Thursday, February 5, 2026
বাড়িখবররাজ্যসংকটের সময়ে মনীষীদের আলোয় পথচলা, নিজ বাড়ির সামনে নেতাজি–রবীন্দ্রনাথ–স্বামী বিবেকানন্দের মূর্তি স্থাপন...

সংকটের সময়ে মনীষীদের আলোয় পথচলা, নিজ বাড়ির সামনে নেতাজি–রবীন্দ্রনাথ–স্বামী বিবেকানন্দের মূর্তি স্থাপন করে দৃষ্টান্ত স্বপন দে–র

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা ৫ ফেব্রুয়ারি : বর্তমান সময়ে যখন দেশ ও বিশ্ব যুদ্ধের আতঙ্ক, সামাজিক অবক্ষয়, নেশার আগ্রাসন এবং হিংসা–সন্ত্রাসের রাজনীতিতে জর্জরিত, ঠিক তখনই রাজধানীর এক প্রান্তে গড়ে উঠলো আশার আলো, আদর্শের দীপশিখা। সমাজকে দিশা দেখাতে, নবপ্রজন্মকে প্রকৃত শিক্ষার পথ চিনিয়ে দিতে এক ব্যতিক্রমী ও অনুপ্রেরণামূলক উদ্যোগ নিলেন প্রতিষ্ঠিত ঠিকাদার স্বপন দে।রাজধানীর ঝুলন্ত ব্রিজ সংলগ্ন টাউন প্রতাপগড় এলাকায় নিজ বাড়ির সামনে তিনি স্থাপন করলেন ভারতের তিন শ্রেষ্ঠ মনীষী, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও স্বামী বিবেকানন্দের মর্মর মূর্তি। এই উদ্যোগ শুধু সৌন্দর্যবর্ধনের নয়, বরং সমাজ ও প্রজন্মকে নৈতিক শিক্ষা দেওয়ার এক নীরব অথচ শক্তিশালী বার্তা। স্বপন দে বলেন, আজকের সমাজ, দেশ ও বিশ্ব যখন নানান সমস্যায় বিপর্যস্ত, তখন এই মনীষীরাই আমাদের প্রকৃত পথপ্রদর্শক। তাঁদের আদর্শই পারে মানুষকে মানুষ করে তুলতে। তিনি আরও জানান, বর্তমান প্রজন্ম শুধু পুথিগত শিক্ষায় ব্যস্ত থাকলে চলবে না। স্বামী বিবেকানন্দের চরিত্রবল, কবিগুরুর মানবতাবোধ এবং নেতাজির আপসহীন সাহস ও দেশপ্রেম, এই শিক্ষাই আজ সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।চরিত্রবান, সাহসী ও আদর্শ মানুষ তৈরি করাই আমার উদ্দেশ্য, বললেন তিনি।বিশেষভাবে যুবসমাজের উদ্দেশে নেশা থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়ে স্বপন দে বলেন, বর্তমান সমাজে নেশা ও হিংসা যুবসমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এই মনীষীদের জীবনদর্শন জানলে, তাঁদের আদর্শ অনুসরণ করলে যুবসমাজ সঠিক পথে ফিরবে। ফাইবার দিয়ে নির্মিত এই তিনটি মূর্তি তৈরি করেছেন ত্রিপুরার বিলোনিয়া এলাকার প্রতিভাবান শিল্পী কৃষ্ণ দেবনাথ। প্রায় তিন লক্ষ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই মূর্তিগুলি আজ শুধু শিল্পকর্ম নয়, বরং আদর্শ ও চেতনার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্বপন দে জানান, প্রতিদিন সকালে এই মূর্তিগুলির দিকে তাকিয়েই তিনি অনুপ্রেরণা পান নিজের জীবন ও কাজকে এই মহামানবদের আদর্শে পরিচালিত করার শক্তি খুঁজে নেন। উল্লেখযোগ্যভাবে, তাঁর বাড়ির বাউন্ডারি ওয়ালে মহাভারতের কিছু খণ্ডচিত্রও অঙ্কিত করেছেন তিনি। ধর্ম, নৈতিকতা, কর্তব্য ও মানবিকতার বার্তা বহনকারী এই চিত্রগুলি যেন প্রাচীন ভারতীয় দর্শনের সঙ্গে বর্তমান সমাজের এক সেতুবন্ধন তৈরি করেছে। রবীন্দ্রনাথের মানবতার বাণী, স্বামী বিবেকানন্দের অগ্নিমন্ত্র “উঠো, জাগো এবং লক্ষ্যে না পৌঁছানো পর্যন্ত থেমো না”, আর নেতাজির বজ্রকণ্ঠ, “তোমরা আমাকে রক্ত দাও, আমি তোমাদের স্বাধীনতা দেব” এই তিন মহামানবের আদর্শকে একত্রে প্রতিষ্ঠা করে স্বপন দে প্রমাণ করলেন, সমাজ পরিবর্তনের জন্য বড় মঞ্চ নয়, প্রয়োজন সৎ চিন্তা ও দৃঢ় মনোবল। এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে সমাজের কাছে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। ব্যক্তিগত উদ্যোগে আদর্শ, মূল্যবোধ ও দেশপ্রেমের এমন প্রকাশ আজকের সময়ে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক ও সাধুবাদযোগ্য।

RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

twenty − eleven =

- Advertisment -spot_img

জনপ্রিয় খবর

সাম্প্রতিক মন্তব্য