বাসুদেব ভট্টাচার্যী খোয়াই ১২ই ফেব্রুয়ারি.…বিগত বামফ্রন্ট সরকারের আমলে উগ্রবাদীদের দ্বারা রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় গনহত্যা সংঘঠিত করা হয়েছিল।২০১৮ সালে রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠন হবার পর তৎকালীন সময়ে উগ্রবাদীদের দ্বারা নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে খোয়াই মন্ডল এগিয়ে এসে প্রতিনিয়ত নিহতদের নিয়ে স্মরন সভা করে চলেছেন।তেমনি ভাবে ১৯৯৮ সালে এমনই ১২ই ফেব্রুয়ারির রাতে উগ্রবাদীদের তপ্ত বুলেটে খোয়াই পূর্ব গানকি কলোনি এলাকার ৭জন প্রান হারিয়েছিল।সহীদ সেই ৭ জনকে শ্রদ্ধা জানাতে খোয়াই বিজেপি মন্ডলের উদ্যোগে বৃহস্পতিবার পরন্ত বিকেলে খোয়াই পূর্ব গানকি স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত হয় পূর্ব গানকি গনহত্যার স্মরন সভা। উক্ত স্মরন সভায় উৎভোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিধায়ক পিনাকী দাস চৌধুরী। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন মন্ডল সভাপতি অনুকূল দাস , খোয়াই পুর পরিষদের চেয়ারম্যান দেবাশীষ নাথ শর্মা, জেলার সাধারণ সম্পাদক সমীর কুমার দাস, খোয়াই মন্ডের সাধারণ সম্পাদক অনিমেষ নাগ ও রঞ্জন দাস, পূর্ব গানকি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান প্রদীপ মুখার্জি সহ অন্যান্যরা। এছাড়াও শহীদদের স্মরণ সভায় উপস্থিত ছিলেন ঐ দিন উগ্রবাদীদের দ্বারা নিহত সাতটি পরিবারের লোকেরা।এই অনুষ্ঠানের প্রথমে উৎভোধক তথা বিধায়ক পিনাকী দাস চৌধুরী প্রদীপ জ্বালিয়ে এবং শহীদের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে অনুষ্ঠানের সুভারম্ভ করেন।এরপর স্মরন সভার মঞ্চে নিহতদের পরিবারের লোকদের শালের চাদড় ও ফুলের তোড়া দিয়ে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। শেষে শহীদ সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে উৎভোধক পিনাকী দাস চৌধুরী তৎকালীন সময়ে উগ্রবাদীদের দ্বারা নিহতের প্রত্যেকটি হত্যার ঘটনায় বিবরন তুলে ধরতে গিয়ে সি পি আই এম সরকারকে এক হতে নিয় তুলধোন করেন বক্তব্যের প্রথম থেকেই।যে কি ভাবে সি পি আই এম এর মদত পুষ্ট উগ্রবাদীরা রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় এই ধরনের নৃশংস গনহত্যা একের পর এক সংঘঠিত করে ছিল। এরপর তিনি উনার বক্তব্যের শুরুতে প্রথমেই বলেন এখানে যে বক্তব্যটা রাখতে চলেছেন তিনি উনার কথা শুনে এখন সি পি আই এম দলের লোকেরা বলবে সেখানে তো আমাদের পার্টির লোকও ছিল। এই বলে বক্তব্য শুরু করে তিনি বলতে থাকেন তৎকালীন সময়ে সরকার ছিল সি পি এমের এর পরও কেন রাজ্যে একের পর এক গণহত্যা সংঘটিত হয়েছে এর জবাব কে দেবে। যে জবাব দেওয়া সেই তৎকালীন সময়ের বিধায়ক সমীর দেব সরকার বর্তমানে প্রয়াত। এই পূর্ব গানকির গণহত্যাটি ঘটেছিল ১৯৯৮ সালের নির্বাচনের ঠিক কয়েকদিন আগে। কি উদ্দেশ্যে ছিল এই গন হত্যার। তিনি বলেন উদ্দেশ্য একটাই মানুষকে ভয়-ভীতি দেখিয়ে ঘরবন্দী করে রাখাই ছিল সি পি আই এম দলের মূলমন্ত্র। যাকে পাথেয়ে করে একের পর এক গণহত্যা চালিয়ে গেছে উগ্রবাদীদের দ্বারা তৎকালীন সময়ের সি পি এম সরকার। তিনি এও বলেন সি পি এম শুধু গণহত্যার রাজনীতি করে বিগত ২৫ টি বছর শাসন করেছে। তারা একটি সন্ত্রাসবাদী দল। সন্ত্রাস ছাড়া সি পি এম দল কোন কিছুই চোখে মুখে দেখেনা। নির্বাচন থেকে শুরু করে যে কোন ধরনের কর্মকান্ডে তারা হত্যা লীলা ছাড়া কোন কাজ করে না। আর তাদের হাত্যালিলার মাধ্যমেই তারা উজ্জীবিত হয়ে ওঠে। তাইতো দীপঙ্কর নাথ শর্মা থেকে শুরু করে খিতীন্দ্র গোপ, বাদল দেব, দূর্গা মোহন শুক্ল বৈদ্য, সুধাংশু রঞ্জন পাল,অনাথ বন্ধু মালাকার সহ অনেক বিরোধী নেতৃত্বদের খুন করা হয়েছে। তাদের খুন করার উদ্দেশ্য ছিল একটাই বিরোধী নেতৃত্বদের খুন করে ভয় ভীতি প্রদর্শন করা যাতে এই ধরনের ভীতি প্রদর্শন করে জনগণকে দমিয়ে রেখে একচ্ছত্র রাজত্ব করার উদ্দেশ্য ছিল সি পি আই এম দলের। বিগত ২৫ টি বছর তাদের সরকার থাকা সত্বেও তারা ক্ষমতায়, প্রশাসন ও তাদের এরপরও কেন সাধারণ জনগণকে এইভাবে প্রাণ দিতে হয়েছে । এর জবাব সি পি আই এম দলকেই দিতে হবে। উনি বক্তব্য রাখতে গিয়ে আরেকটি কথা বলেন গত কিছুদিন আগে পার্লামেন্টের অধিবেশনে পার্লামেন্টের এক সাংসদ বিরোধী দলনেতার দুটি পা কেটে দিয়েছিল সি পি আই এম দল । বর্তমানে তিনি কৃত্রিম পা দিয়ে চলাফেরা করেন। পার্লামেন্টের অধিবেশনে সেই দুটি কৃত্তিম পা সবার সামনে তুলে ধরেন। এবং বলেন এই দুটি পা তিনি হারিয়েছেন একমাত্র সি পি এমের কারণে। সি পি আই এম দলের গুন্ডাবাহিনীরা ওনার দুটি পা কেটে নিয়ে যায়। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে সি পি আই এম সাধারণ মানুষের কথা কিভাবে চিন্তা করবে ?তারা তো হিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাসী। সাধারণ জনগণের রক্ত না দেখলে যেমন তারা রাজনীতি করতে পারে না তেমন তাদের ঘুমও হয় না। এই ধরনের রাজনীতি করে গেছে গত ২৫ বছরে রাজ্যের সি পি এম সরকার। হিংসা দলাদলি গণহত্যা, হত্যা এইসব কার্যকলাপ করে মানুষকে ভয় দেখিয়ে ভোটের রাজনীতি করে গেছে। তারা সর্বদা ১৯৯৩ সাল থেকে বাঁকা পথে ক্ষমতায় এসেছে। ১৯৯৩ সালে রাষ্ট্রপতি শাসনের মাধ্যমে বাঁকা পথে ক্ষমতায় পুনর দখল করে। এরপর থেকেই শুরু হয় রাজ্যে বিভিন্ন গণহত্যা সহ বিরোধী দলের নেতৃত্বদের একের পর এক খুন করা, উগ্রবাদীদের দ্বারা অপহরণ করা, রাহাজানি, ছিনতাই, ধর্ষণ এই ধরনের নেক্কারজনক ঘটনা চালিয়ে গেছে বিগত দিনগুলিতে। অথচ ২০১৮ সালের পর থেকে এখন পর্যন্ত রাজ্যে বিজেপি সরকার আসার পর কোন উগ্রবাদীদের দ্বারা কোন গণহত্যা হয়নি।এমনকি কোন বিরোধী দলের নেতাদের কেউ হত্যা করা হয়নি। নেই অপহরণ বাণিজ্য এক কথায় বিজেপি সরকারের আমলে রাজ্যে এই ধরনের হিংসাত্মক মূলক কোনো ঘটনাই লিপিবদ্ধ নেই। আর তৎকালীন সময় দেখা গেছে যেসব মানুষ অপহরণ হয়ে যেত তাদেরকে ছাড়িয়ে নেওয়ার জন্য সি পি আই এম দলের লোকেরাই বা বিভিন্ন নেতৃত্বরা সেই উগ্রবাদীদের সাথে নিগোসিয়েট করে অপহরণকারীদের ছাড়িয়া আনত প্রচুর অর্থের বিনিময়ে। তারা যদি রাজ্যে উগ্রবাদী সংস্থাগুলিকে তৈরিই না করে তাহলে উগ্রবাদীদের সাথে তাদের যোগ সাজোস কিভাবে তৈরি হয়েছিল বা কিভাবে চিনতো তাদের প্রশ্নটাই এখনও উঠে আসে। আসলে এই ধরনের ঘটনা রাজ্যে তাদের দ্বারা তৈরি উগ্রবাদী সংস্থাগুলির দ্বারা সুসম্পন্ন করানো হতো। আর এইসব কাজের জন্য ২০১৮ সালে রাজ্য থেকে বামফ্রন্ট সরকারকে রাজ্যের মানুষ চিরতরে সরিয়ে দেয়। আগামী দিন রাজ্য থেকে চিরতরে সিপিএম দলটি মুছে যাবে। এমনকি ২০২৮ সালের নির্বাচনে তাদের আসন সংখ্যা দশ থেকে নেমে পাঁচ সংখ্যায় দাঁড়াবে বলে জানান বিধায়ক পিনাকী দাস চৌধুরী। শুধু তাই না আগামী ২০২৮ সালের নির্বাচনে খোয়াই আসনটিও বিজেপি দল দল তাদের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেবেন বলে জোর গলায় বললেন খোয়াই পূর্ব গানকি স্কুল মাঠে আয়োজিত শহীদ সমাবেশের মঞ্চ থেকে বলে এই ডাক দিয়ে যান বিধায়ক পিনাকী দাস চৌধুরী।



