Friday, February 13, 2026
বাড়িখবররাজ্যবর্তমান রাজ্য সরকার ত্রিপুরাকে সকলের সহযোগিতায় শ্রেষ্ঠ রাজ্য হিসেবে গড়ে তোলার প্রয়াস...

বর্তমান রাজ্য সরকার ত্রিপুরাকে সকলের সহযোগিতায় শ্রেষ্ঠ রাজ্য হিসেবে গড়ে তোলার প্রয়াস নিয়েছে: অর্থমন্ত্রী

যে কোনও রাজ্যের অর্থনীতির মূল ভিত্তি হলো শিল্প এবং বাণিজ্য। তবে আমাদের রাজ্য আজ শুধু শিল্পে নয়, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, খেলাধুলা, কৃষি, আই.টি. প্রভৃতি ক্ষেত্রে এগিয়ে চলেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ২০৪৭ সালের মধ্যে আত্মনির্ভর ভারত গড়ার যে প্রয়াস নিয়েছেন তার প্রদর্শিত পথে রাজ্যও এগিয়ে চলেছে। আজ হাঁপানিয়াস্থিত আন্তর্জাতিক মেলা প্রাঙ্গণে ৩৬তম ত্রিপুরা শিল্প ও বাণিজ্য মেলার সমাপ্তি অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি অর্থমন্ত্রী প্রণজিৎ সিংহ রায় একথা বলেন। ১৫ দিনব্যাপী শিল্প ও বাণিজ্য মেলা আজ শেষ হয়েছে।

প্রধান অতিথির ভাষণে অর্থমন্ত্রী প্রণজিৎ সিংহ রায় বলেন, ২০১৮ সালের পর থেকে রাজ্যে বহিরাজ্যের শিল্পোদ্যোগীদের আগমন বাড়ছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পরামর্শে এই রাজ্যে
পর্যটন সার্কিট গড়ে তোলার প্রয়াস নেওয়া হয়েছে। ত্রিপুরা আজ আই.টি. সেক্টরে দারুণভাবে এগিয়ে চলেছে। ৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ে আই.টি. পার্ক গড়ে তোলার প্রয়াস নেওয়া হয়েছে। অর্থমন্ত্রী বলেন, সচিবালয়, বিধানসভা থেকে শুরু করে জেলা, মহকুমা, গ্রাম পঞ্চায়েত ও ভিলেজ কাউন্সিল পর্যন্ত ডিজিটাল ব্যবস্থা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা প্রবাসী ভারতীয় ব্যবসায়ীদের এই রাজ্যে আসার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমান রাজ্য সরকার ত্রিপুরাকে সকলের সহযোগিতায় শ্রেষ্ঠ রাজ্য হিসেবে গড়ে তোলার প্রয়াস নিয়েছে।

অনুষ্ঠানে সভাপতির ভাষণে শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী সান্ত্বনা চাকমা বলেন, যারা বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানের সাথে যুক্ত রয়েছেন তারা কিভাবে নিজেদের অবস্থা আরও সুদৃঢ় করতে পারেন সে লক্ষ্যে রাজ্য সরকার কাজ করছে। তিনি বলেন, আগে রাজ্যে বিভিন্ন ক্ষুদ্র শিল্প উপেক্ষিত ছিল। বর্তমানে বিভিন্ন প্রকল্প চালুর মধ্য দিয়ে ক্ষুদ্র শিল্পকে নানাভাবে উৎসাহিত করা হচ্ছে। তিনি বলেন, আমরা চাই সবার সহযোগিতায় আত্মনির্ভর ভারত এবং আত্মনির্ভর ত্রিপুরা গড়ে উঠুক।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে যুব বিষয়ক ও ক্রীড়ামন্ত্রী টিংকু রায় বলেন, স্কিল ইন্ডিয়া, মেক ইন ইন্ডিয়া আজ শুধু স্লোগান নয়, এটি আমাদের দেশে বাস্তবায়নেরও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রাজ্য হিসেবে ত্রিপুরা ছোট হলেও বর্তমানে এম.এস.এম.ই-র উন্নয়নে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। রাজ্যে বর্তমানে ৫০ হাজারের উপর স্বসহায়ক গোষ্ঠী রয়েছে। গত কয়েক বছরে এগুলিকে ১৫ কোটি টাকার উপর ঋণ দেওয়া হয়েছে। রাজ্যে বর্তমানে ১ লক্ষ ১৫ হাজার ৯১০ জনকে এম.এস.এম.ই.-র রেজিস্ট্রেশন করা হয়েছে। নতুন ১৩ হাজার যুবক যুবতীকে বিভিন্ন শিল্পের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। তাদের ৩৭০ কোটি টাকা ঋণ হিসেবে দেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তপশিলি জাতি কল্যাণমন্ত্রী সুধাংশু দাস, বিধায়ক মিনারাণী সরকার, টি.এস.আই.সি.-এর চেয়ারম্যান বিধায়ক শম্ভুলাল চাকমা, টি.আই.ডি.সি.-র চেয়ারম্যান নবাদল বণিক, টি.টি.ডি.সি.-র চেয়ারম্যান সমীর রঞ্জন ঘোষ, শিল্প ও বাণিজ্য দপ্তরের সচিব কিরণ গিত্যে
প্রমুখ। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন শিল্প ও বাণিজ্য দপ্তরের অধিকর্তা ড. দীপক কুমার। সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে বক্তব্য রাখেন শিল্প ও বাণিজ্য দপ্তরের অতিরিক্ত অধিকর্তা সব্যসাচী দেববর্মা। অনুষ্ঠানে অতিথিগণ শিল্পোদ্যোগীদের পুরস্কৃত করেন।

RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

five − 2 =

- Advertisment -spot_img

জনপ্রিয় খবর

সাম্প্রতিক মন্তব্য