বাসুদেব ভট্টাচার্যী খোয়াই ৭ই ফেব্রুয়ারি…..শনিবার সকাল ১১টায় আগরতলা প্রেসক্লাবে উৎভোধন হল শ্রী সারদা সংঘের। ব্যাবস্থাপনায় ছিলেন আগরতলা সার্কিট হাউজ শাখা।।এই অনুষ্ঠানের উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাঁচি থেকে আগত সারদা সংঘের সারা ভারতের সাধারণ সম্পাদিকা শ্রীমতি শিপ্রা সহায়। এছাড়া অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জ্যোতির্ময়ী মাতা শ্রীমতী অনিতা সাহা, নির্মাল্য মাতাজী শ্রীমতি মহুয়া দত্ত, প্রজ্ঞা মাতাজী শ্রীমতি সোমা চক্রবর্তী, মাতাজী শ্রীমতি ব্রততী দাস। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন এই শারজা সংঘের সম্পাদীকা শ্রীমতি অনুলা ভট্টাচার্য, সভাপতি শ্রীমতি শিপ্রা মজুমদার,সর্ব ভারতীয় একজুকেটিভ মেম্বার বিথী ভট্টাচার্য সহ সংস্থার অন্যান্য সদস্যারা উপস্থিত ছিলেন। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিরা মা সারদার কৃপা কিভাবে উনার সন্তানদের উপর বর্ষিত করেন সেই বিষয়ে ব্যাখ্যা করেন। এবং অনুষ্ঠানে এই সংঘর পক্ষ থেকে একক এবং সমবেত সংগীত পরিবেশন করা হয় সংঘের সম্পাদীকা অনুলা ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে।শেষে অনুষ্ঠানের উদ্বোধক শ্রীমতী সিপরা সহায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রথমে শ্রী শ্রী ঠাকুর রামকৃষ্ণের জীবনের একটি গল্প উল্লেখ করতে গিয়ে বলেন একবার তৎকালীন সময়ে কোলকাতার ষ্টার থীয়েটার নাটক দেখতে গিয়ে ছিলেন ঠাকুর রামকৃষ্ণ দেব। প্রক্ষাত নাট্যকার গিরিশ ঘোষের নাটক নটি বিনোদিনী। তার জন্য ঠাকুর রামকৃষ্ণ দেব সেজে গুজে তৈরি হয়ে ঘোড়ার গাড়িতে চড়ে থিয়েটারে পৌছেন।আর অন্য দিকে গিরিশ ঘোষে জানতেন ঠাকুর টাকা পয়সা থেকে দূরে থাকেন ওনার মতে টাকা মাটি মাটিই টাকা…এবং তা স্পর্শ করতেন না।যা ভেবে গিরিশ ঘোষ পরিকল্পনা করেন বিনে পয়সায় ঠাকুরকে থীয়েটার দেখতে দেবেননা।যেমন ভাবনা তেমন কাজ হলের দরজায় গিরিশ ঘোষ ঠাকুর কে আটকে বলেন টাকা ছাড়া নাটক দেখা যাবেনা।এর পর যাইহোক শেষে গিরিশ ঘোষ ঠাকুরকে ষোলো আনা দিয়ে টিকিট কেটে দেন।এর পর ঠাকুরের কৃপায় গিরিশ ঘোষ জীবনের উন্নতিতে উনার ষোলো আনা পূর্ন করেদেন ঠাকুর।এরপর থেকে গিরিশ ঘোষ মদ্যপান করাও ছেড়ে দেন এবং ঠাকুরের মধ্যে তিনি ভগবান কে দেখতে পেয়েছিলেন।এই হল ঠাকুরের কৃপা।এর পর মা সারদাময়ীর কথা উল্লেখ করতে গিয়ে তিনি বলেন মার কৃপা যে আমাদের উপর কিভাবে বর্ষিত হয় যা বলে বা ব্যাক্ষা করে বুঝানো যাবে না। তিনি এও বলেন মা যে আমাদের পাশে সর্বদা থাকেন এর অনেক উপমা আছে, তিনি সন্তানদের রক্ষার জন্য সর্বদা সচেষ্ট থাকেন। আমাদের মা ছাড়া কোন উপায় নেই। উঠতে বসতে মা মা করি বলেই মাও সেই সন্তানের ডাকে সারা দেন।তাই সর্বদা মার মুখ নিশৃত বানি গুলি আমাদের সবার মেনে চলতে হবে। তাহলেই প্রকৃত অর্থে আমরা মার কথা গুলি স্মরণ করে উনার দেখানো পথে চলব।সারদা মা জগতের মা ,তাই সমস্ত জগতের কল্যাণার্থে সর্বদা তিনি তার সন্তানদের রক্ষার এবং কল্যাণের জন্য মুখিয়ে থাকেন। অবশেষে এই সারদা সংঘের সমস্ত সদস্যা প্রতি আন্তরিক ভাবে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং সবাইকে আশির্বাদ করেন যাতে করে আগামী দিন এই সংঘ আধ্যাতিক দিকদিয়ে সুনামের সাথে কাজ করে উন্নতির উচ্চ শিখরে পৌঁছে যায়। এবং সারা দেশে এর নাম উচ্চারিত হয় সেই আশা ব্যাক্ত করেন তিনি। শেষে প্রথমার্ধের অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।এর পর এই দিন সন্ধ্যায় মুক্তধারা অডিটরিয়ামে বিভিন্ন ধরনের এক সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার আয়োজন করা হয় সংঘের পক্ষ থেকে। পাশাপাশি সেখানে উপস্থিত অনেক সাধু সন্তারা শ্রী শ্রী ঠাকুর রামকৃষ্ণের এবং মা সারদাময়ী মায়ের জীবনি এবং উনাদের বিভিন্ন সামাজিক দর্শন নিয়ে আলোচনা করেন। এবং বিভিন্ন ধরনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ গ্রহণ কারিজের হাতে পুরস্কার তুলে দেন শ্রী সারদা সংঘের কর্নধার তথ্য এই সংঘের সম্পাদীকা শ্রীমতি অনুলা ভট্টাচার্যী।



