আমাদের দেশ ভারত ধান উৎপাদনে বর্তমানে পৃথিবীর মধ্যে শীর্ষস্থানে রয়েছে। এটা সম্ভব হয়েছে আমাদের দেশের কৃষকদের জন্য। সম্ভব হয়েছে আমাদের দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জন্য। আজ উত্তর ত্রিপুরা জেলার ধর্মনগরে রাজ্যের কৃষকদের কাছ থেকে ন্যূনতম সহায়কমূল্যে ধান ক্রয় প্রক্রিয়ার আনুষ্ঠানিক সূচনা করে এই কথাগুলি বলেন রাজ্যের খাদ্য, পরিবহণ ও পর্যটনমন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী। ধর্মনগরের বিবেকানন্দ সার্ধশতবার্ষিকী ভবনে খাদ্য দপ্তর, কৃষি ও কৃষক কল্যাণ দপ্তরের যৌথ উদ্যোগে রাজ্যভিত্তিক এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে খাদ্যমন্ত্রী আরও বলেন, কৃষকরা আমাদের অর্থনীতির মেরুদন্ড। প্রধানমন্ত্রী কৃষকদের দেশের অন্নদাতা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। দেশের জি.ডি.পি. আজ উর্ধ্বমুখী। এর পেছনে কৃষকদের বড় ভূমিকা রয়েছে। আমাদের দেশের অর্থনীতি মূলত কৃষি নির্ভর। কৃষকদের হাতে অর্থ পৌঁছালেই গ্রামীণ অর্থনীতি মজবুত হবে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর থেকে কৃষকদের উৎসাহ বেড়েছে। ত্রিপুরাতেও ২০১৮ সালের আগে সরকারিভাবে ধান ক্রয় করার কোনও উদ্যোগ ছিল না। আগের সরকার সেই উদ্যোগ নেয়নি। বর্তমান সরকার ২০১৮ সালে প্রথম প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর থেকেই ধান ক্রয় প্রক্রিয়া শুরু হয়। এখন পর্যন্ত ২ লক্ষ ৪৪ হাজার ৩০৩ মেট্রিকটন ধান কৃষকদের থেকে ক্রয় করা হয়েছে। কৃষকদের হাতে ৪৮৯ কোটি টাকা প্রদান করা হয়েছে। এবছর কৃষকদের কাছ থেকে ১৮ হাজার মেট্রিকটন ধান কেনা হবে।
এদিনের অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিধায়ক যাদবলাল দেবনাথ বলেন, কৃষি ও কৃষক কল্যাণ দপ্তরের আন্তরিক প্রয়াসে কৃষকদের ফলন আগের চেয়ে বৃদ্ধি পেয়েছে। এদিনের অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে খাদ্য দপ্তরের বিশেষ সচিব দেবপ্রিয় বর্ধন বলেন, বর্তমানে ধানের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য আগের চেয়ে বাড়ানো হয়েছে। ধানের মূল্যও সরাসরি কৃষকদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে দেওয়া হচ্ছে। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন জেলাশাসক চাঁদনী চন্দ্রন। ধন্যবাদসূচক বক্তব্য রাখেন উত্তর ত্রিপুরা জিলা পরিষদের সভাধিপতি অপর্ণা নাথ। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিধায়ক শৈলেন্দ্র চন্দ্র নাথ, সমাজসেবী কাজল কুমার দাস, খাদ্য দপ্তরের অধিকর্তা সুমিত লোধ, কৃষি মার্কেটিং অধিকর্তা মানিকলাল দেববর্মা প্রমুখ। অনুষ্ঠানে এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ধর্মনগরের মহকুমা শাসক দেবযানী চৌধুরী, কৃষি দপ্তরের ও খাদ্য দপ্তরের আধিকারিকগণ। অনুষ্ঠানে উত্তর ত্রিপুরা জেলার কৃষকরা উপস্থিত ছিলেন। প্রত্যেক কৃষককে অনুষ্ঠানে গামছা দিয়ে বরণ করা হয়। কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ পরিলক্ষিত হয়। আজ আনুষ্ঠানিকভাবে ৭ জন কৃষকের কাছ থেকে ধান ক্রয় করা হয়।



