আজ ব্যুরো অফ এনার্জি এফিসিয়েন্সি (BEE) এবং ত্রিপুরা স্টেট ইলেকট্রিসিটি কর্পোরেশন লিমিটেড (TSECL)-এর যৌথ উদ্যোগে রাজ্যের আশা ফ্যাসিলিটেটরদের ই-সাইকেল বিতরণ কর্মসূচির সূচনা করেন বিদ্যুৎ মন্ত্রী রতনলাল নাথ। আগরতলার টিএসইসিএল কর্পোরেট অফিসে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রথম দফায় পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার ৩০ জন আশা ফ্যাসিলিটেটরের হাতে ই-সাইকেল তুলে দেওয়া হয়। এই প্রকল্পের আওতায় পর্যায়ক্রমে অন্যান্য মহকুমার আরও ৭০ জন আশা ফ্যাসিলিটেটরকে ই-সাইকেল প্রদান করা হবে। এর ফলে সর্বমোট ১০০ জন আশা ফ্যাসিলিটেটর এই সুবিধার আওতায় আসবেন। সমগ্র প্রকল্পে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৬ কোটি ৯৯ লক্ষ টাকা।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বিদ্যুৎ, কৃষি ও অন্যান্য দপ্তরের মন্ত্রী রতন লাল নাথ তাঁর বক্তব্যে আশা ফ্যাসিলিটেটরদের ‘হেলথ ওয়ারিয়র’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, গর্ভবতী মায়েদের দেখভাল থেকে শুরু করে শিশুর সঠিক বেড়ে ওঠা পর্যন্ত তাঁরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। পাশাপাশি গ্রাম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে ব্লাড প্রেসার, ডায়াবেটিস, যক্ষ্মা, ম্যালেরিয়া-সহ বিভিন্ন সংক্রামক রোগ চিহ্নিতকরণ ও প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরিষেবা প্রদানে তাঁদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই ই-সাইকেল তাঁদের দৈনন্দিন কাজকে আরও সহজ, দ্রুত ও নিরাপদ করবে। তিনি বলেন, এই ই-সাইকেলগুলিতে আধুনিক বৈদ্যুতিক মোটর ও রিচার্জযোগ্য ব্যাটারি সংযুক্ত রয়েছে, যা অল্প খরচে চার্জ করা যায় এবং একবার চার্জে প্রায় ৫০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে সক্ষম। সর্বোচ্চ গতি ২৫ কিলোমিটার হওয়ায় এটি নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব। এর ফলে আশা ফ্যাসিলিটেটরদের যাতায়াতের সময় কমবে, কাজের গতি বাড়বে, পাশাপাশি শারীরিক সুস্থতা ও মানসিক প্রশান্তি বজায় থাকবে। বিদ্যুৎ দপ্তরের অগ্রগতির প্রসঙ্গে বিদ্যুৎ মন্ত্রী বলেন, রাজ্যে আগরতলা থেকে চোরাইবাড়ি পর্যন্ত ২৭১ কিলোমিটার ব্রডগেজ রেলপথে বিদ্যুৎ সংযোগ সম্পন্ন হয়েছে। যার ফলে ভবিষ্যতে দ্রুতগতির এক্সপ্রেস ট্রেন চলাচলের সম্ভাবনা উজ্জ্বল হয়েছে। আগামী প্রজন্ম বিদ্যুৎনির্ভর প্রযুক্তির উপর আরও বেশি নির্ভরশীল হবে বলে উল্লেখ করে তিনি নবায়নযোগ্য শক্তি ও বৈদ্যুতিক যানবাহনের ব্যবহারের উপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী সূর্য ঘর যোজনার আওতায় রাজ্যে ইতিমধ্যে ৭৪০ জন গ্রাহক সুবিধা গ্রহণ করেছেন এবং এই প্রকল্পে বিভিন্ন ব্যাংকের মাধ্যমে ঋণ সহায়তাও প্রদান করা হচ্ছে। অদূর ভবিষ্যতে অত্যাধুনিক ড্রোন প্রযুক্তির মাধ্যমে বিদ্যুৎ ব্যবস্থার রক্ষণাবেক্ষণ ও ত্রুটি নির্ণয়ের কাজ শুরু হবে বলেও তিনি জানান। এদিন বিদ্যুৎ মন্ত্রী চম্পকনগর পিএসসি-এর হানুপা বেগম ও বিশুরানী দেববর্মা এবং কাতলামারা পিএসসি-এর সুমোশিল ও নন্দিতা দেবনাথের হাতে প্রতীকীভাবে ই-সাইকেলের চাবি তুলে দেন।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন টিএসইসিএল (ফিন্যান্স)-এর জেনারেল ম্যানেজার গৌতম মুখোপাধ্যায়। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন টিইআরসি মেম্বার পুষ্পিতা চক্রবর্তী, ন্যাশনাল হেলথ মিশনের মেম্বার সেক্রেটারি সৌভিক দেববর্মা, ত্রিপুরা বিদ্যুৎ উন্নয়ন নিগমের সচিব অভিষেক সিং। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন টিপিজিএল (টেকনিক্যাল)-এর জেনারেল ম্যানেজার মনোজ কুমার দেববর্মা। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দপ্তরের আধিকারিক, আশা ফ্যাসিলিটেটর ও কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।



