Friday, February 13, 2026
বাড়িখবররাজ্যবাল্যবিবাহ ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা আজও সমাজের অগ্রগতির পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়ে আছে:...

বাল্যবিবাহ ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা আজও সমাজের অগ্রগতির পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়ে আছে: সমাজ কল্যাণ মন্ত্রী

বাল্যবিবাহ মুক্ত ভারতের মূল লক্ষ্য হল সমাজ থেকে বাল্যবিবাহ সম্পূর্ণভাবে নির্মূল করা এবং প্রতিটি শিশুকে একটি নিরাপদ, পদমর্যাদাপূর্ণ ও সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ উপহার দেওয়া। আজ পোলো টাওয়ারর্স হোটেলে সমাজকল্যাণ ও সমাজ শিক্ষা দপ্তরের উদ্যোগে আয়োজিত রাজ্যভিত্তিক ‘বাল্যবিবাহ মুক্ত ভারত এবং লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা’ শীর্ষক সচেতনতামূলক কর্মসূচির উদ্বোধন করে সমাজ কল্যাণ ও সমাজ শিক্ষা মন্ত্রী টিংকু রায় একথা বলেন। তিনি বলেন, বাল্যবিবাহ ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা এই দুটি সমাজিক ব্যাধি আজও আমাদের সমাজের অগ্রগতির পথে বিরাট বাধা হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। বাল্যবিবাহ শিশুদের শিক্ষা, সুস্বাস্থ্যের অধিকার থেকে বঞ্চিত করে তাদের ভবিষ্যতকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেয়। সেইসাথে নারী বা কন্যা শিশুদের সাথে ঘটা সহিংসমূলক আচরণও সুস্থ সমাজ গঠনের এক বৃহৎ অন্তরায়। তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায় পরিবারের মধ্যেই কন্যা শিশু ও পুত্র শিশুদের মধ্যে ভেদাভেদ তৈরী করা হয়ে থাকে। একটি সুস্থ সমাজ গঠন করতে গেলে আমাদের এই পারিবারিক বিভেদ থেকেও বেরিয়ে আসতে হবে। কঠোর আইন প্রয়োগ করে লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে এবং সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করে বাল্য বিবাহ বন্ধ করতে হবে।

সমাজশিক্ষামন্ত্রী টিংকু রায় বলেন, সরকার রাজ্যের নানা প্রান্তে নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ৮টি জেলায় ৯টি সখি ওয়ান স্টপ সেন্টার চালু করেছে। পশ্চিম ত্রিপুরা জেলায় নতুন করে আরও একটি এই ধরণের সেন্টার চালু করা হবে। মোট ১০টি সেন্টার রাজ্যের নারী ও শিশুর নিরাপত্তার কাজ করবে। কর্মসূচি সফল করতে গেলে সমাজের প্রতি স্তরের জনগণকে এই কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতে হবে। কারণ প্রতিটি পরিবার, পাড়া প্রতিবেশী সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিগণ এই কর্মসূচিতে এগিয়ে না এলে এই সামাজিক ব্যাধি সমাজ থেকে নির্মূল করা সম্ভব হবে না।

অনুষ্ঠানে ত্রিপুরা শিশু সুরক্ষা ও অধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান জয়ন্তী দেববর্মা বলেন, রাজ্যে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ করতে এবং শিশু সুরক্ষা দেওয়ার জন্য আইনী পদক্ষেপের পাশাপাশি আমাদের সমাজের প্রত্যেককে বাল্যবিবাহ মুক্ত ভারত নির্মাণ কর্মসূচিতে এগিয়ে আসতে হবে। সর্বাগ্রে প্রতিটি পরিবারের অভিভাবকদের এই বিষয়ে সচেতন করতে হবে। ত্রিপুরা মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন ঝর্ণা দেববর্মা অনুষ্ঠানে বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুরক্ষিত করতে গেলে শ্রেষ্ঠ ভারত ও শ্রেষ্ঠ ত্রিপুরা গড়তে গেলে আমাদের পুত্র-কন্যা সন্তান বিভেদ ভুলে যেতে হবে। কন্যা সন্তানকে আরও বেশি করে সুবিধা প্রদান করে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সমাজ কল্যাণ ও সমাজ শিক্ষা দপ্তরের সচিব তাপস রায়। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সমাজ কল্যাণ ও সমাজ শিক্ষা দপ্তরের অধিকর্তা তপন কুমার দাস। এছাড়া অনুষ্ঠানে বাল্য বিবাহ প্রতিরোধের বিভিন্ন আইনগত বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন আইন দপ্তরের এএলসি এবং অবর সচিব দীপান্বিতা গাঙ্গুলী। লিঙ্গ ভিত্তিক সহিংসতার বিষয় নিয়ে অনুষ্ঠানে আলোচনা করেন ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইকোলজি বিভাগের প্রফেসর অঞ্জনা ভট্টাচার্য। এছাড়া অনুষ্ঠানে ধর্মীয় প্রতিনিধিদের মধ্যে ত্রিপুরা খ্রীষ্টান ইউনিয়নের কার্যকরি সচিব সিদ্ধার্থ মলসুম, ইসলামিক শিক্ষাবিদ ড. মোস্তফা কামাল এবং বৈদিক ব্রাক্ষ্মণ সমাজের প্রতিনিধি উত্তম চক্রবর্তীও এই বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ বিষয়ে বিস্তারিত পরামর্শমূলক আলোচনা করেন। অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী কন্যা বিবাহ যোজনা প্রকল্পে ১৮ বছর উর্দ্ধ বয়সী দুঃস্থ পরিবারের মুন্না দাসকে তার বিয়ে উপলক্ষ্যে ৫০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বালিকা সমৃদ্ধি যোজনায় অন্ত্যোদয় পরিবারের দুই শিশু কন্যাকে ৫০ হাজার টাকার ফিক্সড ডিপোজিট সার্টিফিকেট দেওয়া হয়েছে। সমাজ কল্যাণ ও সমাজ শিক্ষা মন্ত্রী টিংকু রায় ও অন্যান্য অতিথিগণ তাদের হাতে এই আর্থিক সহায়তার চেক ও সার্টিফিকেট তুলে দেন। অনুষ্ঠানে ধন্যবাদ জানিয়ে বক্তব্য রাখেন সমাজ কল্যাণ ও সমাজ শিক্ষা দপ্তরের অতিরিক্ত অধিকর্তা এল রাখল।

RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

20 − seven =

- Advertisment -spot_img

জনপ্রিয় খবর

সাম্প্রতিক মন্তব্য