বাসুদেব ভট্টাচার্যী খোয়াই ৮ই ফেব্রুয়ারি……বিকলাঙ্গের জাল সার্টিফিকেট দেখিয়ে খোয়াই জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের অন্তর্গত এম পি ডব্লিউ পদে কর্মরত এক স্বাস্থ্য কর্মী সাস্থ দপ্তরের সাথে পয়সায় বিনিময়ে ধারাবাহিকভাবে প্রতারনা করে চলেছে। ঐ এমপি ডব্লিউ পদে কর্মরত কর্মীর নাম সোমেন দেবনাথ, পিতা মৃত রাখাল দেবনাথ। বাড়ি খোয়াই এর জাম্বুরা গ্রামে। জানা যায় এমপি ডাব্লিউ পদে কর্মরত সোমেন দেবনাথ গত ৪ থেকে ৫ বছর আগে সড়ক দুর্ঘটনার কবলে পড়ে হাঁটুতে ব্যথা পান। যথারীতি চিকিৎসা চলে চিকিৎসার পর সুস্থ হয়েও ওঠেন তিনি। এর পরবর্তীতে ওই এম পি ডব্লিউ সোমেন দেবনাথ কৌশল করে ৬০ শতাংশ প্রতিবন্ধী হিসাবে একটি প্রতিবন্ধী সার্টিফিকেট বের করেন আগরতলা থেকে কোন সুত্র মারফত পয়সায় বিনিময়ে। সূত্রের খবর অনুযায়ী জানা যায় সুচতুর ভাবে সোমেন দেবনাথ এই প্রতিবন্ধী সার্টিফিকেট দেখিয়ে স্বাস্থ্য দপ্তরকে বোকা বানিয়ে, ধোঁকা দিয়ে কৌশলে অতিরিক্ত ভাতা বাগিয়ে নেন তার দপ্তর থেকে। সূত্রের খবর অনুসারে এও জানাযায় এম পি ডব্লিউ পথ থেকে মাল্টিপারপাসের সুপারভাইজার পদের ইতিমধ্যে প্রমোশনাল তালিকা জারি হয়। সুচতুর সোমেন দেবনাথ ওই বিকলাঙ্গ সার্টিফিকেট দেখিয়ে হাইকোর্টে মামলা পর্যন্ত করেন, বিকলাঙ্গের কৌটায় উনাকে প্রমোশন দেবার জন্য। যদিও বর্তমানে মামলাটি হাইকোর্টে চলছে বলে জানা যায়। পরবর্তী সময়ে স্বাস্থ্য দপ্তরের নজরে আসে সোমেন দেবনাথের বিকলাঙ্গ সার্টিফিকেটের বিষয়টি ।এই বিষয়টি আসতেই তৎকালীন সময়ের খোয়াই জেলা স্বাস্থ্য আধিকারিক নির্মল সরকার বিকলাঙ্গের অতিরিক্ত ভাতা বদ্ধ করে দেন এবং উনাকে এই ধরনের অপরাধমূলক কাজ না করার জন্য সতর্ক ও করে দেওয়া হয়। ওই সময় বিপদে পড়ে সোমেন দপ্তরের বড় আধিকারিকদের হাতে পায়ে ধরে ক্ষমা চেয়ে সেই যাত্রায় পার পেয়ে যান। কিন্তু তিনি দমবার পাত্র ছিলেন না । জালিয়াতি উনার স্বভাব সিদ্ধ কর্ম ও জন্ম সিদ্ধ অধিকার ! এর পরবর্তীতে এম পি ডব্লিউ পদে কর্মরত সোমেন দেবনাথ আগরতলা জিবি হাসপাতালের বিকলাঙ্গ স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে গত ২৬/০৬/২০২৪ তারিখে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করিয়ে ৩০ শতাংশ বিকলাঙ্গ হিসাবে চিহ্নিত হন। এবং উনাকে ৩০ শতাংশ বিকলাঙ্গের সার্টিফিকেট দেওয়া হয়। আগরতলা জিবি হাসপাতালের বিকলাঙ্গ বিভাগের চিকিৎসকরা যদিও সোমেন দেবনাথকে বলেছিল এক বছর পরে আবার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করিয়ে বিকলাঙ্গ সার্টিফিকেটটি রিনিউ করার জন্য। কিন্তু এখানে আশ্চর্যের বিষয় হল সোমেন দেবনাথ স্বাস্থ্য দপ্তরকে এক প্রকার ধোঁকা দিয়ে পুনরায় অর্থাৎ তিন মাস পরে গত ০৫/০৯/২০২৪ তারিখে আবার আগরতলা জি বি হাসপাতাল সংলগ্ন শ্যামলী বাজার স্থিত ডি ডি আর সি তে গিয়ে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে আবার ৪০ শতাংশ বিকলাঙ্গ সার্টিফিকেট বের করে আনেন । এই ভাবে স্বাস্থ্য দপ্তরকে বারবার বোকা বানিয়ে মোটা টাকার বিনিময়ে জাল বিকলাঙ্গ সার্টিফিকেট বের করে বহাল তবিয়তে রয়েছেন বিকলাঙ্গ ভেক ধারী সোমেন দেবনাথ।
জনমনে প্রশ্ন উঠছে জিবি হাসপাতাল থেকে ৩০ শতাংশ বিকলাঙ্গ সার্টিফিকেট দেওয়ার পরও কি মতলব নিয়ে আবার তিন মাসের মধ্যেই ৪০ শতাংশ বিকলাঙ্গ সার্টিফিকেট বের করে আনেন তিনি। যা এক সম্পূর্ণ অনৈতিক ও অবৈধ জাল সার্টিফিকেট। মূল কারণ হলো উনি ওই ৪০ শতাংশ বিকলাঙ্গ সার্টিফিকেট কে নিজের রক্ষাকবচ হিসেবে ব্যবহার করছেন উনার সুপারভাইজার পদে প্রমোশনের জন্য এবং সমস্ত রকম সরকারি সুবিধা আদায় করার জন্য এবং অবসর কালিন সময় পর্যন্ত অর্থাৎ ৬০ বছর অবধি ওনার বাড়ির কাছের জাম্বুরা উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে চাকরি করার উদ্দেশ্যে। শুধু তাই নয় জাল সার্টিফিকেট ধারি সোমেন দেবনাথের ব্যাপক উদ্ধত্বের কারণে অতিষ্ঠ তার স্বাস্থ্য দপ্তরের সমস্ত কর্মীরা।এই সোমেন দেবনাথ কে খোয়াই শহর সহ আশেপাশের এলাকাতে দ্বিচক্র যান নিয়ে ঘোরাফেরা করতে প্রায়ই দেখা যায় এই সোমেন দেবনাথ কে। একজন প্রতিবন্ধী নাগরিক হিসেবে কোন ভাবেই বুঝার কোন উপায় নেই। দিব্যি ঘোরাফেরা করছেন , দিব্যি হাঁটাচলা করছেন ! অন্যদিকে চল্লিশ শতাংশ কেন এমনকি ৫ শতাংশ প্রতিবন্ধী হওয়ার কোন সুযোগ বা লক্ষণ ওই সোমেন দেবনাথের নেই,বা বুঝার কোন সুযোগ নেই। বিভিন্ন মহলের প্রশ্ন ৪০ শতাংশ বা ৩০ শতাংশ প্রতিবন্ধী নাগরিক কিভাবে সুস্থ স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করেন ।অথচ প্রতিবন্ধী দপ্তর গুলি বারবার তাকে প্রতিবন্ধী সার্টিফিকেট দিচ্ছেন। অন্যদিকে একজন ত্রিশ শতাংশ বা ৪০ শতাংশ প্রতিবন্ধী স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারেনা যার জন্য লাঠি বা ক্রাচ ব্যবহার করতে হয়,যা স্বাভাবিকভাবে দেখা যায়। অন্যদিকে সোমেন দেবনাথ প্রতিদিন উনার নিজের রাবার বাগান থেকে রাবারের শিট বোঝাই করে বাইক নিয়ে চলাফেরা করতে দেখা যায়। এই সমস্ত ঘটনাগুলির পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন মহল থেকে অভিযোগ উঠছে, খোয়াই জেলায় ডি ডি আর সি থাকা সত্ত্বেও কেন আগরতলা থেকে বিকলাঙ্গ সার্টিফিকেট আনতে হলো এই সৌমেন দেবনাথ কে। বিভিন্ন মহলের অভিযোগ নিশ্চয়ই বড় রকমের অর্থনৈতিক লেনদেনের মাধ্যমে জাল সার্টিফিকেটগুলি সংগ্রহ করেছেন এই এমপি ডাব্লিউ কর্মী সোমেন দেবনাথ ।এখন দেখার এই বিষয় স্বাস্থ্য দপ্তরের নকল প্রতিবন্ধী সার্টিফিকেটধারী সোমেন দেবনাথ এর বিরুদ্ধে নকল সার্টিফিকেট বাতিল সহ স্বাস্থ্য দপ্তরের সহিত জালিয়াতি করার পরিপ্রেক্ষিতে কিধরনের শাস্তি প্রদানের ব্যবস্থা করেন সেই দিকে তাকিয়ে রয়েছে খোয়াই বাসি।



