিস্থিতিতে ট্রাক ও স্কুটির মধ্যে সংঘর্ষ ঘটল এবং ট্রাকের চালক কেন ঘটনাস্থল থেকে চলে গেলেন—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দুর্ঘটনাগ্রস্ত ট্রাকটির নম্বর TR01X 1741 বলে জানা গেছে। দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত স্কুটিটির নম্বর TR03K 8077। এছাড়াও ঘটনাস্থলে থাকা অন্য একটি গাড়ির নম্বর TR01B 9659 বলে জানা গেছে।
দুর্ঘটনার পর কিছু সময়ের জন্য এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। আহত ব্যক্তিকে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানোর পাশাপাশি দুর্ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি ওঠে স্থানীয়দের মধ্যে। এদিকে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে শ্রীনগর থানার পুলিশ। দুর্ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত যানবাহনগুলিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দুর্ঘটনার পর পলাতক বলে অভিযোগ ওঠা ট্রাকের চালক ও তাঁর সহকর্মীদের সন্ধানেও পুলিশ তৎপরতা শুরু করেছে। দিনের ব্যস্ত সময়ে এই ধরনের দুর্ঘটনা ফের একবার এলাকার সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। আহত স্কুটি চালকের বর্তমান শারীরিক অবস্থা এবং দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্ত শেষ হওয়ার পরই স্পষ্ট হবে।



