আগরতলা শহরতলির বিদ্যাসাগর বাজারে সিপিআইএমের যোগেন্দ্রনগর অঞ্চল কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা অব্যাহত। শাসক দলের ধন্যবাদ মিছিলকে ঘিরে গত ২৪ তারিখ সন্ধ্যায় দলীয় কার্যালয়ে হামলার অভিযোগ ওঠে। ঘটনার পর বুধবার কার্যালয়টি পরিদর্শন করেন সিপিআইএমের রাজ্য সম্পাদক তথা বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী।
দলীয় নেতৃত্ব ও কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত কার্যালয়ের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন তিনি। পরে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানান বিরোধী দলনেতা। তাঁর অভিযোগ, বিরোধী দলের কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা কোনোভাবেই গণতান্ত্রিক পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
জিতেন্দ্র চৌধুরীর দাবি, বিজেপি বারবার গণতন্ত্র ও সংবিধানের কথা বললেও বাস্তবে বিরোধী রাজনৈতিক দলের উপর হামলার মতো ঘটনা সেই দাবিকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করাচ্ছে। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতেই পারে, কিন্তু তার জেরে দলীয় কার্যালয়ে হামলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এদিন বিদ্যুৎ মাশুল বৃদ্ধির প্রসঙ্গও সামনে আনেন সিপিআইএম রাজ্য সম্পাদক। তাঁর বক্তব্য, বিদ্যুতের বাড়তি মাশুল নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে, তার প্রভাবেই রাজ্যজুড়ে প্রতিবাদ ও আন্দোলন হয়েছে। সেই ক্ষোভকে আড়াল করার চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
বিদ্যুৎ মাশুল নিয়ে সরকারের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত এবং বিজেপির ধন্যবাদ মিছিলের প্রসঙ্গ টেনে জিতেন্দ্র চৌধুরী বলেন, একদিকে সরকারের সিদ্ধান্তকে ঘিরে রাজনৈতিক কর্মসূচি হচ্ছে, অন্যদিকে বিরোধী দলের কার্যালয়ে হামলার অভিযোগ উঠছে। একই সময়ে ঘটে যাওয়া এই ঘটনাগুলি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
দলীয় কার্যালয়ে হামলার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি। ঘটনার সঙ্গে কারা যুক্ত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও জানান সিপিআইএম নেতৃত্ব। একইসঙ্গে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ না হলে আগামী দিনে আরও বৃহত্তর গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক প্রতিবাদ গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগের জেরে বিদ্যাসাগর এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। এখন প্রশাসন এই ঘটনায় কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহলের।
বিদ্যাসাগর বাজারের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় এখনও উত্তেজনা থাকায় প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেও নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহলের।



