বাসুদেব ভট্টাচার্যী খোয়াই ৪ঠা ফেব্রুয়ারি…..বুধবার সন্ধ্যা ৫টা ৩০ মিনিটে খোয়াই চৈত্র মেলার মাঠে বন মন্ত্রীর হাত ধরে উৎভোধন হল তিন দিন ব্যাপী জেলা ভিত্তিক তৃতীয় তম সরস মেলার। উক্ত মেলার উৎভোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের বনমন্ত্রী অনিমেষ দেববর্মা। এছাড়া অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন খোয়াই মহকুমা শাষক নির্মল কুমার ঝা, খোয়াই পুর পরিষদের চেয়ারম্যান দেবাশীষ নাথ শর্মা, অতিরিক্ত জেলাশাসক অভেদানন্দ বৈদ্য, খোয়াই জিলা পরিষদের সদস্য অনুকুল দাস, সমাজ সেবি বিনয় দেববর্মা, পদ্মবিল ব্লকের বি এ সির চেয়ারম্যান প্রশান্ত দেববর্মা। মঞ্চে উপস্থিত অতিথিদের ফুলের তোড়া এবং উত্তরিও পরিয়ে সংবর্ধনা প্রদান করা হয় এবং তাদের হাতে উপহার তুলে দেওয়া হয়।এই সরস মেলায় জেলার বিভিন্ন যায়গা থেকে স সহায়ক দলের দীদিরা নিজেদের হাতে তৈরি বিভিন্ন সামগ্রী গুলি নিয়ে ষ্টল খুলে বসেন। অনুষ্ঠানের মঞ্চে স্ব সহায়ক দলের লাখপতি দিদি শ্রীমতি এলিনা দেববর্মা , এবং শ্রীমতি সোনিলি সিনহা গুপ্তা সহ বেশ কয়েক জন এই সসহায়ক দলে কাজ করে কি ভাবে গত ৫ থেকে ৬ বছরে লাখ পতি দিদি হয়ে নিজেকে আর্থিক ও সামাজিক দিক দিয়ে প্রতিষ্ঠত করত পেরেছেন তা ব্যাক্ষা করেন।বুধবার সন্ধ্যায় উক্ত অনুষ্ঠানে নির্দীষ্ট সময়ে বন মন্ত্রী উপস্থিত হন। পাশাপাশি খোয়াই পুর পরিষদের চেয়ারম্যান ও মহকুমা শাসক উপস্থিত থাকলেও অন্যান্য অতিথিবৃন্দরা তখনও অনুপস্থিত পাশাপাশি দর্শকদের আসনে দর্শক ও শ্রোতাদের উপস্থিতির হার ছিল খুবই নগণ্য।তা দেখে অনেকটাই বিব্রত বোধ করেন মন্ত্রী। উক্ত অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে আয়োজকদের প্রতি কটাক্ষ করে উৎভোধক তথা রাজ্যের বনমন্ত্রী অনিমেষ দেববর্মা প্রথমেই বলেন যে কোনো মেলার দর্শক ও জনগণের উপস্থিতি ছাড়া কোন মেলার শ্রী বৃদ্ধি হয় না। জেলা ভিত্তিক সরস মেলার উদ্বোধন করা হচ্ছে অথচ লোকসমাগম নেই ! শেষে বক্তব্য রাখতে গিয়ে অনিমেষ দেববর্মা স সহয়েক দলের দিদিরা কিভাবে গত ৪-৫ বছরে লাখপতি থেকে কোটিপতি হয়েছে তার ব্যাখ্যা দেন এবং তাদের ভূয়সি প্রশংসা করেন তাদের এই উদ্যোগের কারণে। তিনি এও বলেন তৎকালীন সময়ে সারা রাজ্যে বিভিন্ন সহায়ক দলদের সংখ্যা ছিল প্রায় সাড়ে তিন হাজার। আর ২০১৮ সালের পর ২০২৬ পর্যন্ত সারা রাজ্যে সহায়ক দলের সংখ্যা গিয়ে দাঁড়িয়েছে ৫২ হাজারের ওপর। এর থেকে বোঝা যাচ্ছে রাজ্যের বিভিন্ন সহায়ক দলের দিদিরা তাদের দলের মাধ্যমে কাজ করে যেমন লাভবান হচ্ছেন পাশাপাশি অর্থনৈতিক দিক দিয়ে তারা ব্যাপক হারে স্বাবলম্বী হয়ে উঠেছে। এবং সমাজে একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী হিসেবে বিভিন্ন জায়গায় তাদের নাম প্রকাশিত হয়। সারা দেশের মধ্যে এই ধরনের প্রকল্পের নামের শির্শ তালিকায় রয়েছে কেরালা রাজ্যের দিদিরা। তার পাশাপাশি ত্রিপুরা রাজ্যের মা বোনেরাও কম যায় না। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে আজ অনেকেই লাখপতি এমনকি কোটিপতি ও হয়েছে। এর জন্য কেন্দ্রের বিজেপি সরকার এবং রাজ্য সরকার মিলে এই ধরনের প্রকল্পের প্রতি দৃষ্টি দেওয়ার ফলেই রাজ্যের বিভিন্ন সহায়ক দলের দিদিরা আজ নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে। শুধু তাই না সেই সব সহায়ক দলের উদ্যোগে তৈরি করা বিভিন্ন ধরনের জিনিসপত্র মেলার মাধ্যমে উন্মোচন করার ফলে রাজ্যের মা বোনেরা ব্যাপক ভাবে প্রশংসিত হয়েছে। তাছাড়া তিনি এও বলেন দেশ এবং রাজ্যের উন্নতি করতে গেলে এই ধরনের পদক্ষেপের মাধ্যমে এগিয়ে যেতে হবে। তাতে করে গ্রামীণ অর্থনীতির বুনিয়াদ ব্যাপকভাবে ভাবে বৃদ্ধি পাবে তার পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতি ও চাঙ্গা হবে। এর ফলে সাধারণ মানুষের হাতে টাকা-পয়সার লেনদেন হবে। যা সামাজিক অর্থনৈতিক বুনিয়াদের জন্য খুবই জরুরি একটা বিষয়। তিনি এও বলেন এই ধরনের সহায়ক দলের দিদিদের সরকারের পক্ষ থেকে ব্যাংকের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের ঋণের ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়। তাদেরকে শুধু ঋণ দিলেই হবে না এর পাশাপাশি বিভিন্ন দপ্তরের উদ্যোগে তাদেরকে সঠিকভাবে প্রশিক্ষণও দিতে হবে। যাতে করে ঋণ গ্রহন কারিরা সেই ঝৃণের সঠিক ব্যবহার করে তাদের জীবনের উন্নতি সাধন করতে পারে। এই সব বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন এবং এই ধরনের সরস মেলার কি মান্যতা রয়েছে তার ব্যাখ্যাও করেন বুধবার সন্ধ্যায় সরস মেলার উদ্বোধক তথ্য রাজ্যের বনমন্ত্রী অনিমেষ দেববর্মা। এরপর অনুষ্ঠানের উদ্বোধক সহ সমস্ত অতিথিরা ফিতা কেটে মেলার বিভিন্ন ষ্টল গুলির উৎভোধন করেন এবং বিভিন্ন স্টলের সহায়ক দলের দিদিদের সাথে তাদের তৈরি করা বিভিন্ন জিনিসপত্র গুলির বিষয়ে আলোচনা করেন।



