জুয়েল রানা প্রতিনিধি বক্সনগর:- প্রত্যেক বছরের ন্যায় এ বছরও জাঁকজমকপূর্ণভাবে সোমবার পালিত হলো মেলাঘরের ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রা উৎসব।রাজ্যের ঐতিহ্যবাহী কয়েকটি রথযাত্রার মধ্যে অন্যতম মেলাঘরের জগন্নাথ মন্দিরের রথযাত্রা।সোমবার বিকাল ৫ ঘটিকায় তথ্য সংস্কৃতি দপ্তর এবং মেলাঘর পুর পরিষদের যৌথ উদ্যোগে ৯ দিনব্যাপী রথ যাত্রার উদ্বোধন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।এই রথযাত্রা উৎসবের শুভ উদ্বোধন করেন রাজ্যের মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী ডাক্তার মানিক সাহা।প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ত্রিপুরা বিধানসভার মাননীয় বিধায়ক কিশোর বর্মন।এছাড়া সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিপাহীজলা জেলা পরিষদের সভাধিপতি সুপ্রিয়া দাস দত্ত,বিশিষ্ট সমাজসেবী দেবব্রত ভট্টাচার্য্য,এমডিসি পদ্মলোচন ত্রিপুরা, জেলাশাসক ও পুলিশ সুপার সহ আরো অন্যান্য অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।প্রথমে মঞ্চে অতিথিদের পুষ্প ও উত্তরী দিয়ে বরণ করে নেন।তারপর প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মধ্যে দিয়ে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী ডাক্তারের মানিক সাহা।উদ্বোধন সংগীতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানকে সাংস্কৃতিক আঙিনায় নিয়ে যায় মেলাঘরের স্থানীয় সঙ্গীত শিল্পীরা।তারপর স্বাগত ভাষণ রাখেন জেলা শাসক বিশাল কুমার।জেলাশাসক স্বাগত ভাষণ রাখতে গিয়ে মঞ্চে অতিথি এবং জগন্নাথ দেবের ভক্তবৃন্দদের স্বাগত জানান। নয় দিনব্যাপী এই উৎসবের দিনগুলি খুব সুশৃংখলভাবে রাজ্যের কৃষ্টিসংস্কৃতিকে ধরে রেখে অতিবাহিত করার আহ্বান রাখেন।বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ডাক্তার মানিক সাহা বলেন,ভারতবর্ষে রথ যাত্রার মাধ্যমে জাতি উপজাতি সকল সম্প্রদায়ের মধ্যে শান্তি সম্প্রীতি বৃদ্ধি পেয়েছে।পূর্বে নাস্তিকের যুগে এই ধরনের ধর্মীয় উৎসব পালনে বাধা বিঘ্ন সৃষ্টি করা হতো। বর্তমানে আস্তিকের আমল আশায় সকল ধরনের ধর্মীয় উৎসব পালনে বৃদ্ধি পেয়েছে।এতে জাতি উপজাতি সকল সম্প্রদায়ের মধ্যে শান্তি সম্প্রীতি এবং ঐক্য বা মিল মহব্বৎ বেড়েছে।ত্রিপুরায় কৃষ্টি সংস্কৃতি ভরপুর।সকলের মধ্যে ভগবান বিদ্যমান।তাই সমাজের ভালো কাজ করে সমাজকে আরো এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।আগামী একুশে জুন যোগা দিবস। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই যোগা দিবসকে সারা বিশ্বে সম্প্রসারিত করার জন্য চেষ্টা করলে কিছু কিছু মুসলিম রাষ্ট্র যোগা দিবসের বিপরীত ব্যাখ্যা দিয়ে মানতে চাইছিলেন না।কিন্তু তা পরে যোগা দিবসের যুক্তিযুক্ততা দেখে মানতে বাধ্য হয়েছে। এই রথযাত্রা উৎসবে আগামী একুশে জুন যোগা দিবস কে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করার আহ্বান রাখেন। এছাড়া ত্রিপুরাকে নেশা মুক্ত ত্রিপুরা গড়ার জন্য উত্তর ত্রিপুরায় বিভিন্ন প্রয়াস করে নেশা মুক্ত ত্রিপুরা গড়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।সবশেষে রথযাত্রা উৎসবের ভাষনে এক ত্রিপুরা শ্রেষ্ঠ ত্রিপুরা গঠন করার জন্য সকলের সহযোগিতা কামনা করেন। এছাড়া বিধায়ক কিশোর বর্মন, সভাধিপতি সুপ্রিয়া দাস দত্ত এবং মেলাঘর পুর পরিষদের চেয়ারম্যান অনামিকা দাস বক্তব্য রাখেন। তারপর মুখ্যমন্ত্রী জগন্নাথ দেবের মন্দিরে গিয়ে ভক্তি করেন এবং নবনির্মিত মন্দির পরিদর্শন করেন।মেলায় বিভিন্ন স্থান থেকে আসা দোকানিরা পসরা সাজিয়ে বসেছেন।গোটা মেলা প্রাঙ্গন অন্যান্য অতিথিরা পরিদর্শন করে দেখেন।



