আসন্ন ভিলেজ কমিটি ও পুর নির্বাচনকে সামনে রেখে সাংগঠনিক প্রস্তুতি এবং আগামী দিনের রাজনৈতিক ও আন্দোলন কর্মসূচির রণকৌশল নির্ধারণে বৈঠকে বসল রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল সিপিআইএমের রাজ্য নেতৃত্ব। বুধবার আগরতলার মেলার মাঠস্থিত সিপিআইএম রাজ্য কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয় গুরুত্বপূর্ণ এই রাজ্য কমিটির বৈঠক।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সিপিআইএমের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি, রাজ্য সম্পাদক তথা বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকারসহ দলের রাজ্য নেতৃত্ব ও রাজ্য কমিটির সদস্যরা।
বৈঠকে গত এক মাসে রাজ্যের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামগ্রিক পরিস্থিতি পর্যালোচনার পাশাপাশি দলের সাম্প্রতিক বিভিন্ন কর্মসূচির সাফল্য ও দুর্বলতার দিকগুলি নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে গত ১০ আগস্ট সিপিআইএমের উদ্যোগে আয়োজিত জেল ভরো কর্মসূচির মূল্যায়নেও।
বৈঠক প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সিপিআইএম রাজ্য সম্পাদক জিতেন্দ্র চৌধুরী জানান, এটি দলের নিয়মিত সাংগঠনিক প্রক্রিয়ারই অংশ। সাধারণত প্রায় এক থেকে দেড় মাস অন্তর রাজ্য কমিটির এই ধরনের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তবে আসন্ন ভিলেজ কমিটি নির্বাচন, পুর নির্বাচন এবং বিধানসভা অধিবেশনকে সামনে রেখে এবারের বৈঠকের গুরুত্ব কিছুটা বেশি বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, আগামী দিনে দলের পক্ষ থেকে কী ধরনের রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে, তা নিয়ে রাজ্য কমিটির সদস্যদের মতামত নেওয়া হবে। পাশাপাশি জনস্বার্থের বিভিন্ন বিষয় এবং রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে দলের অভিযোগ করা বিভিন্ন অগণতান্ত্রিক পদক্ষেপকে সামনে রেখে আন্দোলনের রূপরেখা নিয়েও আলোচনা হবে।
আসন্ন ভিলেজ কমিটি ও পুর নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সাংগঠনিকভাবে দলকে আরও শক্তিশালী করার বিষয়টিও বৈঠকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বলে জানা গেছে। নির্বাচনের আগে দলের কর্মী-সমর্থকদের আরও সক্রিয় করা, সাংগঠনিক প্রস্তুতি জোরদার করা এবং জনসংযোগ বাড়ানোর বিষয়েও মতবিনিময় করবেন নেতৃত্ব।
এদিনের বৈঠকে সিপিআইএমের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি সাম্প্রতিক কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকের পর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে রাজ্য কমিটির সদস্যদের অবহিত করবেন। জাতীয় স্তরে বিভিন্ন আন্দোলন, কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন নীতি নিয়ে তৈরি হওয়া জনমত এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রভাব নিয়েও আলোচনা হবে।
জিতেন্দ্র চৌধুরীর বক্তব্য অনুযায়ী, জাতীয় ও রাজ্য—উভয় ক্ষেত্রের রাজনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আগামী দিনে ত্রিপুরায় দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম ও আন্দোলনের কর্মসূচি কীভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়, সেটিই বৈঠকের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
সামনের নির্বাচন এবং বিধানসভা অধিবেশনকে ঘিরে বিরোধী দলের এই সাংগঠনিক বৈঠন থেকে আগামী দিনে কী ধরনের রাজনৈতিক কর্মসূচি সামনে আসে, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।



