আগরতলা পশ্চিম থানার ভেতরে এক নেশাসক্ত যুবকের দীর্ঘক্ষণ অবস্থান ও নেশাজাতীয় সামগ্রী চাওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযোগ, থানায় এসে ওই যুবক ব্রাউন সুগারের দুইটি ‘কোটা’ দেওয়ার দাবি জানাতে থাকে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে থানার নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
জানা গেছে, প্রতাপগড় এলাকার ওই যুবক কিছুদিন আগে একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল। পরবর্তীতে হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে এসে সে আগরতলা পশ্চিম থানায় পৌঁছে যায়। এরপর থানার ভেতরে বসেই নেশাজাতীয় সামগ্রী দেওয়ার জন্য দাবি জানাতে থাকে বলে অভিযোগ।
দীর্ঘ সময় ধরে থানায় অবস্থান করে ওই যুবক অস্বাভাবিক আচরণ করতে থাকায় পরিস্থিতি সামাল দিতে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা থানায় এসে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ নেন।
তবে অভিযোগ, দুই দফায় স্ট্রেচারে করে ওই যুবককে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হলেও সে স্ট্রেচার থেকে নেমে পড়ে এবং হাসপাতালে যেতে অস্বীকার করে। ফলে বেশ কিছুক্ষণ থানার ভেতরেই তৈরি হয় অস্বস্তিকর পরিস্থিতি।
ঘটনাটি সামনে আসার পর নেশাবিরোধী পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। প্রতিদিন রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় নেশার বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হলেও খোদ থানার ভেতরে একজন যুবক কীভাবে নেশাজাতীয় সামগ্রী চাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি করল, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
এর মধ্যেই আরও একটি অভিযোগ সামনে এসেছে। পরবর্তীতে থানার ভেতর থেকেই ওই যুবককে নেশাজাতীয় কোনো সামগ্রী দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি উঠেছে। যদিও এই অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। ফলে বিষয়টি নিয়ে সঠিক তথ্য উদঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, পরবর্তী সময়ে ওই যুবক থানার ভেতর থেকে বেরিয়ে স্বাভাবিকভাবেই হেঁটে চলে যায়। পুরো ঘটনাকে ঘিরে এখন পুলিশের ভূমিকা নিয়েই একাধিক প্রশ্ন উঠছে।
নেশার বিরুদ্ধে প্রশাসনের লাগাতার অভিযান এবং কঠোর অবস্থানের মধ্যেই থানার ভেতরে এমন ঘটনা সামনে আসায় বিষয়টি যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল। বিশেষ করে থানার ভেতরে নেশাজাতীয় সামগ্রী সরবরাহের যে অভিযোগ উঠেছে, তার সত্যতা আদৌ রয়েছে কি না, থাকলে এর সঙ্গে কারা জড়িত—তা তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।
একজন নেশাসক্ত যুবক কীভাবে পুলিশের দ্বারস্থ হয়ে প্রকাশ্যে নেশাজাতীয় সামগ্রীর দাবি জানানোর পরিস্থিতিতে পৌঁছাল, সেই প্রশ্নের পাশাপাশি ঘটনার সময় থানার দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। এখন পুরো ঘটনার বিষয়ে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে কী ব্যাখ্যা দেওয়া হয় এবং কোনো তদন্ত শুরু হয় কি না, সেদিকেই নজর রয়েছে।



