বাসুদেব ভট্টাচার্যী খোয়াই ১১ই ফেব্রুয়ারি…. বর্তমান সময়ে খোয়াই সাব রেজিস্টার অফিসটি ঘুঘুর বাসাতে পরিণত হয়েছে। বিভিন্ন অভিযোগে জর্জরিত খোয়াইয়ের সব রেজিস্টার অফিস। এমনই একটি অভিযোগ উঠে আসলো সংবাদ মাধ্যমের কাছে।
ঘটনার বিবরন দিয়ে একজন দলিল লেখক সপ্তদীপ আচার্য্য সংবাদ মাধ্যমের কাছে অভিযোগ মূলে জানান জমি কেনা বেচার যে বিষয়টি সেটা নির্ধারিত হয় সম্পূর্ণ অনলাইনের মাধ্যমে। তার মধ্যে খোয়াইতে প্রায় ৩৯ জন দলিল লেখক রয়েছে। যার মধ্যে চারজন দলিল লেখক নিজেরাই অনলাইনের মাধ্যমে দলিলের কপি লিপিবদ্ধ করেন এন্জিনিয়ারেসের মাধ্যমে ২০২০ সাল থেকে অনলাইনের মাধ্যমে দলিল লেখকরা তাদের দলিল জমা করে থাকেন সেই জমির মূল্য নির্ধারণের জন্য সাব রেজিস্টারি অফিসে । কিন্তু দেখা গেছে অনলাইনের সিস্টেমের মাধ্যমে কোন দলিল লেখক যদি কোন গ্রাহকদের জমি কেনা বেচার জন্য দলিল লেখক দলিলের মূল্য নির্ধারণ করে টাকা জমা দিয়ে সেই দলিলকে এন্ট্রি করাতে সাব রেজিস্ট্রি অফিস যায় তখনই সমস্যা সৃষ্টি করে সাব রেজিস্টারি অফিসের দলিল এন্ট্রি করা ব্যক্তি মনিশ কুমার নাথ শর্মা। দেখা যায় দলিল লেখকের সাথে একই অনলাইনে কাজ করা দলিল লেখক গ্রাহকের জায়গায় বিক্রির মূল্যের সাথে খোয়াই সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের একই অনলাইনের মাধ্যমে কাজ করা সে দলিলের মূল্যের তফাৎ হয়ে যায়। যেমন দলিল লেখক গ্রাহকের জমি বিক্রির জন্য অনলাইনে ২ লক্ষ ৯৯হাজার টাকা জমা করেন। কিন্তু জমির মূল্য অনলাইন দেখাচ্ছে ২ লক্ষ ৯৮ হাজার ৫০৬ টাকা , অর্থাৎ দলিল লেখক অতিরিক্ত ৪৯৪ টাকা বেশি জমা দেন।এর পর খোয়াই সাব রেজিস্ট্রারি অফিসের দলিল লিপিবদ্ধ কারি মনিস কুমার নাথ শর্মা সেই দলিল টিকে আন্ডার ভেলূ বলে নাকচ করে দেন। অথচ একজন দলিল লেখক সেই অনলাইনের মাধ্যমে দলিলের মূল্য নির্ধারণ করে অফিসে গেলে সেই অফিসে দলিল নিবন্ধনকারি ব্যক্তি অনলাইনে নাকি আরো অধিক মূল্য দেখায় বলে জানান।অথচ একই অনলাইনের মাধ্যমে এই সব কাজ হয় বলে জানান দলিল লেখক। এখানেই প্রশ্ন উঠছে একই অনলাইনের মাধ্যমে দুইটি জায়গায় কি করে দু’রকম দলিলের মূল্য দেখায় । তানিয়া প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে বিভিন্ন দলিল লেখকদের মধ্যে। শুধু তাই না খোয়াই সাব রেজিস্ট্রি অফিসের দলিল নিবন্ধকারী ব্যক্তি মনোজ কুমার নাথ শর্মা বিভিন্ন দলিল লেখকদের কাছ থেকে উপঢোকন পাবার উদ্দেশ্যে এই ধরনের ঘটনা ঘটিয়া থাকেন। অর্থাৎ যারা উনার কাছেই সরাসরি না গিয়ে নিজেরা দলিল অনলাইনে জমা করে উনার কাছে অর্থাৎ মনোজ কুমার নাথ সর্মার কাছে গেলেই তিনি এই ধরনের ভুল ভ্রান্তি ধরিয়ে দেন। শুধু তাই না বিভিন্ন ধরনের ভুল ভ্রান্তি ধরিয়ে দিয়ে কিছু মুনাফা কামানোর উদ্দেশ্য উদ্দেশ্য প্রণেদিত ভাবে এই ধরনের কাজ গুলি করে চলেছেন বিগত দেড় বছর ধরে। বিভিন্ন মহল থেকে শোনা যায় খোয়াই সাব রেজিস্ট্রি অফিসটি বর্তমানে ঘুগুর বাসায় পরিণত হয়ে রয়েছে। কোন দলিল লেখক সরাসরি সাব-রেজিস্ট্রির অফিসে দলিল জমা না করালে ব্যক্তিগত ইস্যু নিয়ে সেই দলিলের ভুল ভ্রান্তি ধরিয়ে দলিল জমা করেননা বলে এই অভিযোগটি করেন দলিল লেখক সপ্তদ্বীপ আচার্জী। সেই পদ্ধতিতে তিনি একটি দলিল খোয়াই সাব রেজিস্ট্রি অফিসে জমা করতে গেলে উনার সাথেও একই ব্যবহার করেন মনোজ কুমার নাথ শর্মা। শেষে বিষয়টিকে নিয়ে খোয়াই সাব রেজিস্ট্রি অফিসের অফিসার বেলজিয়াম দেববর্মার কাছে গেলে তিনি বিষয়টিকে দেখে দলিলে জমা করার জন্য অনুমতি দিয়ে দেন। কিন্তু পুনরায় সাব রেজিস্ট্রি অফিসের নিবন্ধন কারি মনোজ কুমারের কাছে গেলে বিষয়টিকে তিনি একজন সরকারি আধিকারিকের ঊর্ধ্বে গিয়ে নাকচ করে দেন। এরপর বিষয়টিকে খোয়াই মহাকুমার সাব-রেজিস্ট্রি অফিসার শ্রীমতি সালকা মেরি দেববর্মার কাছে নিয়ে গেলেও তিনি কোনো কারণবশত সেই দলিলটিকে অনুমতি দেয়নি। দেখা গেছে খোয়াই সাব রেজিস্ট্রেশন অফিসের দলিল নিবন্ধ কারি মনিশ কুমার নাথ শর্মা, সাব রেজিস্টার অফিসার সালকা মেরি দেববর্মা, এবং অফিসার বেলজিয়াম দেববর্মা সবাই একই সূত্রে বাঁধা। এই কারণে যে অনলাইন এর একই জিনিস দুই জায়গায় কি করে দুই রকম দলিলের মূল্য দেখায়। আর খোয়াই সাব রেজিস্ট্রি অফিসের দলিল লিপিবদ্ধকারি থেকে শুরু করে সবাই বিভিন্নভাবে অতিরিক্ত মুনাফা আদায়ের উদ্দেশ্যে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই ধরনের কাজ গত দেড় বছর ধরে প্রতিনিয়ত করে চলেছে বলে বিভিন্ন মহল থেকে জানা যায। শুধু তাই নয় দলিল নিবন্ধন কারি মনিস কুমার নাথ শর্মা জমির মালিককে ডেকে নিয়ে একপ্রকার হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে বলেন এ দামে জমির অনলাইন নিবন্ধন না করলে বেশ কয়েক বছর লাগবে।এর জন্য সেই দলিল টিকে পাঠিয়ে দেওয়া হবে ডি সি এম এর কাছে এই বলে তাদের ভয় দেখিয়েছে বলে জানা যায়। এছাড়া ২০২০ সালে এঞ্জিনিয়ারেসের নিয়ম অনুযায়ী বাটা দাগের দলিল বের করার জন্য প্রত্যেকটি সাব রেজিস্ট্রারি অফিসে একটি আসে যাতে জমির মালিকরা বাটা দাগের জমির দলিল পেয়ে যায়। কিন্তু সেই অনুমতি পত্র বা চিঠিটি হাইড করে রাখেন দলিল নিবন্ধন কারি মনিস কুমার নাথ শর্মা এবং তার ফায়দা লুটতে প্রত্যেকটি বাটা দলিল গ্রাহকরা তুলতে গেলে তাদের কাছ থেকে ৫০০ থেকে এক হাজার টাকা করে নেন বলেও জানাযায়।এই বিষয়ে দলিল লেখক চাইছেন অনলাইনের এই পদ্ধতিতে কি ধরনের ভূলভ্রান্তি রয়েছে যা বের করূক উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষরা। এছাড়া খোয়াই সাব রেজিস্ট্রার অফিসের দলিল নিবন্ধন কারি মনিস কুমার নাথ শর্মার কারনে নিজের পকেট থেকে ২৪০০০ টাকা দিয়েছেন অন্য আরেকজন দলিল লেখককে দিয়ে সেই দলিল টি করানোর জন্য। কারন দলিলটি পুনরায় নিবন্ধন করতে গেলে সেই একই ঘটনা ঘটবে দলিল লেখক সপ্তদীপ আচার্য্যর সাথে। খোয়াই সাব রেজিস্ট্রার অফিসের দলিল নিবন্ধন কারি মনিস কুমার নাথ শর্মা একপ্রকার দলিল লেখক সপ্তদীপ আচার্য্যর ব্যাবসা ও উনার পেটে লাথি মেরেছেন বলে আক্ষেপের সহিত জানান। তাতে করে দলিল লেখক বর্তমান সময়ে পয়সায় অভাবে অতিকষ্টে দিনযাপন করছেন বলে জানান।



