লেম্বু ছড়ার বাসিন্দা সজল নম: বিয়ের পর অবৈধ সম্পর্ক গড়ে তুলেছিল তার শ্যালিকার সাথে। একদিকে সে স্ত্রীর সাথে সংসার করা গেছে। অপরদিকে গত ১৮ বছর ধরে শ্যালিকার সাথে অবৈধ সম্পর্ক চালিয়ে গেছে। বিবাহিত সজলের দুই সন্তান। জানা গেছে, বিয়ের পর থেকে সজল তার শ্বশুরবাড়ির ভরণপোষণের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছিল। আর এই সুযোগ নিয়ে সে নিয়মিত শ্বশুরবাড়িতে যেত। যেহেতু শ্বশুরবাড়ির সমস্ত আর্থিক খরচ সে বহন করত তাই তার প্রতি দুর্বল ছিল শ্যালিকাও। এই সুযোগেই সজল পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ে শ্যালিকার সাথে। ছোট বোনের সাথে তার নিজের স্বামীর অবৈধ সম্পর্ক রয়েছে সেই বিষয়টি বুঝতে পারেনি সজলের স্ত্রী। এর মধ্যেই সজলের শ্বশুরবাড়ির অভিভাবকরা ছোট মেয়ের বিয়ে দেওয়ার জন্য ব্যস্ত হয়ে ওঠে। আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে রবীন্দ্রনগর এলাকার মন্টু দের সাথে বিয়ে ঠিক হয় সজলের শ্যালিকার। চলতি সপ্তাহের সোমবার বিয়ের অনুষ্ঠান হয়। এই বিয়েতে কন্যা দানও করেন সজল নম:। এমনকি বিয়ের সমস্ত খরচপাতি এবং কনের গায়ের গয়নাও দিয়েছে সজল। কিন্তু মন থেকে সে শ্যালিকার বিয়ে কিছুতেই মেনে নিতে পারছিল না। শ্যালিকার সমস্ত ধরনের খেয়াল রাখত সে। এমনকি শ্যালিকার আবদারে সে তাকে একটি এন্ড্রয়েড মোবাইল উপহার দিয়েছিল। জানা গেছে এই এন্ড্রয়েড মোবাইলে সজল এবং শ্যালিকার কিছু আপত্তিজনক ছবি ও ভিডিও লোড করা রয়েছে। মোবাইল নিয়ে বুধবার রাতে ফোনে শ্যালিকার সাথে সজলের কিছু টক-ঝাল কথাবার্তা হয়। সে তার মোবাইলটি ফেরত চায় শ্যালিকার কাছে। এক সময় এই মোবাইল নিয়ে বিতর্ক বাড়তে থাকায় শ্যালিকা জানিয়ে দেয় বৌভাতের দিন সে তার মায়ের কাছে মোবাইলটি দিয়ে দেবে। কিন্তু সজলের সেটা সহ্য হয়নি। সে চতুর্থমঙ্গলের সকালে বড় ছেলেকে নিয়ে চলে আসে শ্যালিকার শ্বশুরবাড়িতে। এখানে শ্যালিকার সাথে ব্যক্তিগত কিছু কথাবার্তা আছে বলে সে অন্যান্য লোকদের সামনে থেকে সরিয়ে দেয়। শ্যালিকার অভিযোগ অনুযায়ী এরপরে সজল পকেট থেকে ব্লেড বার করে তার হাতে এবং পায়ের ক্রমাগত আঘাত করতে থাকে। তার চিৎকারে ছুটে আসে বাড়ির অন্যান্য লোকজন। প্রায় ৭০ থেকে ৮০ জন ঘটনাস্থলে এসে শ্যালিকা ও জামাইবাবুর অবৈধ সম্পর্কের কথা জানতে পেরে দু’জনকেই বেধড়ক মারধর করে। গুরুতরভাবে আহত হয় সজল নম:। দুজনকেই আগরতলা পূর্ব মহিলা থানার পুলিশের হাতে তুলে দেয় মন্টু দের বাড়ির লোকজনেরা। তারা পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে, নববধূকে তারা আর ঘরে স্থান দেবে না। শ্যালিকার অভিযোগ, মারধোর করার পর তার সমস্ত স্বর্ণ অলংকার এবং তার বোন জামাইয়ের গলার চেইন হাতের ব্রেসলেট এবং বাইক সহ নগদ কুড়ি হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে গেছে তার শ্বশুরবাড়ির লোকজন। বিষয়টি জানিয়ে সে আগরতলা মহিলা থানায় মৌখিক অভিযোগ জানিয়েছে। তবে এই ঘটনায় বোনজামাই সজল নম:’র বিরুদ্ধে তার কোনো অভিযোগ নেই। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে নিতে চায় সে। শ্যালিকার দাবি তার নিজের বাবা মা প্রচন্ড অসুস্থ এবং বড় বোন সাধাসিধা। বোনজামাই আইনের আওতায় চলে গেলে তাদের সবার জীবনে নেমে আসবে অন্ধকার। এক্ষেত্রে তার একটাই দাবি পুলিশ যাতে তার বোন জামাই এর বিরুদ্ধে কোন ধরনের আইনানুগ ব্যবস্থা না নেয়।



