Tuesday, February 10, 2026
বাড়িখবররাজ্যআগামীকাল স্বামী বিবেকানন্দ ময়দানে বিভিন্ন গ্রামোন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন: পঞ্চায়েত মন্ত্রী

আগামীকাল স্বামী বিবেকানন্দ ময়দানে বিভিন্ন গ্রামোন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন: পঞ্চায়েত মন্ত্রী

‘বিকশিত ভারত-জি রাম জি আইন ২০২৫ প্রণয়নের উপলক্ষ্যে আগামীকাল সকাল সাড়ে ১১টায় স্বামী বিবেকানন্দ ময়দানে জনপ্রতিনিধি সম্মেলন এবং বিভিন্ন গ্রামোন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও লাভার্থী সম্মাননা’ অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করবেন কেন্দ্রীয় গ্রামীণ উন্নয়ন, কৃষি ও কৃষক কল্যাণ মন্ত্রকের মন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা। আজ স্বামী বিবেকানন্দ ময়দানে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে পঞ্চায়েত মন্ত্রী কিশোর বর্মণ এই সংবাদ জানান। তিনি আরও জানান, অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় গ্রামীণ উন্নয়ন, কৃষি ও কৃষক কল্যাণ মন্ত্রকের মন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান ভার্চুয়ালি গ্রামোন্নয়ন দপ্তর ও ত্রিপুরা গ্রামীণ আজীবিকা মিশনের ৫৪৬.৭৯ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৭৯টি প্রজেক্টের শিলান্যাস ও উদ্বোধন করবেন। এছাড়া রাজ্যের যেসকল সুবিধাভোগী বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা পেয়েছেন এমন লাভার্থীদের সম্মাননা জ্ঞাপন করবেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে লোকসভার সাংসদগণ, রাজ্যসভার সাংসদ ছাড়াও রাজ্য মন্ত্রিসভার সদস্যগণ, বিধায়কগণ সহ ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েতের জনপ্রতিনিধিগণ উপস্থিত থাকবেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন পঞ্চায়েত দপ্তরের মন্ত্রী কিশোর বর্মণ।

সাংবাদিক সম্মেলনে পঞ্চায়েত মন্ত্রী জানান, আগামীকাল রাজ্যবাসীর জন্য এক ঐতিহাসিক দিন। তিনি বলেন, বিকশিত ভারত-জি রাম জি আইন ২০২৫ ভারতের উন্নয়নে ঐতিহাসিক দিক নির্দেশ করবে। এই নতুন আইনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ২০৪৭সালের মধ্যে বিকশিত ভারত গড়ার যে প্রয়াস নিয়েছেন সে লক্ষ্য পূরণে আমরা এগিয়ে যাব। এ লক্ষ্যেই এবারের বাজেটে বিকশিত ভারত-জি রাম জি আইন ২০২৫ চালু করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন এই আইনের মাধ্যমে দেশের ২৫ কোটি মানুষকে দারিদ্র সীমারেখার নীচ থেকে উপরে তোলার জন্য বাজেটে সংস্থান রেখেছেন। তিনি বলেন, বিকশিত গ্রাম গড়ে তোলার জন্য দেশে বিকশিত ভারত-জি রাম জি আইন ২০২৫ চালু করা হয়েছে। এই আইনে ১২৫ দিনের গ্রামীণ কাজের সংস্থান রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, রাজ্যের ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো এধরণের অনুষ্ঠান হতে যাচ্ছে। গ্রামীণ এলাকায় যারা বসবাস করেন এই আইনের মাধ্যমে তাদের আর্থসামাজিক উন্নয়নের গতি ত্বরান্বিত হবে। তিনি বলেন, ২০০৫ সালে এমজিএন রেগা প্রকল্প দেশে চালু করা হয়। এমজিএন রেগায় কিছু ত্রুটি বিচ্যুতি ছিল। এই ত্রুটি বিচ্যুতি দূর করে গ্রামীণ মানুষের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই নতুন আইন দেশে চালু করা হয়েছে। তিনি বলেন, আগে এমজিএন রেগায় ১০০ দিনের কাজের সংস্থান ছিল। এই নতুন আইনে ১২৫ দিনের কাজের গ্যারান্টি রাখা হয়েছে।

গ্রামস্তরে কী কী স্থায়ী সম্পদ সৃষ্টি করা হবে, কতজন শ্রমিক কাজ করছেন তা অনলাইনে মনিটরিং করা হবে। তিনি বলেন, এমজিএন রেগায় শ্রমদিবস এবং জবকার্ড-র বিষয়ে দুর্নীতি হতো। ১০০ দিনের কাজের সংস্থান থাকলেও তা যথাযথভাবে কার্যকর করা হতনা। তাই দেশকে দুর্নীতি মুক্ত করার জন্যই বিকশিত ভারত-জি রাম জি আইন ২০২৫ প্রণয়ণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, আগে এমজিএন রেগাতে পঞ্চায়েত থেকে কাজ দেওয়া হত। এখন বিকশিত ভারত-জি রাম জি আইন ২০২৫ অনুসারে গ্রামসভার মাধ্যমে কাজ দেওয়া হবে। এতে কাজের ক্ষেত্রে দায়বদ্ধতাও থাকবে। এই আইনে কাজের পরিধিও বাড়ানো হয়েছে। অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র নির্মাণ ও সংস্কার, ত্রিপুরা গ্রামীণ আজীবিকা মিশনের স্থায়ী সম্পদ সৃষ্টি, পানীয় জল, পঞ্চায়েতের রাস্তাঘাট নির্মাণ ও সংস্কার অর্থাৎ সব ধরণের কাজের সংস্থান রাখা হয়েছে। পঞ্চায়েত মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন এই নতুন আইনে বিকশিত ভারতের সাথে নতুন ত্রিপুরাও গড়ে উঠবে। এজন্য তিনি রাজ্যবাসীর সহায়তা কামনা করেন। এছাড়াও সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন গ্রামোন্নয়ন দপ্তরের সচিব অভিষেক সিং ও গ্রামোন্নয়ন দপ্তরের অতিরিক্ত সচিব কুন্তল দাস।

RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

two + 4 =

- Advertisment -spot_img

জনপ্রিয় খবর

সাম্প্রতিক মন্তব্য