বাসুদেব ভট্টাচার্যী খোয়াই ২১শে আগষ্ট….আশীর্বাদ মাইক্রোফাইন্যান্স লিমিটেড খোয়াই শাখার এক গ্রাহককে বিগত দুই বছর ধরে বিমার টাকা না দেওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ তুলল।রাজ্যে একটা সময়ে ব্যাঙের ছাতার মত চিটফান্ড কোম্পানি জাঁকিয়ে বসেছিল গোটা রাজ্যে। গোটা রাজ্যের জনগণের কষ্টের টাকা লুট করে পালিয়ে ছিল চিটফান্ড কোম্পানিগুলি। তেমনি ভাবে বর্তমান সময়েও রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে আশীর্বাদ মাইক্রো ফাইনান্স লিমিটেড এর মতো মাইক্রো ফাইনান্স কোম্পানিগুলি জাঁকিয়ে বসেছে আনাচে কানাচে। নিয়ম নীতির কোন বালাই নেই। কোম্পানিগুলির লেনদেন সংক্রান্ত বিষয় কোন ধরনের নিয়ম-শৃঙ্খলা নেই। সাধারণ গ্রাহকদের লোনের প্রলোভন দেখিয়ে লুটের বাণিজ্য চালাচ্ছেন তারা। এমন একটি প্রতারণার ঘটনার অভিযোগ আশীর্বাদ মাইক্রো ফাইন্যান্স লিমিটেড খোয়াই শাখার বিরুদ্ধে প্রকাশ পেল। ঘটনার বিবরণ দিয়ে প্রতারিত খোয়াই শাখার গ্রাহক মৃত গীতা রাউতের ছেলে কিরণ রাউত জানান বিগত দুই বছর ধরে প্রতারিত হয়ে আসছে আশীর্বাদ মাইক্রো ফাইন্যান্স খোয়াই শাখার পক্ষ থেকে। মূলত আশীর্বাদ মাইক্রো ফাইন্যান্স গ্রাহকদের পলিসি লোন দেওয়ার সময় বলা হয় যদি পলিসি চলাকালীন সময় গ্রাহক মারা যায় তাহলে বিমা বাবদ ৬০ হাজার টাকা দেওয়া হবে। এই অনুযায়ী তারা এইচ ডি এফ সি বীমা সংস্থা থেকে বীমা করানো হয়েছিল।যথারীতি গ্রাহক গীতা রাউৎ এবং উনার স্বামী প্রায় দুই মাস ব্যবধানে মারা যান এর পরবর্তীতে গ্রাহকের ডেথ সার্টিফিকেট এবং নমিনির ডেথ সার্টিফিকেট খোয়াই শাখাতে জমা দেওয়া হয়। পরবর্তীতে গীতা রাউৎ এবং টিঙ্কু রাউতের একমাত্র উত্তরাধিকার কিরণ রাউত এর ওয়ারিশ সার্টিফিকেটও আশীর্বাদ মাইক্রো ফাইন্যান্স খোয়াই অফিসে জমা দেন। আজ টাকা ঢুকবে কাল টাকা ঢুকবে এই বলে বিগত প্রায় আড়াই বছর ধরে এই ধরনের কথা বলে প্রতারিত করে আসছেন খোয়াই আশীর্বাদ মাইক্রো ফাইন্যান্স। সব থেকে লক্ষ্যণীয় বিষয় হলো গীতা রাউৎ মারা যাওয়ার পরও ওনার ডেট সার্টিফিকেট বের করার আগ পর্যন্ত খোয়াই আশীর্বাদ মাইক্রো ফাইন্যান্স কিস্তির টাকা নিয়েছেন। কিন্তু সেই কিস্তির টাকাগুলিও ফেরত দেয়নি। এটা নাকি নিয়ম ডেট সার্টিফিকেট অফিসে না জমা দেওয়া পর্যন্ত কিস্তির টাকা চালাতে হবে। এই গোটা বিষয়টি বৃহস্পতিবার দুপুরে আশীর্বাদ মাইক্রো ফাইন্যান্সের মৃত গ্রাহকের একমাত্র উত্তরাধিকার কিরণ রাউত সাংবাদিকদের ক্যামেরার সামনে বলেন। গোটা বিষয়টি সরকারি ফাইনান্স দপ্তর যদি সঠিকভাবে পর্যবেক্ষণ না করেন এমন ভাবে আগামী দিনও গ্রাহকদের প্রতারণা করবে বলে শুভ বুদ্ধি সম্পন্ন জনগণের অভিমত। অন্যদিকে আশীর্বাদ মাইক্রো ফাইন্যান্স লিমিটেড এর ভারপ্রাপ্ত ম্যানেজার তপন ঘোষ গ্রাহকের দাবিকে উড়িয়ে দিয়ে তার ন্যায্য দাবিকে মান্যতা দিতে রাজি হচ্ছেন না। তিনি বারবার একটা কথা বলছেন এই বিষয়ে তিনি জানেন না। সমস্ত বিষয়টি জানতেন উনার আগের যে অফিসার উনার টেবিলে বসত তিনি। অথচ এই টেবিলে যারা বসবে সমস্ত গ্রাহকদের দায়িত্ব সেই অফিসারের কাঁধে নেস্ত থাকে। কিন্তু এই ব্রাঞ্চের ম্যানেজার তপন ঘোষ সেই দায়িত্ব থেকে নিজেকে হারিয়ে নিতে বিভিন্ন ধরনের তালবাহানা করতে দেখা গেছে। শুধু তাই নয় এই বিষয়টি মাইক্রো ফাইন্যান্স কোম্পানির টপ টু বটম সমস্ত অফিসাররাই এই ঘটনাটার বিষয়ে অবগত রয়েছে বলেও তাদের পক্ষ থেকে জানা যায়। এরপরও এই কোম্পানি সেই গ্রাহকের টাকা বের করে দিতে পারছে না। আশীর্বাদ মাইক্রো ফাইন্যান্স লিমিটেডের ব্রাঞ্চ ম্যানেজারের কথায় মনে হচ্ছে সর্ষের মধ্যেই ভূত। তার থেকে বোঝা যাচ্ছে গ্রাহক আর টাকা পাবে না। কারণ ম্যানেজার সঠিকভাবে গ্রাহককে আশ্বস্ত করতে পারেনি আদৌকি সে টাকা পাবে কিনা সেই প্রশ্নটাই উঠছে।