আগরতলা পুর নিগমের উদ্যোগে আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি থেকে আগরতলা শহরে যারা বেআইনীভাবে, জবরদখল করে ব্যবসা করছেন তাদের বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযান শুরু করা হবে। এছাড়া বটতলা হাওড়া মার্কেটে যে সকল ব্যবসায়ী আগরতলা পুর নিগমের কাগজ ছাড়া অবৈধভাবে ব্যবসা করছেন তাদেরকে সরে যাবার জন্য আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে। না সরলে আগরতলা পুর নিগম আগামী ৭ ফেব্রুয়ারির পরদিন থেকে হাওড়া মার্কেটে উচ্ছেদ অভিযান শুরু করবে। আগরতলা পুর নিগম হাওড়া মার্কেটকে নতুনভাবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে। গতকাল আগরতলা পুর নিগমের কনফারেন্স হলে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আগরতলা পুর নিগমের মেয়র তথা বিধায়ক দীপক মজুমদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় নিগমের কর্পোরেটরগণ ছাড়াও আগরতলা পুর নিগমের কমিশনার সাজু বাহিদ এ, ট্রাফিক, টাস্ক ফোর্স, পূর্ত দপ্তর, আগরতলা স্মার্ট সিটির আধিকারিকগণ উপস্থিত ছিলেন।
আজ আগরতলা পুর নিগমের কনফারেন্স হলে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে আগরতলা পুর নিগমের মেয়র তথা বিধায়ক দীপক মজুমদার সাংবাদিকদের এই সংবাদ জানান। তিনি বলেন, আগরতলা শহরে দিন দিন জনসংখ্যা বাড়ছে, যানজট বাড়ছে, বড় বড় শপিং মল হয়েছে। আগরতলা পুর নিগম আগরতলা শহরে আগামী ২০ বছরের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হারকে চিন্তা করে শহর সাজানোর পরিকল্পনা নিয়েছে। রাজ্য সরকার আগরতলা, ধর্মনগর ও উদয়পুর শহরকে স্যাটেলাইট শহরে রূপান্তরের উদ্যোগ নিয়েছে। আগরতলার আরেকটি ফ্লাইওভার নির্মাণের জন্য সরকারের চিন্তাভাবনা রয়েছে। পরিকল্পনা রয়েছে শকুন্তলা রোড, রামনগর ৪ নম্বর রাস্তা ও সৎসংঘ আশ্রম সংলগ্ন স্থানে নতুন ৩টি পাম্পসেট স্থাপনের। আগরতলা পুর নিগম আগরতলা শহরকে স্বচ্ছ ও সুন্দর রাখার প্রচেষ্টা নিয়েছে। তিনি বলেন, ভেন্ডিং জোন, পার্কিং জোন ছাড়া ব্যবসা করা ও গাড়ি রাখা হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। যেসকল ভেন্ডারের আগরতলা পুর নিগমের বৈধ লাইসেন্স রয়েছে এবং যাদের ৬ ফুট বাই ৪ ফুট সচল ঠেলাগাড়ি রয়েছে তারা শহরে ব্যবসা করতে পারবেন। রাত ১১টা পর্যন্ত ব্যবসা করতে পারবেন। তিনি বলেন, কভার ড্রেনের উপর যাতে গাড়ি না রাখা হয় তারজন্য আগরতলা পুর নিগম ট্রাফিক দপ্তর যৌথভাবে উদ্যোগ গ্রহণ করবে। কভার ড্রেনের উপর রেষ্টুরেন্ট, ছোট ছোট হোটেল ও খাবারের দোকান সরিয়ে নেওয়া হবে যাতে নাগরিকগণ স্বাচ্ছন্দ্যে চলাফেরা করতে পারেন। তিনি বলেন, মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা আগরতলা শহরকে স্বচ্ছ ও সুন্দর রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। এ লক্ষ্যে মুখ্যমন্ত্রী স্বচ্ছতা পুরস্কার প্রকল্প ঘোষণা করা হয়েছে।
প্রকল্প অনুযায়ী শহরকে স্বচ্ছ ও সুন্দর রাখতে যে সকল ক্লাব ও সামাজিক সংস্থা এগিয়ে আসবে তাদেরকে ১ম পুরস্কার ৩ লক্ষ টাকা, ২য় পুরস্কার ২ লক্ষ টাকা, ৩য় পুরস্কার ১ লক্ষ টাকা ও সান্তনা পুরস্কার ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হবে। আগরতলা পুর নিগমের অধীনে মোট ৫১টি ওয়ার্ড রয়েছে। পানীয়জলের জন্য ইতিমধ্যে মুখ্যমন্ত্রী বিভিন্ন প্ল্যান্ট-এর উদ্বোধন করেছেন। আগরতলা পুর নিগম এলাকায় সর্বত্র পানীয়জল পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, আগরতলা পুর নিগম, আগরতলা স্মার্ট সিটি, পূর্ত, পানীয়জল ও স্বাস্থ্য বিধান প্রভৃতি দপ্তরের উদ্যোগে বর্তমানে আগরতলা পুর নিগম এলাকায় উন্নয়নমূলক অনেক কাজ চলছে। খুব শীঘ্রই এই কাজগুলি সম্পন্ন করা হবে। রাস্তায় কাজ চলাকালীন সময়ে আন্ডার গ্রাউন্ড ক্যাবল সুরক্ষিত রাখার ব্যবস্থা করা হবে। তিনি বলেন, রাজ্য সরকারের অনুমোদন ছাড়া কোথাও বিজ্ঞাপন লাগানো যাবেনা। সরকারি অফিস, সরকারি ভবন ও লাইট পোস্ট-এ বিজ্ঞাপন লাগালে আগরতলা পুর নিগম ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। সাংবাদিক সম্মেলনে আগরতলা পুর নিগমের ডেপুটি মিউনিসিপাল কমিশনার সুব্রত ভট্টাচার্য উপস্থিত ছিলেন।



