গোপেশ রায়, কৃষ্ণপুর, তেলিয়ামুড়া
পৌষের শেষ প্রান্তে সংক্রান্তির আগমনী বার্তা নিয়ে কৃষ্ণপুরের বালুছরায় ধানের ক্ষেতে ফুটে উঠেছে এক অনন্য দৃশ্য। শীতের কোমল পরশে মোড়ানো এই ঋতুতে, প্রদীপ শীলের ধানের জমিতে গড়ে উঠেছে এক অভিনব আলন্তির ঘর আর তারই চারপাশে মেতে উঠেছে গ্রামের কচিকাঁচারা।
এই আলন্তির ঘরটি কোনো বড়দের তৈরি নয়, বরং দশ বছরের নিচে থাকা শুভ্রদীপ, উর্মিলা, আয়ুষ্মিতা, অনীষা ও তাদের বন্ধুরা নিজের হাতে গড়ে তুলেছে এটি। নারা, বাস, খড়কুটো সংগ্রহ করে প্রায় এক সপ্তাহ ধরে তারা তৈরি করেছে এই ঘরটি। যদিও এখনো উপরের চাল বসেনি, তবুও তাদের উচ্ছ্বাসে কোনো ঘাটতি নেই। রাতভর চলবে পিকনিক, গান, নাচ আর গল্পের আসর। পরদিন সকালে স্নান সেরে সেই ঘরেই আগুন জ্বালিয়ে তারা পুড়িয়ে ফেলবে পুরনো বছরের ক্লান্তি আর দুঃখ। নতুন সূর্যকে আহ্বান জানাবে নতুন আশায়, নতুন স্বপ্নে।
এই ঘর শুধু একটি কাঠামো নয় এটি এক আবেগ, এক ঐতিহ্যের প্রতীক। শিশুদের চোখে আনন্দের ঝিলিক, মুখে ভবিষ্যতের স্বপ্ন। তারা সংবাদ প্রতিনিধিকে নিমন্ত্রণ জানিয়ে বলেছে, কাকু, আপনি আসবেন তো আমাদের পিকনিকে? আমাদের সঙ্গে রাতের হাওয়া খাবেন? এই নির্মল আনন্দ, ঐতিহ্যের প্রতি ভালোবাসা আর একসাথে থাকার চিত্রই যেন গ্রামবাংলার প্রকৃত সৌন্দর্য। আলন্তির ঘরের আলোয় আলোকিত হোক কৃষ্ণপুরের প্রতিটি হৃদয়।



