মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা আজ তাঁর পিতা প্রয়াত মাখন লাল সাহার ২৮তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক রক্তদান শিবিরের উদ্বোধন করেন। ব্যক্তিগত শোককে সামাজিক কর্তব্যে রূপান্তর করার এই মহতী উদ্যোগে মুখ্যমন্ত্রী উপস্থিত থেকে রক্তদাতাদের উৎসাহিত করেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে মুখ্যমন্ত্রী সহ উপস্থিত অতিথিগণ এবং মুখ্যমন্ত্রীর পরিবারবর্গ স্বর্গীয় মাখল লাল সাহার প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান।
পোস্ট অফিস চৌমুহনিস্থিত এম. এল. প্লাজাতে রক্তদান শিবিরের উদ্বোধন করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, মৃত্যুবার্ষিকী, জন্মদিবস, মৃত্যুদিবস ইত্যাদি মানুষের আবেগঘন স্মৃতিকে সম্মান জানাতে রক্তদান উৎসবের আয়োজনের চেয়ে বড় শ্রদ্ধার্ঘ্য আর হতে পারে না। মানুষের জীবন রক্ষার মতো একটি মহৎ উদ্যোগের মাধ্যমে তাঁকে স্মরণ করা অত্যন্ত গর্বের। রক্তদান এক মহান মানবিক দায়িত্ব যা মানুষের প্রাণ বাঁচায়। এই ধরনের উদ্যোগ সমাজে সহমর্মিতা, মানবিকতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধকে আরও দৃঢ় করে। একজন ব্যক্তি তাঁর দান করা রক্তের মাধ্যমে ৪ জন মুমূর্ষু রোগীর প্রাণ বাঁচাতে পারেন। রক্তদানের কোনও বিকল্প নেই। রাজ্য সরকার রাজ্যে রক্তের চাহিদা মেটাতে নানাবিধ উদ্যোগ গ্রহণ করে চলছে। ব্লাড ব্যাংক, রক্ত সঞ্চালন পর্ষদ ইত্যাদির উন্নতিকল্পে আরও প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে রাজ্যের মানুষের মধ্যে রক্তদানে এগিয়ে আসার ইতিবাচক প্রভাবও লক্ষ্য করা যাচ্ছে। মানুষ আজ নিজের বা আত্মীয়স্বজনের জন্মদিন, মৃত্যুবার্ষিকী, মৃত্যুদিবসে রক্তদানের আয়োজন করছে, যা অত্যন্ত প্রশংসনীয়।
মুখ্যমন্ত্রী তাঁর প্রয়াত পিতা মাখন লাল সাহার স্মৃতিচারণ করে বলেন, মাখন লাল সাহা ছিলেন রাজ্যের একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। তৎকালীন সময়ে ব্যবসার সুবাদে বহু মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিয়েছিলেন তিনি। তাঁর আদর্শ ছিল সততা, স্বচ্ছ জীবনযাপন এবং বিপদে মানুষের পাশে দাঁড়ানো। শহরবাসীর বিনোদনের কথা গুরুত্ব দিয়ে তখনকার সময়ে রূপসী সিনেমা হল স্থাপন করেছিলেন। তাঁর ব্যবসার পরিধি রাজ্য পেরিয়ে বহিরাজ্যেও ব্যাপ্তি লাভ করেছিল। আজ তাঁর সেই জীবনাদর্শকে সামনে রেখেই রক্তদানের ন্যায় মানব কল্যাণমূলক কাজের এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যের বর্তমান সরকারও জনগণের কল্যাণে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করে চলছে। রাজ্য আজ সমস্ত ক্ষেত্রে এগিয়ে চলছে। মুখ্যমন্ত্রী এই মহান উদ্যোগকে সফলতার রূপ দেওয়ার জন্য চিকিৎসক কর্মী, স্বেচ্ছাসেবক এবং আয়োজকদের ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন এবং সবাইকে রক্তদানে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন মুখ্যমন্ত্রীর সহোদর রতন সাহা। এছাড়া বক্তব্য রাখেন পুরনিগমের মেয়র তথা বিধায়ক দীপক মজুমদার। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রীর মাতা সূর্যবালা সাহা, কর্পোরেটর রত্না দত্ত, পদ্মশ্রী দীপা কর্মকার, মুখ্যমন্ত্রী জায়া স্বপ্না সাহা, সহোদর তপন সাহা, সহোদর বাবুল সাহা সহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যবৃন্দ।



